নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নগরীর ডিআইটিস্থ মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর টেস্ট পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে সুযোগ প্রদানের দাবীতে আন্দোলন করেছে অকৃতকার্যরা|
বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুর থেকেই স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন শাহ্ পারভেজ এর নেতৃত্বে আইনৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে আইনৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর করে।

আর বিক্ষোভ কালে বিকেলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ৫ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অজ্ঞান হওয়ার ঘটনায় মৃত্যুও গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তাদের নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ীতে ফেরত পাঠানো হয় বলে নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, আরএমও ডা: আসাদুজ্জামান।

জানাযায়, ২০১৮ সালের অনুণ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় মর্গ্যান র্গালস স্কুল এন্ড করেজে টেস্ট পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের তিন বিভাগ থেকে ৫৩১ জন অংশগ্রহণ করে। যাদের মধ্যে ২০০ জন পরীক্ষার্থী সব বিষয়ে কৃতকার্য হওয়ায় তারা সরাসরি বোর্ড পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। এছাড়াও ওই পরিক্ষায় ১৭৮জন পরিক্ষার্থী এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। দুই বা ততোধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীও সংখ্যাও ছিল অগণিত। পরবর্তীতে অৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের দাবীতে গত সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করলে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সমাধানের আশ^াস দেন। এদিকে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রবেশ করে আন্দোলন ও একপর্যায়ে ভাংচুর শুরু করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবী, স্কুলে কোচিং না করায় ইচ্ছাকৃতভাবেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ফেল করানো হয়েছে। তারা আরো দাবী করে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করতে গেলে তাদের সাথে অশোভন আচরণ করে তারিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে পরিক্ষায় সুযোগ দানের দাবীতে এদিন ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে স্কুল এন্ড কলেজের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালকে অবরুদ্ধ করাসহ বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে নগরীর ভিক্টেরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিশ্রামে পাঠানো হয়।

অপরদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ইউএনও তাসনিন জেবিন বিনতে শেখ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শরফুদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজ ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি শাহিন শাহ্ পারভেজ। এসময় তারা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের শান্ত হয়ে বিষয়টি সমাধানে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার আশ^াস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অশোক তরুণ জানান, শিক্ষা বোর্ডের বাইরে আমরা কোন কিছুই করতে পারবো না। যে সকল শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র ১ থেকে ২ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের বিষয়ে আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা আমাদের কোন রকম ব্যবস্থা নিতে সুযোগ না দিয়ে উল্টো অকৃতকার্য সকল শিক্ষার্থীকে পরিক্ষা দেয়ার সুযোগ দানের দাবীতে প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনসহ ভাংচুর করে।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক ভাবে আমরা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেও মধ্য থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৯ জন, ব্যবসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৬ জনসহ ৩০ জন ও অনিয়মিত ১৩ জনকে পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই খবরে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এসময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বাইরেও বহিরাগত লোকজন এসে ব্যপক ভাংচুর করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি শাহিন শাহ্ পারভেজ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষার্থী ও তাদেও অভিভাবকদের বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসার আহ্বান করা হয়েছে। সেখানেই এ বিষয়ে সমাধান দেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here