নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে বাউল গান মিশে আছে। বাউল গান বাঙ্গালীর প্রানের স্পন্ধন। স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য। আমাদের বিদেশী অপসংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। গত রোববার সন্ধ্যায় ফতুল্লার মুসলিমনগরে জেলা বাউল শিল্পী কল্যান পরিষদের সভায়, প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল উদ্দিন এসব কথা বলেন।
২০০৯ সালে ফতুল্লার মুসলিমনগরে প্রতিষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা বাউল শিল্পী কল্যান পরিষদ নামের সংগঠন। নারায়ণগঞ্জ জেলার বাউলদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার মুসলিমনগরস্থ দক্ষিন পাড়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ম বাউল মেলার আয়োজন করা হয়। বাউল মেলায় সংগঠনের সভাপতি হাফিজ উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ কামাল উদ্দিন ও উদ্বোধক হিসেবে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ এম শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত সমবায়ী জামাল উদ্দিন সবুজ, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম নুরু,ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রণজিৎ মোদক, মুসলিমনগর কেএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম ইব্রাহিম,আব্দুল গফুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মাসুদ ভূঁইয়া,সমাজ সেবক আলহাজ¦ মো.গিয়াস উদ্দিন, বিশিষ্ট ছড়াকার-গীতিকার নজরুল ইসলাম শান্তু,হাজী মো.আওলাদ হোসেন,হাজী আব্দুল খালেক ভান্ডারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনে ছিলেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সজিব ও আলমগীর দেওয়ান। বাউল গানের মেলার সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ বাধন ও শীলা মনি। সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন,হাশেম চিস্তি,ওয়াজ আলী দেওয়ান,কাফিল উদ্দিন,রমিজ উদ্দিন প্রধান,লিটন,আমজাদ সরকার, সিরন সরকার,আফজাল সরকার,স্বপন সরকার, নীলা দেওয়ান, সোনিয়া সরকার, সিম্মি সরকার,বন্যা দেওয়ান,তানজিলা সরকার, আপন দেওয়ান ও আবু হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি কামাল উদ্দিন বক্তব্যে আরো বলেন,দিন দিন আমাদের যুব সমাজ বিদেশী সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে। এতে করে আমাদের সংস্কৃতি বিলীন হওয়ার পথে। ছেলে বেলায় দাদা-বাবার মুখে জারি,সারি গান শুনতাম। এখন এগুলো নেই বল্লেই চলে। বাউল গান আামদের নিজেদের ঐতিহ্য বহন করে। বাউল শিল্পীদের আমাদের মূল্যায়ন করা উচিত। এঁরা আমাদের ঐতিহ্য লাল করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক এম শওকত আলী বলেন,যখন কোথাও বাউল গান গাইতে শুনি তখন অতীত স্মৃতি মনে পড়ে যায়। বাউল গান আমাদের ঐতিহ্য। এই সংগঠনের মাধ্যমে বাউল শিল্পীরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এটাই আশা করি।

আলোচনা সভার পর বাউল শিল্পী হাফিজ উদ্দিন সরকার,শুক্কুর আলী সরকার,আক্কেল আলী চিশতী ও ইউনুস সরকারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মননা প্রদান করা হয়। রাত ১০টায় প্রায় অর্ধশত বাউল শিল্পী বাউল গানে অংশ গ্রহণ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here