নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও শহর ও শহরতলীর অনেক বাসিন্দা পর্যাপ্ত পরিমান গ্যাস না পেলেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাবুরাইল শেষ মাথা (বটতলা) এলাকায় হালিমা আক্তার মনি ও এনামুল হক সুমন দম্পত্তি তাদের ৭তলা ভবনে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন।

অবশেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারী) সকালে তিতাস ফতুল্লা শাখার ম্যানেজার প্রকৌশলী মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে এই দম্পত্তির ৭ তলা ভবনের অবৈধ গ্যাস সংযোগটি বিছিন্ন করে। অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ফুট নি¤œমানের পাইপসহ ব্যবহার করা রাইজার, কম্প্রেসার ও আনুসাঙ্গিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ১ নং বাবুরাইল শেষ মাথা বটতলা এলাকার সাত তলা বাড়ির মালিক সুমন বিদেশ প্রবাসী হওয়ায় তার স্ত্রী হালিমা আক্তার মনি গত ৭/৮ বছর যাবত বহুতল ভবনে ১ হাজার ফুট পাইপ দিয়ে গ্যাস নিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ১৫ টি চুলা ব্যবহার করে আসছিল। এর আগেও প্রায় তিন মাস আগে একবার এই বাড়ির অবৈধ গ্যাসের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে সিলগালা করে দেয় তিতাসের লোকজন। তারপরও তারা গ্যাস ব্যবহার করতো।

এলাকার বাসিন্দা বয়বৃদ্ধ মজনু মিয়া জানান, আমরা বিল দিয়ে গ্যাস পাই না। অথচ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পরও তারা কোন জোরে, কার সাহসে গ্যাস ব্যবহার করে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী জানান, এই মহিলা (বাড়ির মালিক মনি) নাকি অনেক শক্তিধর। তার ভাই মেহেদী হাসান মুনও প্রভাবশালী। তাছাড়া তার নানাদের নাকি খুব প্রভাব। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের প্রবীন নেতা আলহাজ্ব নুরুদ্দিন মিয়ার নাতনি হলেন এই হালিমা আক্তার মনি।

আরেক জন এলাকাবাসী জানান, এই বাড়িতে শুধু গ্যাস সংযোগ কেন। বিদ্যুৎ সংযোগটিও নাকি অবৈধ।

এই বাড়িতে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড হয় এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, এই বাড়ির মালিক মনি নাকি অত্যন্ত প্রভাবশালী। আর তাই এলাকাবাসী কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। এলাকাবাসীরা প্রশাসন সহ সংশিøষ্ট সকলের হ¯Íÿেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে তিতাসের ফতুলøা শাখার ম্যানেজার প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল বাবুরাইল বটতলা এলাকার ঐ বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ছিল। আমরা এর আগেও অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আবারো অভিযোগ পাই তারা পুনরায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছে। তাই আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে গ্যাস সংযোগ পুনরায় বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পাইপ জব্দ করা হয়। আমরা উর্ধ্বতন কর্তপÿের সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

বাড়ির মালিক হালিমা আক্তার মনির সাথে সরেজমিনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তাদের বাড়িতে মালিক পÿের কাউকে পাওয়া যায় নি। এছাড়া মনির মা বেলি বেগমরে সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন এই বাড়িটি আমার না।

তবে নির্ভরযোগ্য সুত্রের দাবি বাড়িটির জমির অর্ধেক মালিক বেলি বেগম এবং অর্ধেক জমির মালিক তার মেয়ে মনির জামাতা এনামুল হক সুমন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here