নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মাসদাইরে ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ‘ভিকি বাহিনী’। আর এতে সমন্ধি ভিকির অপকর্মের কারনে বদনাম হচ্ছে ভগ্নিপতি অয়ন ওসমানের!
কারন হিসেবে জানাগেছে, ৩/৪ বছর পূর্বেও ভিকিকে তেমন ভাবে চিনত না মাসদাইরবাসী। মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ভিকি রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলুর পুত্র হলেও মূলত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের একমাত্র পুত্র অয়ন ওসমানের সাথে নিজের একমাত্র বোনের বিয়ের পরেই ভগ্নিপতির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজের পরিচয় সর্বত্র জাহির করতে থাকেন ভিকি।

তারপরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পরেই মাসদাইরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে তান্ডব চালানোর ঘটনায় অয়ন ওসমানের সমন্ধি হিসেবে সংবাদ শিরোনাম হয়ে আলোচনায় উঠে আসেন ভিকি। পরবর্তীতে নিজের ইমেজ রক্ষার্থে অয়ন ওসমান নিজের সমন্ধি ভিকিকে একাধিকবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তাতে সায় দেয়নি ভিকি। বরং ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকেন তিনি।

যার ফলশ্রুতিতে, বিগত ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ জামতলায় এক প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় ভিকির বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর ১৯ জুন স নগরীর নিতাইগঞ্জে চটের ব্যাগ ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ভিকির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন তাঁরই চাচা টনি। কিন্তু তখন ভিকি গ্রেফতার না হলেও একই বছরের ৩০ আগস্ট রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এক সিএনজি চালককে বেধরক পিটিয়ে গণমাধ্যমে শিরোনাম হন ভিকি। এ ঘটনায় ওই সিএনজি চালক মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি থানার বাসিন্দা কামাল হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের পর ৩১ আগষ্ট সন্ধ্যায় মাসদাইরের নিজ বাসা থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার হন ভিকি।

কিন্তু গ্রেফতারের পর কারাগার অর্থাৎ সংশোধনাগারে গিয়েও নিজেকে সংশোধন করতে পারেন নি ভিকি। উপরন্তু সময় বাড়ার সাথে সাথে নিজের চাচাতো ভাই ও তাদের বন্ধুবান্ধবসহ আশপাশের এলাকার মাদক বিক্রেতা, ছিনতাইকারীসহ কিশোর গ্যাংদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেই বাহিনীর ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন, মাসদাইর এলাকার সৈয়দ কসাইয়ের পুত্র কাইল্যা আলামিন ওরফে নাডা আলামিন।

