নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের তরুন ব্যবসায়ী ও বক্তাবলী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল ইসলামের নৃশংস হত্যাকান্ডের এবং চর বক্তাবলী গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার মনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে পৃথক দু’টি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনের সামনে বক্তাবলী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ২০১৫ সালের ৩আগষ্ট তরুন ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের ২ বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এই হত্যাকান্ডের মূল হোতা আব্দুল মান্নান ওরফে শাহাদাৎ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে একাধিক প্রভাবশালী ব্যাক্তির ছত্রছায়ায় মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে মামলাটি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র¿ করছে। এখনও খুনিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। নিহত নূরুল ইসলামের পরিবার এই হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার পাচ্ছে না।

তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা: সাবিনা আক্তার বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৫ আগষ্ট ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১৫। মামলা দায়েরের পর মামলাটি তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) তে হস্তান্তর করা হয়। তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদউদ্দিন সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বক্ষনিক তত্বাবধানে ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি শুরু করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার মূলহোতা সুরুজ বেপারী, আব্দুল মান্নান ওরফে শাহাদাৎ,শামীম ওরফে পেট কাটা শামীম, আলতাফ ওরফে লুঙ্গি বাবু, নাদিম, আল আমিন, কোরবান আলী জহুরুল, লিমন, নোমান, সানি, চাঁন মিয়াকে শনাক্ত করেন। এদের মধ্যে ৫জন আসামী ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. আওলাদ হোসেনকে এই হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়ক আব্দুল মান্নান ওরফে শাহাদাতের সাথে গোপন আঁতাত করে বাদীকে ভুল বুঝিয়ে মামলাটি পূন:তদন্তের দাবি করে আদালতে আবেদন করেন। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি পূন:তদন্তের জন্য সিআইডির নিকট হস্তান্তর করেন আদালত। বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. আওলাদ হোসেন আদালতে প্রকাশ্যে অন্যান্য আইনজীবীদের সামনে বলেন, এই হত্যাকান্ডের সাথে আব্দুল মান্নান ওরফে শাহাদাতের কোন প্রকারের সংশ্লিষ্টতা নেই তাকে জামিন দেওয়া হলে বাদীর কোন আপত্তি নাই। বিষয়টি জানতে পেরে মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মোসা: সাবিনা ইয়াছমিন এর প্রতিবাদ করেন।

তারা আরো জানায়, আব্দুল মান্নান ওরফে শাহাদাতের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী চক্রটি রঘুনাথপুর এলাকায় কর্মজীবি ৩৯জন লোকের নামে কেনা পৌনে ২০শতাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এদের ভয়ে ওই এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। আব্দুল মান্নান ওরফে শাহাদাত সহ এই দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের কয়েকজন আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকার নিরীহ লোকজনদের প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিচ্ছে। আদালতের কাছে এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত ন্যায় বিচার চায় বক্তবলী এলাকার সর্বস্তরের জনগন ও বক্তাবলী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ৩ আগষ্ট রাত ৯টার দিকে উৎসব পরিবহনের বাসে করে তরুন ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে আসার পথে বিস্ফোরন ও গুলি ছুড়ে বাসটির গতিরোধ করে ভেতরে প্রবেশ করে গুলি করে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী রাখা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।


অপরদিকে, ফতুল্লার চর বক্তাবলী গৃহবধূ ফাতেমা আক্তার মনিকে শশুর বাড়ির পরিবারের লোকজনেরা পরিকল্পিকভাবে হত্যা করায় খুনি আশিক চাঁন ও খুনী আওলাদ হোসেনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেন বক্তাবলী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগন।

মানববন্ধনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বক্তাবলী ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের সভাপতি আল-আমিন ইকবাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন বারী, সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন, লোকমান হোসেন, সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান ফকির, যুগ্ন সম্পাদক গাফফার হোসেৃন, আলমগীর কবির, নিহত নুরুল ইসলামের ছোট ভাই আল ইসলাম, নিহত ফাতেমা আক্তার মনির বাবা মোঃ হোসেন আলী, ভগ্নিপতি মোক্তার হোসেন সহ এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here