নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বন্দরের নবীগঞ্জে কদমরসুল কলেজ সরকারীকরণে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় দলিল সম্পাদন উপলক্ষ্যে মিলাদ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, এই কলেজটি প্রতিষ্ঠার জন্য অবদান রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, অবদান রেখেছেন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান। তিনি কলেজটিকে ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরিত করে ছিলেন। আজকে তাদের কারনে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে পারছি। নাসিম ওসমান ডিগ্রি কলেজ করে গিয়েছিল। আজকে আমরা কলেজটি সরকারীকরণ করতে পারছি। এই কলেজকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় রূপে দেখার স্বপ্ন দেখছি।

শনিবার (৬ মে) বাদ আছর কদমরসুল কলেজ প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। কদমরসুল কলেজটি সরকারীকরণের মধ্য দিয়ে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের আরো একটি অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। এর আগে নাসিম ওসমানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া শীতলক্ষ্যা সেতু, লাঙ্গলবন্দের মহাপরিকল্পনা, খানপুর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ এমপি সেলিম ওসমানের হাত ধরে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

কদমরসুল কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রফেসর শিরীন বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশেনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগর সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, বন্দর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান কমল সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দরা।


সেলিম ওসমান তার বক্তব্যে বন্দর উপজেলায় বর্তমান সরকার এবং তার ব্যক্তিগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর এলাকা দিয়ে শীতলক্ষ্যা সেতু-৩ এর কাজ শুরু হয়েছে। মদনগঞ্জের শান্তিরচরে নীটপল্লীর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কদমরসুল কলেজ সরকারী হতে চলেছে খুব দ্রুতই আমরা এটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। বন্দরে ৫টি ইউনিয়ন এলাকায় আধুনিক ৫টি স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে সবগুলো স্কুলের কাজ সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বন্দরের সব গুলো স্কুলের উন্নয়ন করা হবে। এই সরকারের আমলে বন্দরে বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নবীগঞ্জ খেয়াঘাটটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে টোল ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। নবীগঞ্জ দিয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ওই ঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাট টোল ফ্রি করা হয়েছে এছাড়াও ঘাটের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বন্দর উপজেলা পরিষদ সহ প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় নির্মাণ করা হবে। মদনগঞ্জ থেকে মদনপুর সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আমার বন্দরের মানুষ স্বাধীন হয়ে পরাধীনের মত জীবন যাপন করে আসছে। আমরা চেষ্টা করবো বন্দর ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে যাতে টাকা দিয়ে পারাপার হতে না হয় সে ব্যবস্থা করবো।

এছাড়াও জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের ও বন্দর থানা আওয়মাীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে উন্নয়নের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকায়, শীতবস্ত্র বিতরণ, ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি আধুনিক স্কুল নির্মাণ করেছেন। বন্দর ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট টোল ফ্রি করে দিয়েছেন। প্রতি ঈদে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন যা বন্দরের ইতিহাসে পূর্বে কোন সংসদ সদস্য এমন অবদান রেখে যাননি। আজকে এমপি সেলিম ওসমানের প্রচেষ্টায় কদমরসুল কলেজ সরকারীকরন হয়েছে। আমরা বন্দরের উন্নয়নে সব সময় তার পাশে থাকবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here