নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নিহতদের পরিবারের পক্ষে থানায় কেউ মামলা না করায় কাশীপুরে জোড়া মার্ডারকারীদের শেল্টারদাতা মহানগর বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকার ও তার অনুজ হাসান আহাম্মেদ বেঁচে যাচ্ছেন বলে শংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
কেননা, হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের কেউ থানায় মামলা দায়ের না করায় বাধ্য হয়ে এদিন দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় জাহাঙ্গীর বেপারীকে প্রধান আসামী করে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। কিন্তু এজাহারে খুনীদের শেল্টারদাতা বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকার কিংবা হাসান আহাম্মেদের নাম ছিল না। যেই কারনে নিহতদের পরিবারের মামলা করায় অনীহার কারনে খুনীদের শেল্টারদাতারা বেঁচে যেতে পারেন বলে শংকা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, টাকা-পয়সা লেনদেন ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার কাশীপুর হোসাইনি নগর এলাকার মিল্টন বাহিনীর সঙ্গে শহরের ১নং বাবুরাইলের জাহাঙ্গীরের বিরোধ চলে আসছিল। তাদের মধ্যে ইতোপূর্বে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। ১২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত ১০ টার দিকে কাশীপুরের হোসাইনী নগর এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজে বসে ছিল মিল্টন ও পারভেজ। এ সময় জাহাঙ্গীর বেপারীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে রামদা চাপাতিসহ অস্ত্র নিয়ে ওই রিকশার গ্যারেজে হানা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা মিল্টন ও পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা নিজেদের আড়াল করতে রিকশার গ্যারেজসহ আশপাশের বৈদ্যুতিক লাইট ভাংচুর করে এবং রিকশার গ্যারেজে অগ্নিসংযোগ করে।

আর প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কাশীপুর হোসাইনী নগর ছবির হাওলাদারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া সাহেব আলীর পুত্র স্থানীয় ‘ছায়াবৃত্ত শ্রমজীবি সমবায় সমিতির মালিক ও সন্ত্রাসী মিল্টন (৩০) এবং তার সাথে থাকা পারভেজ (২৮) কে স্থানীয় ভূমিদস্যু মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বেপারীর নেতৃত্বে শহরের বাবুরাইল এলাকার মানিক মিয়ার পুত্র শহীদ, ভূইপাড়া আলসাবা এলাকার রকি, মামুনের ভাই ফয়সাল, মোক্তার, রবিনসহ প্রায় ২০/৩০ চাপাতি রাম দা হাতে দৌঁড়ে এসে রিক্সার গ্যারেজে প্রবেশ করেই কুপিয়ে হত্যা করে।

নিহত পারভেজ একই এলাকার মিজানুর রহমানের পুত্র ও উক্ত মাল্টিপারপাসের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত মিল্টন এবং হামলাকারীরাও মহানগর বিএনপি নেতা হাসান আহাম্মেদ-মজিদ খন্দকার অনুসারী ছিল। মিল্টন কয়েকদিন আগে শহরের বাবুরাইল এলাকায় একজনকে কুপিয়ে আহত করেছিল। যার রেশ ধরে এদিন সন্ধ্যায় রাজীবের গ্যারেজে বিচার শালিশী হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বিএনপি নেতা মজিদ খন্দকারসহ একদল লোক এখানে এসে একপর্যায়ে চলে যায়। এর প্রায় ঘন্টাখানেক পর ধারালো অস্ত্র হাতে প্রায় ২০/৩০ জন দুবৃর্ত্ত অটো রিক্সার গ্যারেজে ঢুকে মিল্টন ও তার সাথে থাকা পারভেজকে এলোপাথারি ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে গ্যারেজটিতে আগুন লাগিয়ে চলে যায়।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকান্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here