বড় পরিবর্তন আনছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান ‘ভয়ানক’ ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইনে বড় ধরনের এটা “ছাঁট” দিতে যাচ্ছি।’ খবর বিবিসি অনলাইনের।

২০০৮ সালের আর্থিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ঘরবাড়ি হারিয়ে দেউলিয়া হন। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ২০০৮ সালের ওই আর্থিক সংকটের সূচনা হয়। ওই সময়ের সংকট ঠেকাতে মার্কিন কংগ্রেস ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইন প্রণয়ন করে। ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইনের আওতায় পরবর্তীকালে কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো (সিএফপিবি) গঠিত হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই সিনেটর ক্রিস ডড ও বার্নি ফ্র্যাঙ্ক এই আইন প্রবর্তন করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৩০০ পৃষ্ঠার আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১০ সালে অনুমোদন করেন।

ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইনের লক্ষ্য ছিল ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমানো। তবে ট্রাম্প মনে করেন, এই আইনের একটা শক্ত পরিবর্তন প্রয়োজন। গতকাল হোয়াইট হাউসে ৫০ জন ব্যবসায়িক নেতার সঙ্গে এক সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা শক্ত বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ চাই। তবে এমন নিয়ন্ত্রণ নয়, যেখানে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণই পাবে না জনগণ এবং যার ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা ব্যাংকিং খাতের জন্য ভালো—এমন কিছু ভালো কাজই করতে যাচ্ছি। আমরা চাই, যাদের দরকার, তারা ঋণ নিক ব্যাংক থেকে।’

প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য সমর্থন করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমন। গতকালই শেয়ারহোল্ডারদের দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমি বলেন, নিয়ন্ত্রণের বোঝা অপ্রয়োজনীয় রকম জটিল, এটি ব্যয়সাপেক্ষ এবং কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর। তিনি মনে করেন, ডড-ফ্র্যাঙ্ক আইন কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য অতিরিক্ত জটিল করে তৈরি। যার মানে ব্যাংকব্যবস্থার পতন ঠেকানো গেলেও ক্ষত তৈরি হয়েছে।

গত বছর ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাংকিং খাতে শিথিলতা আনা হবে—এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ লক্ষ্য চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালের ডড-ফ্র্যাঙ্ক আর্থিক নীতি পর্যালোচনা করতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here