নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘বাংলাদেশ নীটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি, রিটেইল ব্র্যান্ডিং, গভার্নেন্স অ্যান্ড মার্কেট ক্রিয়েশন’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বিকেএমইএ ঢাকা কার্যালয়ে বিকেএমইএ এবং যুক্তরাজ্যের মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি ডব্লিউজিএসএন এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় দুইটি অধিবেশনে দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এর বাজার সৃষ্টিতে সরকারি পর্যায়ে করণীয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা হয়।

কর্মশালায় বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি এ এইচ আসলাম সানি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবরার আনোয়ার, ডব্লিউজিএসএন এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সেলস ডিরেক্টর পুনিত কুমার দুদেজা, পোশাক ব্র্যান্ড ইয়োলো’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারিয়ার বার্নি, ফকির অ্যপারেলস এর ডিজাইন প্রধান শিবানি শর্মা প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় প্যানেল মডারেটর হিসেবে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রাক্তন সভাপতি মুজিবুর রহমান এবং সমাপনী বক্তা হিসেবে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) জি এম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

আসলাম সানি বলেন, নিজেদের দক্ষতা যোগ্যতা ও গুণগত মান প্রমাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ৪০ বছর পার করছে। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক আমরা। নীট খাত থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের আয় ১৩.৩৫ বিলিয়ন ডলার যা জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৬.০২ শতাংশ। ২০১৬-১৭ তে এই খাতের আয় ২৮.৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৭-১৮ তে তা আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত একটি টি শার্ট আমেরিকা  কেনে ৩.৫২ ডলারে এবং নিজেদের বাজারে বিক্রি করে ১৩ ডলারে। একইভাবে সুইডেন আমাদের কাছ থেকে ০.৮৯ ডলারে কিনে বিক্রি করে ৯ ডলারে। যে কারণে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের নীট ওয়্যার খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশ যা সন্তোষজনক নয়।

নিজস্ব উৎপাদন দক্ষতা এবং গুণগত মানের দিক থেকে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পরিম-লে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বিকেএমইএ সহ-সভাপতি। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিকেএমইএ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সুদূর প্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে সরকারকে অবশ্যই ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধাসমূহ দূর করতে সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতাগোষ্ঠির ক্রয়াদেশের উপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে দেশে উৎপাদিত পোশাক দেশীয় ব্র্যান্ডের নামে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে ডব্লিউজিএসএন এর পক্ষ থেকে ডিজাইন দক্ষতা, ভোক্তার পছন্দ, বিদ্যমান পরিস্থিতির সাথে পোশাকের ধরন, দাম নির্ধারণসহ ব্র্যান্ড বাজারজাত করন এবং বিশ্ব বাজারে সম্পূর্ণ নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে এবং তার সমাধান কি হতে পারে সে সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস ডিরেক্টর (দক্ষিণ এশিয়া) উর্বশী গুপ্ত।

কর্মশালার দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকেএমইএ’র রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেলের সহকারী যুগ্ম সচিব ফারুক হোসেন ‘বাংলাদেশ নীটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি : রিটেইল ব্র্যান্ডিং, গভার্নেন্স অ্যান্ড মার্কেট ক্রিয়েশন’ সম্পর্কে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে ট্রেড, ইকোনোমিক পলিসি, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং রিটেইলিং এ বাংলাদেশ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং তা সমাধানের জন্য বিকেএমইএ’র উদ্যোগ তুলে ধরেন।

প্যানেল ডিসকাশন পর্বে ব্র্যান্ডিং টেকনিক ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ডের ভূমিকা তুলে ধরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিইও আবরার আনোয়ার বলেন, একটি ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তা ভোক্তার দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে কী ঘটছে, সামনের দিনে কী আসছে অর্থাৎ সব পরিস্থিতিতে সময়ের সাথে চলার মানসিকতা রাখতে হবে। সেই সাথে ভোক্তা শ্রেণির চাহিদাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার উপর জোর দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে পোশাক উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাই ব্র্যান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে পোশাকের রপ্তানি মূল্য কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।

এ ধরনের উদ্যোগে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল বলেন, এ উদ্যোগ যেনো সহজ হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০% এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা সুবিধা থাকছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুবিধা দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

উক্ত প্যানেলের মডারেটর বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান আলোচনার সারসংক্ষেপে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবসায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ইনোভেশনের কোনো বিকল্প নেই। ব্র্যান্ডিং হলো বাজারে ভোক্তার চাহিদাকে পরিমাপ করে অল্প সময়ে মান সম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করা। টেকসই নীট শিল্পের বিকাশে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পক্ষে মত দেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) জি এম ফারুক বলেন, আজকের এই কর্মশালা আমাদের দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড সৃষ্টি, তার বাজারজাতকরণ এবং আর্ন্তর্জাতিক বাজারে এর সম্প্রসারণে আমাদের ভাবনাকে সম্বৃদ্ধ করবে। সেই সাথে তা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগী ভূমিকা পালনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

কর্মশালায় দেশি বিদেশি বিভিন্ন পোশাক ব্র্যান্ড ও নীটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here