নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী, উভয়েই হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী দুই জনপ্রতিনিধি ও নেতা।
যারা উভয়েই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ¯েœহধন্য এবং আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপি তথা শীর্ষ নেতাদের সাথে উভয়েরই রয়েছে সুসম্পর্ক। ফলে শামীম ওসমান কিংবা আইভী, উভয়ের যেকোন আবদার বা দাবী সরকার কিংবা দলে, সর্বক্ষেত্রেই দেয়া হয়ে থাকে প্রাধান্য।

তাই তো, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন সংসদীয় ৫টি আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থী দাবীতে সরব শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশপাশি এখন শামীম ওসমান ও আইভী বলয়ে ভীড়ে নিজেদের ভীত মজবুত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

তবে শুরু থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি পক্ষকে আইভী বলয়ে ভীড়তে দেখা গেলেও সম্প্রতি দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে এনে দেয়ার দাবী করে শামীম ওসমান বক্তব্য দেয়ার পর থেকেই এখন শামীম ওসমান বলয়েও ভীড়তে শুরু করেছেন সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশীরা।

আর এটিকে শামীম আইভীর নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট গড়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে শামীম ওসমান ও আইভীর গ্রহণযোগ্যতা সর্ব মহলেই অন্যানদের তুলনায় একটু বেশী। তাই আগামীতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে জোড়ালো সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শামীম ওসমান ও আইভী বলয়ের জোট গঠন অস্বাভাবিক কিছুই হবেনা।

কারন, প্রভাবশালী হিসেবে উভয়েরই কোন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে এনে দেয়ার যেমন ক্ষমতা রয়েছে, তেমনি সেই প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে উভয়েই ভূমিকাও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। সেই ভেবে হয়তো শামীম ওসমান ও আইভীর নেতৃত্বে নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট গঠনের প্রয়াস চালাচ্ছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলে দাবী করেন, আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৫টি আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে সমর্থণ পাওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই আইভীর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করা আহ্বায়ক এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া।

এছাড়াও উক্ত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আইভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান, শহর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহাম্মদ রেজা উজ্জল।

আর শামীম ওসমানের বলয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে খোদ শামীম ওসমানই আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও উক্ত আসনে আইভী বলয়ের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ কাউসার আহম্মেদ পলাশ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য কামাল মৃধা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ‘নৌকার’ প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের পক্ষে ইতিমধ্যেই আইভী স্থানীয় জনগণের কাছে ভোট প্রার্থণা করলেও উক্ত আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন শামীম ওসমান বলয়ের প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা: জাফর চৌধুরী বীরু।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু শামীম ওসমানের সাথে বিদ্যমান মামা-ভাগ্নের সম্পর্কে অতীতে কিছুটা চির ধরালেও বর্তমানে আবার সেই মামা শামীম ওসমানের বলয়ে ভীগে করছেন তার জয়গাণ।

আর উক্ত আসন থেকে আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিষ্টার ইকবাল পারভেজ গড়েছেন আইভীর সাথে সখ্যতা।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম দস্তগীর হাজী বীর প্রতিক আইভীর বলয়ে থাকলেও এখানে শামীম ওসমান বলয়ের প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সম্ভাব্য ‘নৌকা’ প্রত্যাশী কায়েতপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রফিকুল ইসলাম ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান।

আর শামীম ওসমান ও আইভী, উভয়ের সাথেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ শুক্কুর মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত।

তন্মধ্যে, আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা গত বছরের মে মাসে যুব মহিলালীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বন্ধু শামীম ওসমানের সাথে সম্পর্কের চির ধরালেও চলতি বছরের জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের পূর্বে সেই চিরে আবারো জোড়া লাগান শামীম ওসমান। বন্ধু খোকন সাহার গলায় ধরে সম্পর্কের উন্নয়ণ ঘটান।

তবে যতই জোট গড়া হউক না কেন, শামীম ওসমান ও আইভী, কোন বলয়ের সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষতক ‘নৌকার’ টিকেট পেয়ে নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকার সুযোগ পান, তা দেখতে আগামী নভেম্বর মাস অবধি অপেক্ষায় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর তখনই প্রমাণিত হবে, আসলেই নির্বাচনী জোট গঠনে প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কে বেশী ছিলেন প্রভাবশালী- আইভী নাকি শামীম ওসমান?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here