নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামীলীগের শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর জন্য দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দেখা দিয়েছেন বিএনপি’র উদিয়মান প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ।
আড়াইহাজারবাসীর কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠা আজাদকে ঠেকাতে তাই পরিকল্পনার ছক কষছেন সাংসদ বাবু। তবে বাবুর জন্য সুখবর হলো আড়াইহাজার বিএনপিতে চলমান কোন্দল। এ আসনে বিএনপি’র তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে মনোনীত করার পর বাকী দুজন বা তাদের নেতাকর্মীরা তা মেনে নিবেন কিনা সেটার উপরই নির্ভর করছে নির্বাচনে বিএনপি’র সফলতা।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন আড়াইহাজার থেকে আওয়ামীলীগের টিকিটে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক থাকা নজরুল ইসলাম বাবু ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন। এরই ধারাবহিকতায় ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এমপি নির্বাচিত হন। এমপি বাবুর গত প্রায় দশ বছরের আচরনে আড়াইহাজারের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছে। বাবুর বিরুদ্ধে ভূমি দস্যুতা, স্বজনপ্রিতি, দলীয় কোন্দল সৃষ্টিসহ একাধীক অভিযোগে লোকজন বাবুর কাছ থেকে সরে আসতে শুরু করে। এমনকি ওয়াজ মাহফিলে দাড়িয়ে মাওলানাদের সাথেও নজরুল ইসলাম বাবু দুর্ব্যবহার করেন। তাছাড়া গত ১০ বছরে আড়াইহাজারের তেমন কোন উন্নয়ন কাজও করতে পারেনি এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এলাকার রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বাবুর সময়ে। আর তাই বাবুর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখা আড়াইহাজারবাসী।

কিন্তু সাংসদ বাবুর জনপ্রিয়তা হ্রাসের সুযোগ নিতে পারছেনা বিএনপি তাদের নেতাদের ব্যাক্তিগত কোন্দলের কারনে। আড়াইহাজার আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নে এমপি হওয়া আতাউর রহমান আঙ্গুর এবারেও এ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী। কিন্তু বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী হয়ে যাওয়ায় এবং গত প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশ গ্রহন না থাকায় তৃণমূল থেকে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছেন তিনি। দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামেও অনুপস্থিত। আর আন্দোলন সংগ্রামে মামলা হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ খবরও নেননি এই সাবেক এমপি। ফলে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ক্রমেই দুরে গিয়েছেন তিনি।

এ আসনে বিএনপি’র অপর দুই প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত বদরুজ্জামান খসরুপুত্র আড়াইহাজার থানা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন। এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম আজাদ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে পুলিশের হামলা মামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগিতাসহ আইনগত সকল সাহায্য প্রদান করছেন আজাদ।

অপরদিকে কয়েক মাস পূর্বে আকষ্মিক মৃত্যুবরণ করেন আড়াইহাজার থানা বিএনপি’র সভাপতি বদরুজ্জামান খসরু। পিতার মৃত্যুর পর নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজনীতিতে সরব হন খসরুপুত্র মাহমুদুর রহমান সুমন। প্রায়াত খসরুর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সুমনও চাইছেন এ আসনে দলীয় মনোনয়ন।

আড়াইহাজার বিএনপি’র এই ত্রিমুখী দ্বন্দ তাই সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর জন্য আশির্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আর তাই দলের বিজয়ের স্বার্থে ধানের শীষের প্রতি আড়াইহাজার বিএনপি’র ঐক্য প্রতিষ্ঠা আবশ্যক। বিশেষ করে প্রার্থী চুড়ান্ত হওয়ার বাকী বাদ পরা দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা তা মেনে নেয়ার উপরই নির্ভর করছে আড়াইহাজারে বিএনপি’র সফলতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here