নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে মো: রাব্বী মিয়া যোগদানের কয়েকদিন পরেই নবাগত জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেছিলেন মো: মঈনুল হক।
যেই কারনে দু’জনে মিলে সর্বপ্রথম ব্যবসায়িক এলাকা কালীরবাজার স্বর্ণপট্টী পরিদর্শন কালে তখন বেশ দাবী করেই ‘ডিসি এসপি দুই ভাই হিসেবে’ নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে রাব্বী মিয়া বলেছিলেন, ‘আমরা ডিসি এসপি আপনাদের দুই ভাই। আপনাদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা দুই ভাই সর্বদা পাশে থাকবো। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’

কিন্তু যোগদানের সবে মাত্র একবছর পূর্ণ হতে না হতেই নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা তথা দুই ভাইয়ের মাঝে সৃষ্টি হয়ে গেছে মতবিরোধ বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

আর মতবিরোধের নেপথ্যে হচ্ছে কোরবানীর পশু হাটের ইজারা প্রদানকে নিয়ে। জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সাথে কোন আলোচনা না করেই ইজারাদারদের কথা শুনেই পুলিশ সুপার ভরা মজলিশে ডিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনভিপ্রেত বক্তব্য দেয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজ।

তবে হাটের ইজারা প্রসঙ্গে এসপির এমন ক্ষোভের প্রেক্ষিতে নিজস্ব মতামত জানতে রবিবার (২৭ আগষ্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেন নি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ আগষ্ট সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ইজারাদারদের সাথে মত বিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মো: মঈনুল হক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কের উপর পশুর হাটের ইজারা দেওয়ায় জেলা প্রশাসক ও সদর ইউএনও’র কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ‘সরকারী আইন হচ্ছে মহাসড়কের পাশে পশুর হাটের ইজারা দেয়া যাবে না। কিন্তু সরকারী নির্দেশনা সরকারী দফতরই মানছে না। হাটের ইজারা দেবে জেলা প্রশাসন আর ব্যবসা করবে ইজারাদারা, মাঝখানে নিরাপত্তার ঝঞ্জাট পোহাতে হবে আমাদের। আমরা আমাদের নিয়মের বাইরে যাবো না। আইনে মহাসড়কের যতটুকু দুরত্বে হাট ইজারা দেওয়ার রীতি আছে, তার বাইরে হাটের অনুমতি যারা দেবে, নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। ফতুল্লা সাইনবোর্ড এলাকা হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থান। এখান দিয়ে দক্ষিনমূখী হাজার হাজার যানবাহন পরাপার হবে। ডিসি কিংবা ইউএন এমন স্পর্শকাতর একটা স্থানে মহাসড়কের উপরেই যদি পশুর হাটের ইজারা দিয়ে থাকেন, তাহলে এর নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। আমরা নিয়মের বাইরে যেতে পারবো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here