নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৩ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠনের পর সাংগঠনিক ভাবে বেশ অগ্রসর হতে থাকলেও তাতে এখন বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ ‘অদৃশ্য’ বিভাজন।

বিশেষ করে ইদানীংকালে জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল একক ভাবে দলীয় কর্মসূচী পালন করায় এই বিভক্তি বা বিভাজন ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কিন্তু কি কারনে হঠাৎ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে এখনো কেউ বলছেন না।

অপরদিকে দেখাগেছে, জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে শহরের দলীয় কার্যালয়ে বাদল সম্প্রতি যত কর্মসূচীই পালন করছেন, সবগুলোতেই হেভীওয়েট নেতাদের মধ্যে একমাত্র আওয়ামী পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বিরুকেই দেখা যাচ্ছে। যা দেখে তৃণমূলের অনেকেই মন্তব্য করেন, আগামী নির্বাচনের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত নাকি বাদলের সার্বিক ‘ব্যাকআপ’ হচ্ছেন বীরু।

কারন, বাদল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় যেমন তার একজন ডোনার প্রয়োজন, তেমনি জেলা আওয়ামীলীগের সমর্থনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বীরুরও বাদলের প্রয়োজন রয়েছে। তাই উভয়েই এখন উভয়ের জন্য অত্যাবশকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

জানাগেছে, গত বছর ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

এরপর থেকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক যৌথ ভাবে দলীয় কর্মসূচী পালন করলেও সেখানে অনুপস্থিত থাকতেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের সময় বিভক্ত হয়ে পড়েন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

সকালে সাধারন সম্পাদক এবং সন্ধ্যায় সভাপতি পৃথক ভাবে জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান করেন। শুধু জন্মদিনেই নয়, গত ৭ অক্টোবর জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভ্যর্থণা জানানোর ক্ষেত্রেও পৃথক ভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় যান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় গত ১ নভেম্বর শহরের দলীয় কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে মিলাদ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল। যেখানে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: জাফর উল্লাহ বীরু।

সর্বশেষ জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ অফিসে জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের উদ্যোগে এই সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

যেখানে উপস্থিত ছিলেন, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. শামছুল ইসলাম, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: জাফর উল্লাহ বীরু।

অথচ, উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

আর একইদিন সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়ির সহ-সভাপতি ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।

এছাড়াও তৃণমূলকে পুনর্গঠিত করার লক্ষ্যে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো শুরু হয়নি এই কার্যক্রম। এমনকি সরকারের বিগত ৮ বছরের উন্নয়ণ কর্মকান্ড তৃণমূল পর্যায়ে তুলে ধরতে খোদ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকলেও এখনো অবধি জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে কোথাও ‘উঠান বৈঠক’ করা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু ‘উঠান বৈঠক’ এর নামে এখন আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি পদ প্রার্থীরা নিজেদের পরিচিতি জাহির করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

যা দেখে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, যেখানে মাত্র ৩ সদস্যের কমিটিতেই এক বছরের মধ্যে বিভাজনের সৃষ্টি হয়ে গেছে, সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরেও তো দলীয় নেতৃবৃন্দরা ফের দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

তবে আদৌ কি কারনে হঠাৎ করেই আব্দুল হাই আর বাদলের মধ্যে এই দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে, তা জানতে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের সাথে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেন নি।

আর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘তার সাথে ভিপি বাদলের কোন দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি। তবে কি কারনে বা কার প্ররোচনায় বাদল একা কর্মসূচী পালন করেন সেটা তিনি জানেন না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here