নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গড়ে উঠা কলেজ ছাত্রী বান্ধবীকে সহযোগিতা করতে গিয়েই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারায় সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র।

ডিবির অভিযানে গ্রেফতার শুভ্র হত্যার সাথে জড়িত ৪ ছিনতাইকারীর মধ্যে ২ জনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন শুভ্র হত্যায় জড়িত ২ ছিনতাইকারী রবিন ও জুয়েল।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ডিবির এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: মফিজুল ইসলাম পিপিএম নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘রাঙামাটি জেলার বাসিন্দা ঢাকা কমার্স কলেজের দ্বদশ শ্রেণীর ছাত্রী প্রমিথিসার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল শুভ্রর। সেই বান্ধবী গ্রামের বাড়ি থেকে বাসে গত ৮ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে মিরপুর এসে পৌঁছার কথা ছিল। মেয়ে মানুষ হওয়ার কারনে তাই ভোর রাতে বান্ধবীকে সহযোগিতা করতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে মিরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি গাড়ীতে উঠেছিল শুভ্র। কিন্তু পথিমধ্যে সইে সিএনজিতে থাকা ছিনতাইকারী চক্র শুভ্র কাছে থাকা মুঠোফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে রেখে তাকে হাত-পা বেঁধে ফতুল্লাস্থ ভূইগড় এলাকায় রাস্তার পাশে ডোবায় ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।’

এদিকে, শুভ্র হত্যাকান্ডের ঘটনায় হত্যার ৪ দিনের মাথায় ডিবি পুলিশ ঘটনায় জড়িত ৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেন। ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত সিএনজি, ২টি চাকু ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা গোয়েন্দা শাখা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির এসআই মো: মফিজুল ইসলাম পিপিএম জানান, ‘পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে শুভ্র হত্যা মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হলে শুভ্রর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ট্র্যাকিং করে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার শনি আখড়া এলাকা থেকে ৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

এরা হলেন, আল আমিন (২৬), জুয়েল (২৪), অমিত (২২) ও জালাল (২৮)। পরে এদিন বিকেলে তাদের আদালতে প্রেরণ করলে তন্মধ্যে দুইজনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টায় সরকারি তোলারাম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র নিখোঁজ হন। এর ২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ফতুল্লা থানাধীন ভুঁইগড় এলাকায় অজ্ঞাত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। তারপর ১০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা সেই লাশের জুতা শার্ট ও আনুসাঙ্গিক শুভ্রকে সনাক্ত করে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here