নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপি’র মহা সমাবেশে শো ডাউনের মাধ্যমে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটা প্রতিযোগিতা ছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র এমপি প্রার্থীদের।
আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন প্রার্থীর মধ্যে ঐদিন ঢাকায় দেখাই যায়নি সাবেক এমপি এড. আবুল কালামকে, যদিও গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে সমাবেশে কালামের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র যোগদানের কথা।

পক্ষান্তরে এ আসনেরই অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও মাকসুদুল আলম খন্দকারের নজর কাড়া উপস্থিতি প্রশংসিত হয়েছে সবখানে। নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল শোডাউনের মাধ্যমে চমক দেখিয়েছেন তারা।

সূত্রে প্রকাশ, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি পায় বিএনপি। আর তাই সমাবেশকে সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জকে গুরুত্ব দেয়া হয় সবচেয়ে বেশী। আর সামনে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও নিজেদেরকে প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহা সমাবেশকে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যোগ দিলেও আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামকে ঢাকায় খুঁজেই পায়নি নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, বিএনপি’র সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা মুখী সকল যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয় রবিবার। কিন্তু বিকল্প উপায়ে শত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশেপাশে অবস্থান নেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। এবং বিশাল মিছিল নিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মাতিয়ে রাখেন ঢাকার রাজপথ। নেতার স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহনের কারনে উজ্জীবিত হয় কর্মীরা। বিশাল শো ডাউন করে সমাবেশ স্থলে পৌছেও অব্যহত থাকে নেতাকর্মীদের প্রাণের উচ্ছাস। বহুদিন পর ঢাকার রাজপথে বিএনপি’র পক্ষে শ্লোগান দিতে পেরে বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে মাতেন নেতাকর্মীরা। আর এসব কিছুর অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রশংসিত হন সাখাওয়াত ও খোরশেদ।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম এদিন পুরোই নিস্প্রভ ছিলেন বলে মনে করে তৃণমূল। কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নিলেও সেখানে দেখা মিলেনি সভাপতি এড. আবুল কালামের।

সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দেশের বাইরে থাকায় দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে দায়সারা গোছের মিছিল নিয়ে যোগ দেয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি।

ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কথা লেখা থাকলেও মহানগর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকারসহ মহানগর বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নেতাকে মিছিলের পিছনের সারিতে দেখা গেলেও কালাম পুত্র আশা ছিলেন অগ্রভাগে, যা খুবই দৃষ্টি কটু ঠেকেছে নেতাকর্মীদের কাছে। ঢাকা যাওয়া থেকে শুরু করে সমাবেশের কোথাও এড. আবুল কালামের দেখা পায়নি নেতাকর্মীরা। অথচ গন মাধ্যমে প্রচার করা হয় এড. আবুল কালামের নেতৃত্বে সমাবেশে যোগ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি- যা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে নেতাকর্মীদের মনে। আর এতে করে নিজেকে প্রমাণের মঞ্চে আবুল কালাম পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছেন বলে ধারনা তৃণমূলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here