নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: করোনা সঙ্কটের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে আড়াইহাজারে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি। আজাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা তার উপর হামলা চালিয়ে আজাদসহ ১৫/২০ জনকে আহত করেছে। অপরদিকে স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর দাবী দলীয় নেতাকর্মীদের হাতেই লাঞ্ছিত হয়েছেন আজাদ, এখন ইজ্জত বাঁচাতে আওয়ামীলীগের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। এ নিয়ে আড়াইহাজারসহ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়াইহাজারে নিজ এলাকায় নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম। আড়াইহাজারের ফতেহপুর ইউনিয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ত্রাণ বিতরণকালে মারধরের শিকার হন তিনি। পাওনাদারের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে সরকারি দলের উপর দায় চাপিয়েছেন এই বিএনপি নেতা। উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন পরে হঠাৎ ত্রাণ নিয়ে নজরুল ইসলাম হাজির হলে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় অনেক পাওনাদারও হাজির হন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ও পাওনাদাররা তাকে মারধর করে। পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন নজরুল ইসলাম আজাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজারের রাজনীতিতে আজাদের বর্তমান অবস্থানকে নাজুক করে তুলেছেন তার আশেপাশে থাকা বেশ কয়েকজন বিতর্কিত নেতা। এসব বিতর্কিতদের প্রশ্রয়ের কারনেই বারবার নজরুল ইসলাম আজাদকে নাজেহাল হতে হচ্ছে। বিশেষ করে আড়াইহাজারের চিহ্নিত ডাকাত সর্দার অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাবিবুর রহমান উরফে হাবু ডাকাত ও সরকারী দলের লেজুরবৃত্তি করা কথিত যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিকের কারনেই আজাদের এই দুরবস্থা বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ দুজনকে অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের মাশুল গুণতে হচ্ছে এখন নজরুল ইসলাম আজাদকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে আড়াইহাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকান পর্যন্ত আলোচনা সমালোচনায় মূখর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঐদিন আজাদের নাজেহাল হওয়ার পিছনে এ দুজনের হাত রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হাবু ও রফিকের উপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলো বহুদিন যাবত, সেদিন তাদের একসাথে পেয়ে তার বহি:প্রকাশ ঘটেছে বলে দাবী তাদের।

জানা যায়, আড়াউহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবুর বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগের অন্ত নেই, স্থানীয়দের কাছে তিনি হাবু ডাকাত নামেই পরিচিত। ২০০৭ সালে র‌্যাব-১১ হাবুকে একটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। সেই মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে হাবুকে ১০ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। সাজা হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। ২০১৯ সালের ২৫ আগষ্ট রাতে আড়াইহাজার থানার পুলিশ উপজেলার দক্ষিণপাড়া তার নিজ বাড়ি থেকে হাবুকে গ্রেফতার করে। হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু দক্ষিণপাড়া গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে। বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। আড়াইহাজারের অনেক মানুষ তার কাছ থেকে টাকা পাবে। বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক টাকা পয়সা জায়গা জমি হাবু আত্মসাত করেছে। তাছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও অনেক টাকা মেরে দিয়েছে হাবু পদ পদবী দেওয়ার কথা বলে। আড়াইহাজারের ফতেহপুর হচ্ছে হাবুর নিজ এলাকা, এখানেই হাবুর পাওনাদার বেশী। তাই অনেকদিন পর হাবুকে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন পাওনাদাররা এবং হামলা চায় আর সে হামলায় আহত হন নজরুল ইসলাম আজাদ।

অপরদিকে আড়াইহাজারের এক আওয়ামীলি পরিবারের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক। তার বাবা ও ভাই আওয়ামলীগ করেন এবং স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। তবে রফিক নজরুল ইসলাম আজাদের সাথে থেকে জেলা যুবদলের একটি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন যদিও পদ পাওয়ার পর থেকে জেলা যুবদলের কোন কর্মসূচিতেই তাকে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা তাকে ‘আজাদের বডিগার্ড’ হিসেবেই ডাকেন। রফিকের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের সাথে আতাত করার অভিযোগ রয়েছে আড়াইহাজারবাসীর। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রফিকের বাড়িতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুকে দাওয়াত করে পদেরভ র্তাসহ নানারকম মুখরোচক তরকারীতে আপ্যায়ন করা হয়েছিলো যা এখন আড়াইহাজারবাসীর মুখে মুখে ফিরছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি আজাদ আহত হওয়ার ঘটনায় ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় রফিক। রফিকের সে পোষ্টে যেসব কমেন্ট পরেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

জাবালে নুর নামে একজন লিখেছেন “ফালতু রফিক কিসের প্রতিবাদ যানায় সে নিজেই আওয়ামী লীগ, তার বাড়িতে আড়াইহাজার থানার এমপি নজরুল ইসলাম বাবুকে দাওয়াত দিয়ে ২২ রকমের বরতা আর তরকারি দিয়ে খাওয়ায় তার প্রতিবাদ দেখে হাসি পাচ্ছে”।

মো: কামাল নামে একজন লিখেন “আড়াই হাজার বাসি তার অবদানের কথা জানতে চায়, একটু বলবেন, আর আপনাদের আজাদ সাহেব এর নির্বাচন এর সময় রফিক ভোট দিতে আসেনি, আবার ওনার বাবায় বাসায় দাওয়াত দিয়া বাবু সাহেব কে ২২ রকমের বর্তা দিয়া খাওয়ায়”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here