নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রায় দেড় মাস পর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্তই যথাসময়ে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ বলে দাবী করেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা।
কারন, বিলম্বে হলেও যেমন গঠিত হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তেমনি কমিটি ঘোষণার পর একটু দেরীতে হলেও গত ১৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের ২ নং রেলগেটস্থ কার্যালয়ে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকটি।

সেদিন জেলা কমিটিতে পদ প্রাপ্ত এমপি, মেয়রসহ হেভীওয়েট নেতাদের আগমনে মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল দলীয় কার্যালয়। আর প্রায় দেড় যুগ পর গঠিত জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের মাঝে বিরাজ করেছিল প্রাণোচ্ছাস।

এরপর সভায় পরবর্তী করনীয় বিষয়ে কমিটির সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়েছিল তিনটি সিদ্ধান্ত। যার মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্তটি হয়েছিল, ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করবে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতৃবৃন্দরা।

আর দ্বিতীয়টি ছিল, সাত থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সাথে আলোচনা করে নতুন সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রম বেগবান করা। তৃতীয়টি, জেলা কমিটির শূণ্য ৬টি পদে যোগ্যদের দ্রুত পদায়ন করা।

তন্মধ্যে, সম্প্রতি সদর থানাধীন এলাকায় দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের গৃহিত তিনটি সিদ্ধান্তের মধ্যে একটির বাস্তবায়নে অগ্রগতি হলেও কার্যত পক্ষে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতৃবৃন্দরা পূর্ব নির্ধারিত দিনে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের মাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারা, দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষস্থানীয়দের ব্যর্থতা বলে দাবী করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা।

এমনকি পূর্ব নির্ধারিত সময়ে টুঙ্গিপাড়ায় যেতে না পারার কারন সম্পর্কেও জেলার সভাপতি বা সেক্রেটারী কমিটির সদস্যদের মৌখিক কিংবা আনুষ্ঠানিক ভাবে অবগত না করায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা।

কারন হিসেবে কমিটির একজন কার্যকরী সদস্য বলেন, ‘অনেক আশা করেছিলাম, হয়তো বা দলীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে জাতির পিতার মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করতে যাব টুঙ্গিপাড়ার সেই অজপাড়া গাঁয়ে। যেখানে একদিন জন্মেছিলেন, এই স্বাধীন বাংলার স্থপতি ও স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্য, সেখানে আর যথাসময়ে যাওয়া হলো না। তবে কি কারনে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা পূর্ব নির্ধারিত সময়ে টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করেছেন, সেই ব্যাপারেও আমাদের কোন কিছুই কেউ জানায়নি। যেটা দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ছিল।’

তবে কি কারনে পূর্ব নির্ধারিত ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার মাজার জিয়ারতে যাওয়া সম্ভব হয়নি, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘আমরা শীঘ্রই টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের মাজার জিয়ারতে যাব। দু’একদিনের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়দের সাথে ঘরোয়া বৈঠক করেই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।’

কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত সময়ে টুঙ্গিপাড়ায় যেতে না পারার কারন সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি আব্দুল হাই।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির ঘোষণার প্রায় বছর খানেক পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কমিটির সহ-সভাপতিরা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, এড. আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, আব্দুল কাদির, শিকদার গোলাম রসুল, আদিনাথ বসু ও খাজা রহমত উল্লাহ।
যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলম, ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও ইকবাল পারভেজ।

আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ উর রউফ, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক খলিল হাসান, ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলমাছ ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ মানজারী আলম (টুটুল), শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী আলম নিলা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মো. নিজাম আলী।

সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, মীর সোহেল আলী, একেএম আবু সুফিয়ান।

উপ দপ্তর সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির।

আর ৩৪ জন কার্যকরী সদস্য হলেন, গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি (বীর প্রতিক), নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, হোসনে আরা বাবলী এমপি, এমদাদুল হক ভুঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, মোশারফ হোসেন, হাজ্বী আমজাদ হোসেন, মো. মির্জা সোহেল, আবুল বাশার টুকু, সাইফুল্লাহ বাদল, মোহাম্মদ মতিউর রহমান, শওকত আলী, মাসুম রহমান, হালিম শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের ডিলার, বিএম কামরুজ্জামান ফারুক, তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, শাহজাহান ভূঁইয়া, শাহজালাল মিয়া, হেলো সরকার, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম, আব্দুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শীলা রাণী পাল, অ্যাডভোকেট ইসহাক, শামসুজ্জামান ভাষানী, মেজর (অব.) মশিউর রহমান, সাদেকুর রহমান, মজিবুর মন্ডল, ইউসুফ ভূইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here