নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বাঙালী জাতির প্রাণের উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। শনিবার পূব আকাশে নতুন সূর্যের উঁকি দেয়ার সাথে সাথেই আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিবে নারায়ণগঞ্জবাসী।
অথচ, দীর্ঘ বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকা মামলা হামলার শিকার বিএনপির নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জে এই বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে প্রাণের উৎসবে মিলিত হলেও ঘরে বসেই নীরবে উৎসব পালন করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, শনিবার ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ শুভ নববর্ষ। আর এই দিনটিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কোন উৎসব উদযাপন করা না হলেও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রাণের উচ্ছাসে মিলিত হতে ঠিকই মেজবানীসহ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করেছে বিএনপি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা প্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি থাকলেও এই রায়কে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন ৭টি থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ১৩ টি মামলায় শীর্ষস্থানীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশী নেতাকর্মী আসামী বনে যাওয়ার পাশাপাশি এখনো ডজনখানেকের বেশী নেতাকর্মী কারাবন্দি থাকায় গ্রেফতার আতংকে অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি।

তাই দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে খানিক বিনোদন দিতে আনন্দ উৎসব আর ভুরিভোজের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ব্যাপক আয়োজন করেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা।

যাদের মধ্যে, পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী রূপগঞ্জ উপজেলাধীন পৈত্রিক খন্দকার বাড়ীতে প্রায় ২০ হাজার লোকের মেজবানীর আয়োজন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

পাশাপাশি একই সময়ে রূপগঞ্জের নিজ বাড়ীতে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপনে দলীয় নেতাকর্মীদের আনন্দ প্রদানে উৎসবের আয়োজন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।

এছাড়াও আড়াইহাজার উপজেলায় নিজ বাড়ীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নগরীর বিবি রোডস্থ নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেটে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত খানসহ আরো একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তাদের মিষ্টিমুখ করার আয়োজন করেছেন বলে সূত্রমতে জানাযায়।

তবে যেকোন উৎসব কে কেন্দ্র করেই মূলত, তৃণমূলের সাথে শীর্ষস্থানীয়দের মেলবন্ধনের রেওয়াজ থাকলেও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের তৃণমূলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় তথা আনন্দ বিনোদন প্রদানে কোথাও কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা। যার ফলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

আর বর্ষবরণ উদযাপনে নারায়ণগঞ্জে দলীয় ভাবে কোন আয়োজন না করার সত্যতা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, পহেলা বৈশাখের উৎসব উদযাপনে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কোন আয়োজন না থাকলেও জেলা প্রশাসনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন তিনিসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কিন্তু বর্ষবরণ উদযাপনে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা নানা আয়োজন করলেও ক্ষমতাসীন দল হওয়া স্বত্তেও আওয়ামীলীগের কোন আয়োজন নেই কেন জানতে চাইলে আব্দুল হাই এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি।

একই ব্যাপারে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here