নিউজ ডেস্ক: বন্দরের লক্ষনখোলায় হাই ভোল্টেজ বিদ্যুত সংযোগ স্থাপনের নামে জন চলাচলের প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক কেটে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশী সময় ধরে নাসিক ২৫নং ওয়ার্ডের দাসেরগাঁও থেকে চৌরাপাড়া হয়ে, সোমবাড়িয়া বাজার পর্যন্ত জনবহুল এই রাস্তাটি এখন চলাচল বন্ধ থাকায় মুমূর্ষ রোগী থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সড়কটি ঠিক মাঝ বরাবর কেটে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুত সংযোগটি স্থাপন কাজ শুরু করায় রিক্সা চলাচলও বন্ধ। পাশাপাশি খানাখন্দ করে সড়কটির কোথাও কর্দমক্ত বেহাল দশা থাকায় মানুষের চলাচলও এখন কষ্টসাধ্য। অথচ এটি কোনও জনগনের উন্নয়নে নির্মাণ কাজ নয়। সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য আজ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উল্লেখিত ওয়ার্ডের প্রায় ১৬ হাজার ভোটার সহ চলাচলকারী সহাশ্রাধিক মানুষের।

বিষয়টি সরজমিনে প্রত্যক্ষকালে স্থানীয় অসংখ্য ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা একের পর এক ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ মিল কর্তৃপক্ষের নানা তঞ্চকতায় বিভিন্নভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও এলাকার প্রতিষ্ঠান বেঁচে থাকুক সে স্বার্থে এ যাবত সবকিছু সহ্য করেছি। নদীর পাড়েই গড়ে উঠা এমন একটি মিল আমাদের খাল, জমি-জমা দখলে নিয়ে আমাদের বুকের উপর ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিনের কম্পন বাজিয়ে ফায়দা লুটে যাচ্ছে। তার উপরে আবার আজ প্রায় আড়াই মাস যাবৎ আমাদের চলাচলের প্রধান সড়কটি মাঝখানে বিশাল আকারে কেটে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুত সংযোগ নিচ্ছে। এতে করে অনেকটা পথ জনযোগাযোগ বন্ধ থাকায় আমরা দোকানদাররা অসহায় হয়ে পড়েছি। রিকশা চালকরাও অলস সময় পার করছে। প্রতিদিনই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ নানা বয়সের পথচারীরা র্দূঘটনার শিকার হচ্ছে। কিছুদিন কাজ করলেও এরপর বেশ কিছুদিন কাজও হয়নি। অযথাই এই সড়কটি কেটে ফেলে এখন খানাখন্দ করে রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে এই মিলের বিদ্যুত সংযোগের কাজটি করছে এলাকারই একটি সুবিধাবাদী পক্ষ। যারা ইতিপূর্বে সোহাগপুর কর্তৃক আমাদের খাল ও জমি-জমা দখলের ক্ষেত্রে বরাবরই মালিক পক্ষের দালালিতে ছিল ব্যস্ত। নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আমরা যখনই প্রতিবাদ করেছি তাদেরই কথায় মিল কর্তৃপক্ষ বরাবরের মত আমাদের বঞ্চিত করেছেন এবং তাদেরই পরামর্শে হামলা মামলায় আমাদেরকে হয়রানি করতেও দ্বিধা করেনি। যে কারনে এ ঠিকাদার ও ক্ষমতাধর মিল কতৃপক্ষের ভয়ে আমরা প্রতিবাদের সাহস হারিয়ে ফেলেছি। আপনাদের মিডিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বলতে চাই, সোহাগপুর মিল কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা গোটা লক্ষণখোলা চৌরাপাড়াসহ আশপাশের সাধারণ মানুষেরা জিম্মি। আমাদের ভোটে আপনারা যদি নির্বাচিত হয়ে থাকেন, তবে ঐ টাকাওয়ালা মিল কর্তৃপক্ষ নয় আমাদের কথা ভাবুন এবং আমাদেরকে এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচান।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার ফয়েজ আহম্মেদ ও তার সহযোগী শাহাজালাল সাহা এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের কাজের নির্দিষ্ট সময় ছিলো ৪৫ দিন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে দুই মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের এই বিদ্যুত সংযোগ নির্মাণ কাজের জন্যই জনগনের ভোগান্তি নয়। ভোগান্তি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য। এ সময় সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল কর্তৃপক্ষের প্রসাশনিক কর্মকর্তা শামসুল হক ও হাফিজুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও এ ব্যপারে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহ্তেশামুল হক জানান, এ বিষয়টা আমি অবগত ছিলাম না, আপনি আমাকে জানিয়েছেন আমি বিষয়টির সম্পর্কে জেনে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর এনায়েত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার জানা মতে কাজের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে। ইচ্ছা করলে ওরা কাজটা আরও আগেই শেষ করতে পারতো। এদিকে মিল কর্তৃপক্ষ তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইসহাক খাঁনের সাথে যোগযোগ করতে চাইলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here