আর এই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ভিকির দুই চাচাতো সানি ও নেছার। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন গাবতলী কাপুড়াপট্টী এলাকার সহোদর হাসান ও হোসেনসহ ২৫/৩০ জনের কিশোর বাহিনী। যাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র বহনসহ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার ওয়েষ্টেজ মালামাল জবরদখল, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাসদাইর এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী অভিযোগ করেন, “আগে ভিকিকে এলাকাবাসী ঠিক তেমনভাবে কেউ চিনতো না। কিন্তু আমাদের স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের কাছে বোন বিয়ে দেয়ার পরেই অয়ন ওসমানের সমন্ধি হিসেবে নিজের পরিচিতি লাভ করে ভিকি। প্রায়ই দিনে-রাতে বিশাল বাহিনী নিয়ে হোন্ডা মহড়া দেয়াসহ ভিকিকে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজ বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বিভিন্নজনকে নিজের বাড়ীর পাশে থাকা একটি খালি মাঠে নিয়ে এসে মারধর নির্যাতন করতে দেখাগেছে। শুধু তাই নয়, ভিকি বাহিনীর সদস্যদের প্রায়ই দেশীয় অস্ত্র হাতে বিভিন্ন স্থানে দৌঁড়াতে দেখা যায়। এতে করে এলাকায় আতংক দেখার পাশাপাশি উঠতি বয়সী তরুণ সন্তানদের নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিকি মূলত প্রভাবশালী এমপির স্বজন হওয়ায়, তার নানা অপকর্মের পরেও পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয় না। তাই ভিকি বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানাগেছে, বর্তমানে ভিকি বাহিনী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তাঁর বোনের শ^শুড় সাংসদ শামীম ওসমান ও ভগ্নিপতি অয়ন ওসমানের কর্মী হিসেবে দীর্ঘ বছর যাবত রাজনীতি করে আসা একাধিক নেতার বিভিন্ন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর ওয়েষ্টেজ ব্যবসাও জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে সে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান। তার একাধিক গার্মেন্টের ওয়েষ্টেজ মালামালের ব্যবসা ভিকি বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ভিকি শুধুমাত্র অয়ন ওসমানের সমন্ধি হওয়ার কারনে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান কয়েকজন ভুক্তভোগী।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাসদাইর কেতাবনগর ও পুলিশ লাইনস এলাকার একাধিক গার্মেন্ট ও নীটিং কারখানার মালিকপক্ষ জানান, বেশ কয়েকবছর যাবত স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভাল মূল্যে ওয়েষ্টেজ মালামাল নামিয়ে আসলেও বিগত কয়েক মাস যাবত ভিকির নিদের্শে তার দলের আলামিন, সানি, নেছার ওরয়ে টোকাই নেছার, দুই ভাই হাসান-হোসেনসহ তাদের দলবল এসে নিজেদের অয়ন ওসমানের লোক পরিচয় দিয়ে পূর্বের ব্যবসায়ীদের সাথে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ বাধিয়ে তারা জোরপূর্বক মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। আর প্রায়ই এমন সংঘাত ও অস্ত্রের মহড়ার মত ঘটনা ঘটায় আমরা এখানে নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে শংকিত রয়েছি। তাই আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে ব্যবসায়ের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে ভিকি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় আমাদের এখান থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তর করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের অভিমত, আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভিকির কর্মকান্ডের কারনে বর্তমানে সাংসদ শামীম ওসমান ও তার পুত্র অয়ন ওসমানের যে বদনাম হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ভিকিকে যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে আগামী নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শংকা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভুগী গার্মেন্ট ওয়েষ্টেজ মালামাল ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ওসমান পরিবারের কর্মী হিসেবে দীর্ঘ বছর যাবত রাজনীতি করে আসছি। বেশ কয়েকমাস যাবত ভিকি আমাদের বিভিন্ন গার্মেন্টের ওয়েষ্টেজ মালামাল নামানোর প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু আমরা আমাদের নেতা শামীম ওসমান ও তার পুত্র অয়ন ওসমানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় ভিকির অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখনো প্রতিবাদ না করে সহনশীল আচরন করে যাচ্ছি। তবে যদি ভিকি আমাদের ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলে তাহলে আমরাও মাসদাইরবাসীকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াতে বাধ্য হবো।”

 

