নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই শহরের ৬০ ভাগ যানজট কমে আসবে’ এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান।
রবিবার (২০ আগষ্ট) এমপির ঘোষণার ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর যেন এর বাস্তবায়নও দেখতে শুরু করেছে নগরবাসী।
কেননা, এদিন কর্মদিবস হলেও দিনের বেলায় অন্যান্য দিনের মত তেমন যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। নিতাইগঞ্জ থেকে রিক্সায় উঠে সহসাই যেন চাষাড়া পৌঁছানো গেছে মিনিট দশের মধ্যে। নগরীর প্রধান সড়ক গুলো যেন অনেকটাই ফাঁকা মনে হয়েছিল পথচারীসহ সাধারন যাত্রীদের কাছে। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ছিলনা বাসের এলোমেলো জট, ফুটপাতে ছিল না কোন হকার। যার ফলে অনেকটা স্বাচ্ছন্দেই চলাচল করতে দেখাগেছে নগরবাসীকে। আর যানজট মুক্ত নগরী গড়ার ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাওয়ায় এমপি সেলিম ওসমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
জানাগেছে, ছোট নগরীতে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হতো নগরবাসীকে। কয়েক মিনিটের দূরত্ব কখনো কখনো ঘন্টায়ও পাড়ি দিতে হতো সাধারন যাত্রীদের। বিশেষ করে নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ডের কারনে এই দূর্ভোগের মাত্রা ছিল অসহনীয়।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবার নিতাইগঞ্জ থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়া পর্যন্ত যানজট মুক্ত নগরী গড়ার ঘোষণা দেন সাংসদ সেলিম ওসমান।

গত ১৭ আগষ্ট জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউসে নগরীর যানজট নিরসনে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে এক মত বিনিময় সভায় সাংসদ সেলিম ওসমান আরো বলেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নগরীর ৬০ ভাগ যানজট কমে যাবে।

সাংসদ সেলিম ওসমান এ সময়ে উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান মো: শহিদুল্লাহকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাসষ্ট্যান্ড জঞ্জালমুক্ত করে সারিবদ্ধভাবে বাস রাখার জন্য দায়িত্ব দেন। বাসষ্ট্যান্ডে যে কয়েকটি গ্যারেজ রয়েছে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। টার্মিনালের বাইরে রাস্তার উপর কোন বাস টার্মিনাল থাকতে পারবে না। হিমাচল ও শীতল ট্রান্সপোর্টের বাস রাস্তার উপর পাকিং করে রাখা হয়। এগুলো বন্ধ করতে হবে। কাউন্টারের সামনে একটির বেশী বাস থাকতে পারবে না।

সাংসদ সেলিম ওসমান নাসিক মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বিবি রোডের উপর যে রোড ডিভাইডার রয়েছে, তা প্রায় তিন ফুট জায়গা নষ্ট করছে। তাই এই ডিভাইডারগুলো তুলে দিলে যানজট অনেকাংশে লাঘব হবে। তাছাড়া শহরে যানজটের অন্যতম কারন অবৈধ রিক্সা। সিটি কর্পোরেশন যদি তাদের রিক্সার লাইসেন্সগুলো ডিজিটাল করে দেয়, তাহলে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ।

তিনি আরো বলেন, ফুটপাতের হকারদের একেবারে কোন পূণর্বাসন ছাড়া উঠিয়ে না দিলে তারা কি করবে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় দেশে ফুটপাতের উপর হকার ব্যবসা করছে। কিন্তু তা হচ্ছে একটা নিয়মের মধ্যে। আমরা তাদের ট্রেড লাইসেন্স দিবো না, কিন্তু একটা নিয়মের মধ্যে আনতে পারবো। নগরীর যানজট নিরসনে একে একে সকল উদ্যোগই নেয়া হবে। কিন্তু তা সহনশীল উপায়ে, পর্যায়ক্রমে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান করে নগরীকে যানজট মুক্ত করা হবে। এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলের ঐকান্তিক চেষ্টায় এই কাজ সফল হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here