নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহবায়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জীবন উৎসর্গ করে এদেশের স্বাধীনতা এনেছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশাল এক হৃদয়ের মানুষ। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ঘাতকরা তাকে হত্যা করে বাঙ্গালী জাতির জীবনে এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল। আর তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও এখন ষড়যন্ত্র চলছে।’

রবিবার (২৭ আগষ্ট) দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তন ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এড. ইউসুফ হুমায়ুন আরো বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী আমাদের দলের ভেতরেই রয়েছে। দলের ভেতরে থাকা এসব ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে এদেরেকে সরিয়ে দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার ফজলে নূর তাপস এমপি বলেন, ‘প্রতি বছর আগষ্ট মাস আসলেই আমরা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে থাকি। কারন এই মাসেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারের হত্যা করেছিল স্বাধীনতা বিরোধীরা। যদি কেউ প্রশ্ন করেন কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছিল, এর উত্তর একটাই হবে বাঙ্গালী জাতিকে তিনি মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন তিলে তিলে। তার ডাকে সারা দিয়ে এ দেশের ৩০ লক্ষ লোক যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিল আর দেশকে করেছিল স্বাধীন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অসীম সাহসের একজন মানুষ ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট ভোরে যখন ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলো বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তখন তার সামনে দাঁড়ানো ছিলেন। ঘাতকরা তখন তাকে বললো আপনি ভেতরে চলুন, তখন তিনি তাদেরকে অসীম সাহসিকতার সাথে বললেন, আমাকে এখানেই হত্যা করো। সেদিন হয়নার দলের কাছে তিনি নিজের জন্য এমনকি তার স্বামীর জন্য প্রান ভিক্ষা পর্যন্ত চাননি।’

ব্যারিষ্টার তাপস বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদেরকে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশ আজ অনেক বেশী উন্নত। সকল খাতে আমরা উন্নতি লাভ করছি। তাকে নিয়ে সর্বত্র ষড়যন্ত্র চলছে। খুনিরা আরেকটি ১৫ই আগষ্ট বানাতে চাচ্ছেন। কিভাবে শেখ হাসিনাকে ১৫ই আগষ্টেই হত্যা করা যায়। স্বাধীনতা বিরোধীরা চেষ্টা করছে সেনা বাহিনী দিয়ে আর জঙ্গিদের দিয়ে। শুধু তাই নয় তারা এখন বিচার বিভাগকে কলুষিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে জুডিশিয়াল এনারকির চেষ্টা চালাচ্ছেন। আগষ্ট মাসকেই তারা বেছে নিয়েছেন এই জুডিশিয়াল এনারকি তৈরীর জন্য। কিন্তুু বাংলার জনগন বার বার তাদের প্রত্যাখান করেছেন। আমি প্রশ্ন করে বলতে চাই মাহমুদুর রহমান মান্না ও ড. কামাল হোসেনকে কার প্রচেষ্টায় আপনারা এ পর্যন্ত এসেছেন। বঙ্গবন্ধুর কারনেই আজকে আপনাদের এতোদুর আশা সে কথা কি আপনারা ভুলে গেছেন। সত্যিকারের সাহস থাকলে নির্বাচনে আসুন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেখি সেই নির্বাচনে কে জয়ী হয়। জনগন কার পক্ষে রায় দেয়। যদি বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন তাহলে তার সুফল ভাল হবে না।’

‘নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশের আইনজীবীদের বলতে চাই আপনারা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। একতার শক্তিতেই আমারা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবদ্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান এড. আব্দুল বাসেত মজুমদার।

এছাড়া আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সাধারন সম্পাদক এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য এড. আজহারুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী এড. আনোয়ার, জেলা ডেপুটি কমান্ডার এড. নুরুল হুদা, এড. নজরুল ইসলাম, এড. সেলিানা ইয়াছমিন, এড. হুমায়ন কবির, নাসরিন সিদ্দিকী রীনা সহ প্রমূখ।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here