নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সনাতম ধর্মালম্বীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী আজ। শ্রীকৃষ্ণ হলেন বিষ্ণুর অবতার। তার পবিত্র জন্মতিথিকে বলা হয় জন্মাষ্টমী।
আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথিকে কেন্দ্র করেই পালন করা হয় শুভ জন্মাষ্টমী। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞেরও আয়োজন করা হয়েছে। ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা, গীতাযজ্ঞ, কৃষ্ণপূজা, পদাবলি কীর্তন করবেন ভক্তরা।

সোমবার (১৪ আগষ্ট) সকাল ৯টায় শহরের দেওভোগ শ্রীশ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া প্রাঙ্গন হতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হবে।

শহরের ডিআইটিস্থ ডায়মন্ড সিনেমা হলেন সামনে প্রধান সড়কে শোভাযাত্রাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি শংকর সাহা।

তিনি নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গন থেকে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা নিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে ডায়মন্ড হলের সামনে উপস্থিত হতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে দেওভোগ আখড়া থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে এখানে এসে মিলিত হবে। শোভাযাত্রাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের জন্য সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা উদ্বোধনের পরই নগরীতে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে।’

তিনি আরো জানান, ‘যেহেতু একদিন পরেই ১৫ আগষ্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী, তাই ১৪ আগষ্ট জন্মাষ্টমী উদযাপনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থণা সভাও অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া এদিন সন্ধ্যায় দেওভোগ লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ায় জন্মষ্টমী উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ধর্মীয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’

এদিকে, নগরীতে জন্মষ্টমীর শোভাযাত্রা উপলক্ষে যেকোন ধরনের নাশকতা রোধে প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্দির গুলোতে আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন করেছে পুলিশ প্রশাসন।

উল্লেখ্য, দ্বাপর যুগে পাশবিক শক্তি যখন সত্য, সুন্দর ও পবিত্রতাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই অসুন্দর, অসুর ও দানবীয় পাশবিক শক্তিকে দমন করে মানবজাতিকে রক্ষা এবং শুভশক্তিকে পুন:প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল পূর্ণ অবতার রূপে। পূর্ণ অবতার বলতে ভগবান বিষ্ণুর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিকে নির্দেশ করে এবং ঈশ্বরের শক্তি ও গুণাবলি প্রদর্শন করাকে বোঝানো হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রীকৃষ্ণকে ঈশ্বর, ভগবান, গোবিন্দ, পরমেশ্বর প্রভৃতি নামে অভিহিত করে।

হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সৌর ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে যখন রোহিণী নক্ষত্রের প্রাধান্য হয়, তখন জন্মাষ্টমী পালিত হয়।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পিতার নাম বাসুদেব ও মাতার নাম দেবকী। তিনি পিতামাতার অষ্টম পুত্র। রাজা উগ্রসেনের পুত্র কংসের কারাগারে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হন। পিতা বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে জন্মরাত্রেই দৈবসহায়তায় কারাগার থেকে তাঁকে গোকুলে যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের রাত ছিল গভীর অন্ধকার। তাঁর আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে বাসুদেব দেখলেন শিশুটি চার হাতে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম ধারণ করে আছেন। দেখে তিনি বুঝতে পারলেন জগতের মঙ্গলার্থে পূর্ণবৃক্ষ নারায়ণ তাদের ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন। বাসুদেব করজোড়ে প্রণাম ও বন্দনার পর দেবকী প্রার্থনা করলেন। শ্রীকৃষ্ণ একজন সাধারণ শিশুর রূপ ধারণ করলেন।

বাল্যকাল থেকেই কৃষ্ণ তাঁর অলৌকিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছিলেন পুতনাবধ, দামবন্ধন লীলা, কলীয়দমন, গোর্বধন ধারণ প্রভৃতি কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে। নিপীড়িত মানুষ মুক্তির আশায় কানুর তথা কৃষ্ণের অনুসারী হয়ে ওঠে এবং ক্রমান্বয়ে কংসবধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। অবশেষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংস রাজাকে বধ করে জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here