নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, আমার পাশে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বাঘা বাঘা নেতারা দাঁড়িয়ে আছে। আমি জানি এরা রাজপথে দাঁড়ালে আওয়ামীলীগ পালাবার পথ খুঁজে পাবে না। তাই আমি প্রশাসনকে বাদ দিয়ে দুই দলের রশি টানাটানির আয়োজন করতে বলবো যার এক পাশের নেতৃত্বে থাকবেন এড. তৈমূর আলম খন্দকারসহ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আর অন্যপাশে থাকবেন নারায়ণগঞ্জের মেয়রসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী। প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া আসুন দেখি এই রশি টানাটানিতে কারা জয়ী হয়।

দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বালুর মাঠে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জয়নাল আবেদীন ফারুক আরো বলেন, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ, রুপা দিয়ে বাঁধানো সড়কে দিচ্ছেন রডের বদলে বাঁশ। একজন মাদকসেবীর কাছে যেমন তার পরিবার নিরাপদ নয় ঠিক তেমনি এই অবৈধ সরকারের কাছে গনতন্ত্র নিরাপদ নয়। একটি অসত্য মামলায় দেশমাতা ১২ দিন যাবৎ কারাগারে বন্দি আছেন, সেই মামলার রায়ের কপি পেতে ১২ দিন সময় লাগে। যেখানে ২ কোটি টাকার মামলার রায়ের কপি পেতে এতো সময় লাগলে যখন ১৪ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির রায়ের কপি পেতে কতদিন লাগবে।

বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, দেশনেত্রী মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলছে চলবে। যে যার যার দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন সংগামকে সফল করতে হবে।

মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারী দেশে একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে থাকতে হবে। আগামীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর একই ইউনিটে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মা আর মাকে কারাগারে আবদ্ধ রেখে কোন সন্তান শান্তিতে থাকতে পারে না। আমাদের মাকে আমরা মুক্ত না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাবো। নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের পাশাপাশি আমরা এই স্বৈরাচারী সরকারকে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন দিতে বাধ্য করবো। আর সে নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভাত ও ভোটের অধীকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে রায় দিয়ে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করবে। তবে আমাদের সকল কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ, কোন প্রকার উস্কানীতে বিভ্রান্ত হয়ে উশৃঙ্খল কোন আচরন করা যাবে না। জয় আমাদের সুনিশ্চিত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংসদ আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস খান সেন্টু, জেলা যুবদলের আহবায়ক মোশারফ হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ সাংগঠনিক রুহুল আমিন সিকদার ও উজ্জল হোসেন, জেলা আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ ভাষানী, মহানগর বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন আনু, জাহাঙ্গীর মিয়াজী, মাহমুদুল হাসান মাসুম, শওকত আলী লিটন, ফেরদৌসুর রহমান, আরিফ আহম্মেদ গোগা, হারুন শেখ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সরকার আলম, সানোয়ার হোসেন, আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জয়নাল আবেদীন, মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি, যুবদল নেতা নাজমুল হক রানা, পাবেল, জেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক এড. এইচএম আনোয়ার প্রধান প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here