নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মগ্রন্থ রামায়ণের কাহিনী অনুসারে রাজা দশরথের স্ত্রী রাণী কৈকেয়ীর ‘মন্থরা’ নামে একজন কুব্জা দাসী ছিল। যে কিনা ছিল বিকৃতাকার, বক্রদেহা, ঈর্ষাপরায়ণা এবং কূটবুদ্ধি সম্পন্না। কু-মন্ত্রণা দানে নিপুণ হলেও সে কৈকেয়ীর প্রকৃত হিতৈষী ছিল।
দশরথ জ্যেষ্ঠপুত্র রামকে রাজ্যাভিষিক্ত করতে চাইলে কৈকেয়ীকে ‘মন্থরা’ নানা ভাবে উত্তেজিত করতে থাকে। প্রথমদিকে কৈকেয়ী এসবে কান না দিলেও পরিশেষে ‘মন্থরার’ যুক্তিতেই তাঁর বুদ্ধি নাশ হয়। সে কৈকেয়ীকে মনে করিয়ে দেয় দশরথ শম্বরাসুরের সাথে যুদ্ধে আহত হলে কৈকেয়ী তাঁকে রণভূমি থেকে সরিয়ে এনে সেবা দিয়ে সুস্থ্য করেছিলেন। তখন দশরথ তাঁকে একই সাথে দুটি বর দিতে রাজি হয়েছিলেন।

এরপর ‘মন্থরার’ কু-মন্ত্রণায় কৈকেয়ী প্রথম বরে ভরতকে রাজ্যে অভিষিক্ত করা এবং দ্বিতীয় বরে রামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনে পাঠানোর নির্দেশ দিতে বলেন। তারপর সত্যরক্ষার জন্য দশরথ এই বর দিতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে রামের বনবাসের খবর শুনে শত্রুঘœ এতদূর বিরক্ত ও মর্মাহত হয়েছিলেন যে, সকল অনর্থের মূল কৈকেয়ীর দাসী ‘মন্থরা’কে তিনি প্রহার করেন এবং কৈকেয়ীকে যথেষ্ট ভর্ৎসনা করেন।

ঠিক তেমনি মানব যুগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট পুত্র শর্মীলা রহমানের কাছে রামায়ণের ‘মন্থরা’র মত বিএনপির আন্তর্জাজিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ আবির্ভূত হয়ে তাকে কু-মন্ত্রণা দিয়ে বাণিজ্যের মাধ্যমে বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে নিজের করায়ত্বে নেয়ার দিবাস্বপ্ন দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা।

আর তার দেয়া উদাহরন টেনে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা বলেন,‘রাজা দশরথ যোগ্য হিসেবে তার জেষ্ঠ্য পুত্র রামচন্দ্রকে রাজ্যাভিষক্ত করতে চেয়েছিলেন, তেমনি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যোগ্য নেতাদের হাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়াত কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমানকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ‘মন্থরা’ হিসেবে আবির্ভূত কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ তাকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পকেট কমিটি বাগিয়ে ব্যাপক বাণিজ্য করেন। যার ফলে অযোগ্য নেতৃত্বের কারনে জেলা ও মহানগর বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রভাবে তৃণমূলেও একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।’

জানাগেছে, শুধু বিএনপিই নয়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে নারায়ণগঞ্জ যুবদলকে বগলদাবা করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন ‘মন্থরা’ রূপী আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও এর অন্তর্ভূক্ত ৭টি থানা, উপজেলা এবং পৌর যুবদলের কমিটি নিজের অনুগামী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই গঠন করার লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন নজরুল ইসলাম আজাদ। আর এক্ষেত্রে তিনি নিজেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রয়াত পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমানের নাম ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে মামলা হামলার শিকার হওয়া স্বত্ত্বেও পদবঞ্চিত হওয়ার আশংকায় থাকা একাধিক নেতা।

আর আরাফত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক মাঠে নামার দাবীদার ‘মন্থরা’ রূপী নজরুল ইসলাম আজাদ বিভিন্ন কমিটি গঠনের নামে ব্যাপক বাণিজ্যে লিপ্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপিকে বগলদাবা করাসহ আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করণের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যকরন শুরু করে দেয়ার ফলে নিজে লাভবান হতে থাকলেও রাজধানী ঢাকা পাশর্^বর্তী জেলা হিসেবে অতি গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিশ্চিতকরন ও যুবদলের কমিটি গঠনের নামে ‘মন্থরা’ রূপী নজরুল ইসলাম আজাদের বাণিজ্যকরণ এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কেবল নারায়ণগঞ্জ যুবদলেই নয়, বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা।

আর এই কারনেই রামায়ণের মতই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ধ্বংসের কারনে ‘মন্থরা’ রূপী আজাদ কে প্রহারসহ কৈকেয়ী রূপী কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমানকে ‘ভৎসনা’ করবেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here