নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রত্যাশায় সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে গত মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের নাম ঘোষণা করেছিলেন মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকার।
অথচ, তখন সেই সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মজিদ খন্দকারকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সমর্থণ জানালেও ভাবতে পারেন নি, যে একমাসের ব্যবধানেই এই মজিদ খন্দকার একজন ‘ভয়ানক’ খুনী হিসেবে আবির্ভূত হবেন। জানা ছিল না, যে বয়সে প্রবীণ মজিদ খন্দকার জমি দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনসহ একাধিক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এত বড় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন।

কিন্তু সম্প্রতি কাশীপুরের হোসইনী নগরে জোড়া খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে মজিদ খন্দকারের নাম প্রকাশিত হওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী মজিদ খন্দকার এখন ‘ভয়ানক’ খুনী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর নগরীর মন্ডলপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা।

জানাগেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই বাবুরাইল, তাঁতীপাড়া, আমবাগান, বাংলাবাজার, হোসাইনী নগর এলাকাতে জমি ও মাদক ব্যবসার জন্য একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন বিএনপি নেতা ভ্রাতৃদ্বয় মজিদ খন্দকার ও হাসান আহম্মেদ। আর এই দুই ব্যবসা পরিচালনার আধিপত্য বিস্তার নিয়েই তাদের গ্রুপের সন্ত্রাসী বাপ্পী শিকদার ও মিল্টনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এই বিরোধের জের ধরে মিল্টন বাহিনী বাপ্পী শিকদারের উপড় হামলা চালায়। তার প্রেক্ষিতে গত ১২ অক্টোবর কাশীপুর হোসাইনী নগর রাজীবের রিক্সার গ্যারেজে বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকার বাপ্পী শিকদার বাহিনীর লোকজনদের সাথে নিয়ে এসে মিল্টনের সাথে শালিসী বৈঠক করে। কিন্তু সেই বৈঠকে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে শালিস থেকে মজিদ খন্দকারের সাথে বাপ্পী শিকদারের লোকজন বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাপ্পী শিকদারের বস জাহাঙ্গীর বেপারীর নেতৃত্বে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথমে মিল্টনের বাসায় গিয়ে তাকে না পেয়ে বাড়ীঘর ভাংচুর করে। পরে রাজীবের রিক্সার গ্যারেজে গিয়ে মিল্টন ও তার সাথে থাকা তারই মাল্টিপারপাস ‘ছায়াবৃত্ত শ্রমজীবি সমবায় সমিতির’ ম্যানেজার পারভেজকে এলোপাথারী কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

এই ঘটনায় নিহতদের পরবিারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার তা ডিবিতে বদলী করেন।

এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া এজাহার ভুক্ত ৩ আসামীর মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী মাহাবুব গত ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূল জবানবন্দি প্রদান করেন। যেখানে মাহাবুব স্বীকার করেন, এই জোড়া খুনের নির্দেশদাতা ছিলেন মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকার। নিহত মিল্টন মজিদ খন্দকারের অবাধ্য হওয়ায় সে মিল্টনকে খুনের পর লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জোড়া খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মো: মাসুদ রানা।

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর নগরীর মন্ডলপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য কালে আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দেন আব্দুল মজিদ খন্দকার। যেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

মজিদ খন্দকার সভায় এড. আবুল কালামকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ঘরে বসে থেকে যারা আগামীতে এমপি নির্বাচিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তা কখনোই বাস্তবায়ন হবে না। তাই আগামীতে আমি সদর-বন্দর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো।’

এরপর গত ১২ অক্টোবর কাশীপুরে জোড়া খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে মজিদ খন্দকারের নাম হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here