নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবার ব্রাজিলের সাথে সরাসরি বাণিজ্য শুরু করতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রস্তাব রেখেছেন বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকালে বিকেএমইএ ঢাকা কার্যালয়ে ব্রাজিলে বাংলাদেশের নীটওয়্যার পণ্য রপ্তানি ও বাণিজ্য বাধা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে নব নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের সাথে বিকেএমইএ’র ‘প্রমোশন অব নীটওয়্যার এক্সপোর্ট ইন ব্রাজিল, আনলকিং দ্যা পটেনশিয়ালস’ শীর্ষক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সেলিম ওসমান এ প্রস্তাব রাখেন।

বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেইরা জুনিয়র।

ব্রাজিল রাষ্ট্রদূর্তের দৃষ্টি আকর্ষন করে সেলিম ওসমান বলেন, পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন যেকোনো দেশের জন্য আকাক্সিক্ষত। ব্রাজিলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বৈদেশিক বাণিজ্য আরো জোরদার হবে।

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নীটওয়্যার রপ্তানিকারক এবং দেশের মোট জিডিপিতে নীটওয়্যারের অবদান ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নীটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিলো ১৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি বাণিজ্যে এর অবদান ৩৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ ফুটবলে জার্সি সরবরাহ করেছিলো বাংলাদেশ। আবার ব্রাজিল থেকে নীটপণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি করে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশ-ব্রাজিল আন্ত ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে। বিকেএমইএ সৃষ্টি লগ্ন থেকে নীট পণ্যের বাজার তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বিকেএমইএ সভাপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় ব্রাজিল দূতাবাসে একটি বাণিজ্য শাখা খুলে তার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ব্রাজিল সরাসরি বাণিজ্য ও এ বিষয়ে বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধান এবং বাংলাদেশি নীটওয়্যার ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রাপ্তি সহজীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। এছাড়া বাংলাদেশি নীটওয়্যার রপ্তানিকারকদের জন্য তিনি তার দেশের আমদানি ও রপ্তানিকারকদের হালনাগাদ তথ্য বিকেএমইএ-কে সরবরাহ করবেন বলে জানান।

প্রসঙ্গত, বাজার সম্প্রসারণে গত ২০১৫ সালে বিডিএফ সম্মেলনে নীটওয়্যার রপ্তানির বিকল্প বাজার সম্প্রসারণের জন্য বিকেএমইএ এর প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকায় দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার নীটওয়্যার রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার পাশাপাশি ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিকেএমইএ গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বের বাজারগুলোকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে বাজার উন্নয়নে কাজ করছে। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল বাংলাদেশের নীটওয়্যার রপ্তানির জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাময় দেশ। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্রাজিলের নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন বিকেএমইএ সভাপতি।

এছাড়াও ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন যেকোনো দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ব্রাজিল দূতাবাসের মাধ্যমে সে দেশের ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আলোচনা ও যৌথ বৈদেশিক বিনিয়োগে বিকেএমইএ আগ্রহী বলে তিনি জানান। এর পাশাপাশি বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত রপ্তানিকারকদের ব্রাজিলে ভিসা প্রাপ্তি সহজীকরণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান বিকেএমইএ সভাপতি। এছাড়া রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ব্রাজিলের আমদানি ও রপ্তানিকারকদের হালনাগাদ তালিকা আহ্বান করেন তিনি। সেই সাথে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে পারস্পারিক তথ্য আদান প্রদান ও বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন সহজতর করতে ব্রাজিলের নীট আমদানিকারকদের নিয়ে সেমিনার আয়োজনের প্রস্তাব করেন বিকেএমইএ সভাপতি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন নীট পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল তুলা আসে ব্রাজিল থেকে। তাই যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা ব্রাজিলে স্পিনিং মিল স্থাপনের মাধ্যমে তুলা থেকে সুতা উৎপাদন করে তা বাংলাদেশে আমদানি করে নীটপণ্য তৈরি করতে পারে। এই তৈরিকৃত নীটপণ্য আমদানিতে ব্রাজিল শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করতে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এফটিএ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক প্রস্তাবকে সমর্থন করে সেটিকে এগিয়ে নিতে বৈঠকে উপস্থিত উভয় দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান এবং উভয় দেশের চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপনের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন সেলিম ওসমান।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিল দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব দ্যা মিশন জুলিও সিজার সিলভিয়া এবং কনসুলার শাখার প্রধান মিল্টন ডি ফুগেইরেডো কুটিনহো ফিলহো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সটিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা উইংয়ের ডিরেক্টর সেহেলি সাবরিন, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ এবং দ্বিতীয় সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহ্সানসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here