নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেছেন, ‘শুধুমাত্র লেখাপড়া জানাটাই এখন আর একমাত্র যোগ্যতা না, শিক্ষা ছাড়াও অন্য যে কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে গড়ে উঠারও অনেক সুযোগ রয়েছে। আমাদের অফিসে একজন এলএমএস পদের জন্য প্রয়োজন এইট পাশ, আবেদন করেন অনার্স-মাষ্টার্স পাশ ছেলেমেয়েরা। তাহলে শিক্ষার মানটা কোথায় ধরে রাখা গেলো। অথচ আমাদের দেশে এমনও অনেক শিল্পপতি রয়েছেন যারা কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক কিন্তু কোন রকমে নিজের নামটা লিখতে পারে। আর তাই বিশ^ এখন কারিগরী শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পরছে। আমাদেরকেও বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বেকার বসে না থেকে যুব সমাজ মাছ ধরে কিংবা চাষ করেও জীবনে সফলতা নিয়ে আসতে পারে।’


জাতীয় মৎস সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার (১৯ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া আরো বলেন, ‘দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এখন মাছ রফতানী করছি এবং আমরা পৃথিবীতে মাছ রপ্তানীতে চতুর্থ/পঞ্চম অবস্থানে রয়েছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে সকল মাছ শিকারী ও মাছ চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগের কারনে। কিন্তু আমাদেরকে এই সফলতা ধরে রাখতে হবে। জাটকা মাছ ধরা নিষেধ করে ও প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধ করার কারনে গত বছর ধনী-দরিদ্র সবাই ইলিশ খেতে পেরেছে। তাই এ অবস্থাকে ধরে রাখার জন্য সকল মৎস চাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। প্রজনন মৌসুমে যেসব মৎসজীবী অলস বসে থাকেন, তাদেরকে কার্ডের মাধ্যমে চাল দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুরে এ ব্যবস্থা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে নেই। আমি চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জের মৎসজীবীরাও যেন এই সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি নদী বা পুকুরের পানি দূষণ রোধ করতে হবে। পানি দূষিত হয়ে গেলে মাছ বিচরণের জায়গা হারাবে। তাই কৃষি এবং শিল্পে যে ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়, তা যাতে কোনভাবেই পানিতে মিশতে না পারে, সে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।’


এ সময় বিভিন্ন মৎসচাষীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন বলেন, ‘পানি দূষণের জন্য এসবি ডাইং, বর্ণালী ডাইং ও আরকে ডাইংয়ের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবো। তাদের ইটিপি আছে কিনা, তাদের প্রতিষ্ঠানের কারনে পানি দূষিত হচ্ছে কিনা, তা তদন্ত করে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন পেশ করবো।’


জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ এহসানুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ছারোয়ার হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, জেলা প্রণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শহিদুজ্জামান প্রমুখ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here