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা মাসদাইরবাসীর
বেপরোয়া ভিকি বাহিনী, বদনাম ভগ্নিপতির!
নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মাসদাইরে ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ‘ভিকি বাহিনী’। আর এতে সমন্ধি ভিকির অপকর্মের কারনে বদনাম হচ্ছে ভগ্নিপতি অয়ন ওসমানের!
কারন হিসেবে জানাগেছে, ৩/৪ বছর পূর্বেও ভিকিকে তেমন ভাবে চিনত না মাসদাইরবাসী। মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ওরফে ভিকি রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ লাভলুর পুত্র হলেও মূলত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের একমাত্র পুত্র অয়ন ওসমানের সাথে নিজের একমাত্র বোনের বিয়ের পরেই ভগ্নিপতির নাম ভাঙ্গিয়ে নিজের পরিচয় সর্বত্র জাহির করতে থাকেন ভিকি।
তারপরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন পরেই মাসদাইরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে তান্ডব চালানোর ঘটনায় অয়ন ওসমানের সমন্ধি হিসেবে সংবাদ শিরোনাম হয়ে আলোচনায় উঠে আসেন ভিকি। পরবর্তীতে নিজের ইমেজ রক্ষার্থে অয়ন ওসমান নিজের সমন্ধি ভিকিকে একাধিকবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তাতে সায় দেয়নি ভিকি। বরং ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকেন তিনি।
যার ফলশ্রæতিতে, বিগত ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ জামতলায় এক প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় ভিকির বিরুদ্ধে মামলা হয়। এরপর ১৯ জুন স নগরীর নিতাইগঞ্জে চটের ব্যাগ ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ভিকির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন তাঁরই চাচা টনি। কিন্তু তখন ভিকি গ্রেফতার না হলেও একই বছরের ৩০ আগস্ট রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এক সিএনজি চালককে বেধরক পিটিয়ে গণমাধ্যমে শিরোনাম হন ভিকি। এ ঘটনায় ওই সিএনজি চালক মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি থানার বাসিন্দা কামাল হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের পর ৩১ আগষ্ট সন্ধ্যায় মাসদাইরের নিজ বাসা থেকে ডিবির হাতে গ্রেফতার হন ভিকি।
কিন্তু গ্রেফতারের পর কারাগার অর্থাৎ সংশোধনাগারে গিয়েও নিজেকে সংশোধন করতে পারেন নি ভিকি। উপরন্তু সময় বাড়ার সাথে সাথে নিজের চাচাতো ভাই ও তাদের বন্ধুবান্ধবসহ আশপাশের এলাকার মাদক বিক্রেতা, ছিনতাইকারীসহ কিশোর গ্যাংদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেই বাহিনীর ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন, মাসদাইর এলাকার সৈয়দ কসাইয়ের পুত্র কাইল্যা আলামিন ওরফে নাডা আলামিন।
আর এই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ভিকির দুই চাচাতো সানি ও নেছার। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন গাবতলী কাপুড়াপট্টী এলাকার সহোদর হাসান ও হোসেনসহ ২৫/৩০ জনের কিশোর বাহিনী। যাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র বহনসহ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন, বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার ওয়েষ্টেজ মালামাল জবরদখল, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাসদাইর এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী অভিযোগ করেন, “আগে ভিকিকে এলাকাবাসী ঠিক তেমনভাবে কেউ চিনতো না। কিন্তু আমাদের স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের কাছে বোন বিয়ে দেয়ার পরেই অয়ন ওসমানের সমন্ধি হিসেবে নিজের পরিচিতি লাভ করে ভিকি। প্রায়ই দিনে-রাতে বিশাল বাহিনী নিয়ে হোন্ডা মহড়া দেয়াসহ ভিকিকে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজ বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বিভিন্নজনকে নিজের বাড়ীর পাশে থাকা একটি খালি মাঠে নিয়ে এসে মারধর নির্যাতন করতে দেখাগেছে। শুধু তাই নয়, ভিকি বাহিনীর সদস্যদের প্রায়ই দেশীয় অস্ত্র হাতে বিভিন্ন স্থানে দৌঁড়াতে দেখা যায়। এতে করে এলাকায় আতংক দেখার পাশাপাশি উঠতি বয়সী তরুণ সন্তানদের নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিকি মূলত প্রভাবশালী এমপির স্বজন হওয়ায়, তার নানা অপকর্মের পরেও পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয় না। তাই ভিকি বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানাগেছে, বর্তমানে ভিকি বাহিনী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তাঁর বোনের শ^শুড় সাংসদ শামীম ওসমান ও ভগ্নিপতি অয়ন ওসমানের কর্মী হিসেবে দীর্ঘ বছর যাবত রাজনীতি করে আসা একাধিক নেতার বিভিন্ন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর ওয়েষ্টেজ ব্যবসাও জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে সে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান। তার একাধিক গার্মেন্টের ওয়েষ্টেজ মালামালের ব্যবসা ভিকি বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ভিকি শুধুমাত্র অয়ন ওসমানের সমন্ধি হওয়ার কারনে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাসদাইর কেতাবনগর ও পুলিশ লাইনস এলাকার একাধিক গার্মেন্ট ও নীটিং কারখানার মালিকপক্ষ জানান, বেশ কয়েকবছর যাবত স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভাল মূল্যে ওয়েষ্টেজ মালামাল নামিয়ে আসলেও বিগত কয়েক মাস যাবত ভিকির নিদের্শে তার দলের আলামিন, সানি, নেছার ওরয়ে টোকাই নেছার, দুই ভাই হাসান-হোসেনসহ তাদের দলবল এসে নিজেদের অয়ন ওসমানের লোক পরিচয় দিয়ে পূর্বের ব্যবসায়ীদের সাথে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ বাধিয়ে তারা জোরপূর্বক মালামাল নিয়ে যাচ্ছেন। আর প্রায়ই এমন সংঘাত ও অস্ত্রের মহড়ার মত ঘটনা ঘটায় আমরা এখানে নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে শংকিত রয়েছি। তাই আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে ব্যবসায়ের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে ভিকি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় আমাদের এখান থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র স্থানান্তর করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
স্থানীয় রাজনীতিবিদদের অভিমত, আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভিকির কর্মকান্ডের কারনে বর্তমানে সাংসদ শামীম ওসমান ও তার পুত্র অয়ন ওসমানের যে বদনাম হচ্ছে, সেক্ষেত্রে ভিকিকে যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে আগামী নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শংকা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভুগী গার্মেন্ট ওয়েষ্টেজ মালামাল ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ওসমান পরিবারের কর্মী হিসেবে দীর্ঘ বছর যাবত রাজনীতি করে আসছি। বেশ কয়েকমাস যাবত ভিকি আমাদের বিভিন্ন গার্মেন্টের ওয়েষ্টেজ মালামাল নামানোর প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু আমরা আমাদের নেতা শামীম ওসমান ও তার পুত্র অয়ন ওসমানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় ভিকির অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখনো প্রতিবাদ না করে সহনশীল আচরন করে যাচ্ছি। তবে যদি ভিকি আমাদের ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করে ফেলে তাহলে আমরাও মাসদাইরবাসীকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াতে বাধ্য হবো।”

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here