নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে যেমন নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্ষম হয়েছিল শ্রমিকেরা, ঠিক তেমনি ২০১৮ সালের একইদিনে পুলিশের সাথে একপ্রকার লড়াই করেই রাজপথে কর্মসূচি পালন করে বীরপুরুষের পরিচয় দিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান- এমনটাই দাবী করেছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে র‌্যালী ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সরকারী দল আওয়ামী লীগ বা বাম সংগঠনগুলো নির্বিঘেœ তাদের কর্মসূচি পালন করলেও পুলিশী বাঁধার মুখে পরেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

পুলিশ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ব্যানার ফেষ্টুন কেড়ে নেয়। কিন্তু পুলিশী বাঁধা উপক্ষো করেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান র‌্যালী সমাবেশ করলেও ব্যানার নিয়ে যাওয়ায় র‌্যালী না করে বাসভবনে প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলন করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম।

এমনকি সংবাদ সম্মেলনে নিজে না এসে সহ সভাপতি এড. জাকির হোসেনকে দিয়ে দায় সেরে নিজে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন কালাম। দলের একজন শীর্ষ নেতার এহন আচরনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল দশটায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে আয়োজিত শ্রমিক র‌্যালীর জন্য ব্যানার ফেষ্টুন দিয়ে ১০টি ভ্যান গাড়ি সাজানো হলেও শহরের ডিআইটি এলাকা থেকে পুলিশ সেসব ভ্যান গাড়ি থেকে ব্যানার ফেষ্টুন খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। পরে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মাকের্টের সামনে থেকে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে বর্নাঢ্য একটি র‌্যালী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এরপর সকাল এগারোটায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা শ্রমিক র‌্যালীর জন্য জড়ো হলে পুলিশ তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। এ সময় ব্যানার নিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের টানা হেঁচড়া ও বাক বিতন্ডা হয়। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু হয়ে একটি র‌্যালী মিশনপাড়ায় গিয়ে শেষ হয়।

একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক র‌্যালীর জন্য নগরীর ৫নং ঘাট এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পুলিশ সেখান থেকেও ব্যানার ফেষ্টুন কেড়ে নেয়। ব্যানার কেড়ে নেয়ায় আর র‌্যালী করেনি মহানগর বিএনপি। এর বদলে ব্যানার কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা।

কাজী মনির ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খান পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে নগরীতে শ্রমিক র‌্যালী করলেও আবুল কালামের গৃহবন্দি রূপে হতাশ হয়েছে তৃণমূল। বর্তমান সরকারের অধীনে কোন কর্মসূচিই নির্বিঘেœ করা যাবে না, পুলিশ তাতে বাঁধা দিবেই। কিন্তু সকল বাঁধাকে জয় করে কর্মসূচি সফল করতে হবে বলে অভিমত নেতাকর্মীদের। যেমনটা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। কাজী মনির ও এড. সাখাওয়াত পারলেও ব্যর্থ হয়েছেন আবুল কালাম আর এ ব্যর্থতার জন্য তার সদা ভীরু মানুষিকতাকেই দায়ী করছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here