নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা আতাউর রহমান মুকুল, শওকত হাশেম শকু, হাজী নুরুদ্দিন, আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মতো বিতর্কিত নেতাদের অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের মাশুল গুণতে হবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামকে। এদের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে এখন কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুল কালাম। আর তাই সময় থাকতে এসব স্বার্থপর ও পল্টিবাজ নেতাদের লালন পালন বন্ধ না করলে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে এর খেসারত দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারী তৃণমূলের।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ভিতরে লুকিয়ে থাকা সরকারী দলের গুপ্তচর হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকুকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেন সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। শুরু থেকেই বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত এই দুই নেতার বিতর্কিত আচরনের কারনে বহু প্রতিক্ষিত ঐক্য সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল।

দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করা সরকারী দলের দালালদের সাথে সখ্যতার কারনে বার বার বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন এ কালাম। আর এর ফলে নিরসন হচ্ছে না নিজেদের মধ্যকার বিরোধ বরং তা দিনকে দিন বাড়তে বাড়তে সংঘাতের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। তাই অবিলম্বে এসব চিহ্নিত সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে রাজপথের পরিক্ষিত সৈনিকদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে পুনজাগরনের সৃষ্টি করতে দলীয় চেয়াপার্সনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিএনপি অন্ত:প্রাণ নেতাকর্মীরা। তা না হলে আন্দোলন সংগ্রামের সুঁতিকাগার নারায়ণগঞ্জের বিএনপি মুখ থুবড়ে পরবে বলে আশংকা তাদের। এবং আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে বিপ্লব ঘটাতে পারলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হবে না বলে হুশিয়ারী তৃণমূলের।

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র কথিত নেতা বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকু ইতিপূর্বে তাদের কর্মকান্ডে নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছেন। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দেওয়া হলেও সে মঞ্চে বসে তা বেমালুম হজম করে গেছেন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মুকুল।

তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাস্যোজ্জল ছবি বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখে মুকুল বিএনপি না আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপি’র তৃণমূল। তাছাড়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যখন ডিআইটির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা কেক কাটছিলেন, তখন মুকুল আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছিলেন।

পরে রাতে নিজ বাসভবনে বসে এড. আবুল কালামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। যা নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাছাড়া সদর-বন্দরের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শূণ্য আসনের উপ নির্বাচনে মুকুল প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। আর অতি সম্প্রতি বন্দরে একটি জনসভায় প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের সাথে কাজ করার ঘোষনা দিয়েছেন। আর মুকুলের এই ঘোষনায় আগুন জ¦লে উঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে। সেই সাথে সরকারী দলের দালাল মুকুলকে প্রশয় দেওয়া এবং মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি পদ দেওয়ার জন্য এড. আবুল কালামকে দায়ী করছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র আরেক বিতর্কিত নেতা শওকত হাশেম শকুর জন্যও আবুল কালামকে পস্তাতে হবে বলে মনে তৃণমূল। বিএনপি’র নেতা হয়েও শকুর সরকারী দলের এমপিদের গাড়ি বহরে ঘুরে বেড়ানোর চিত্র বহু পুরানো। প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যেখানে মামলা হামলায় দিশেহারা, সেখানে সরকারী দলের সাথে আতাত করে শকু দিব্যি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছেন। অথচ শকুর মতো দালালদের মহানগর কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হচ্ছে এড. আবুল কালামের কল্যাণে।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বহুরূপী চরিত্রের অধিকারী নেতা হাজী নুরুদ্দিন। উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহন নিয়ে আতাউর রহমান মুকুলের সাথে নুরুদ্দিনের ছিলো দীর্ঘদিনের বিরোধ। নুরুদ্দিনকে বন্দও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূও আলম খন্দকার। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র একাধীক নেতার সাথেও লড়াই করেছিলেন তৈমূর। কিন্তু তৈমূরকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র কোন পদে না রাখায় তৈমূরের সাথে পল্টি মারেন নুরুদ্দিন। তৈমূরের সাথে বেঈমানী করে যোগ দেন কালাম-মুকুলের শিবিরে। আর তাই তৃণমূল মনে কওে, যে নুরুদ্দিন তৈমূরের এতোসব অবদাণ অবলিলায় ভুলে যেতে পাওে, তার পক্ষে আবুল কালামকে ভুলে যেতে কতক্ষণ লাগবে!

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র রাজনীতিতে রহস্যজনক আর বিতর্কিত এক চরিত্রের অভিনেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তার এলোমেলো আচরণ আর অশালীণ কথাবার্তার জন্য দলের সাধারণ কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত টিপুকে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করে। কারন ব্যক্তি চরিত্র হননে টিপু পূর্ব পরিচয় কিংবা আন্তরিকতার প্রতি কোন প্রকার সম্মান প্রদর্শণ করেন না। আর তাই তৃণমূলে টিপু ‘পাকনা টিপু’ নামে বেশী পরিচিত। তাছাড়া তুচ্ছ কারনে যে কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পরা তার আরেকটি বদ অভ্যাস। আর এসব সামান্য ঝগড়ার কারনে জিডি কিংবা মামলার করার মতো ঘটনা ঘটেছে বহুবার। এমনকি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও তিনি বেশ কয়েকবার জিডি কিংবা মামলা করেছেন। তাই অনেকে তাকে ‘জিডি টিপু’ নামেও ডাকে।

তৃণমূল আরো জানায়, টিপু একেক সময় একেক জনের ছায়াতলে থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে থেকে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সহচর্যে ছিলেন সর্বক্ষণ। টিপুকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেয়ার কারনে নেতাকর্মীদের কথাও শুনতে হয়েছে সাখাওয়াতকে। পুরো নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটি ঘোষনা হওয়া পর্যন্ত সাখাওয়াতের সাথেই ছিলেন টিপু। আর যখনই আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনের বিষয়ে দলীয় সবুজ সংকেত মিললো, তখনই সাখাওয়াতকে ছেড়ে নতুন কোন পীরের সন্ধানে নামেন টিপু। যার প্রমাণ, পুরো নির্বাচনে সাখাওয়াতের সবচেয়ে কাছে থেকেও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করেননি টিপু। কিন্তু নির্বাচনের প্রায় ছয়মাস পরে বললেন, নির্বাচনে ওসমান পরিবার থেকে দুই কোটি টাকা নিয়েছেন সাখাওয়াত! টিপুর তখনকার সেই বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে। পাশাপাশি কাকে খুশি করতে সাখাওয়াতকে পল্টি মারলো টিপু, সে প্রশ্নও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। টিপুর মতো বিতর্কিত নেতাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিষ্ঠিত করার খেশারত গুণতে হবে এখন আবুল কালামকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here