নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ঐক্যের ডাক দিয়ে কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যাওয়া নেতাদের কর্মকান্ডে হতবাক নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। একই সাথে দলের সিনিয়র নেতাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগছে দলে আগত নতুন কর্মীরা। ফলে আগামীতে সরকার পতনসহ দলীয় যে কোন আন্দোলনে এসকল নেতাদের উপড় ভরসা রাখতে পারছেনা তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

জানাযায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে গত ১১ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। এসময় সংগঠনের সিনিয়র নেতারা তাদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানান। পাশাপাশি আগামীতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সরকার পতনসহ সকল আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকার প্রতিশ্রতি দিলেও পুলিশের অবস্থান ব্যগতিক দেখে অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রেখেই চম্পট দেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনির, সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ দলের সিনিয়র নেতারা। শেষে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামলে পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হলে আতংক ছড়িয়ে পরে নেতাকর্মীদের মাঝে। এসময় মিছিলে অংশ নেয়া কর্মীরা দিক-বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করে।

এদিকে পুলিশ আতংকে বিএনপি’র কর্মীরা যখন রাস্তায় ছুটাছুটি করছিল, ঠিক তখনই নগরীর হক প্লাজায় নিরাপদে অবস্থান নেন সভাপতি কাজী মনির, সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ দলের সিনিয়র নেতারা। দলীয় কর্মীদের এমন করুণ অবস্থায় তাদের পাশে এসে দাড়ানোর পরিবর্তে ওইসকল সিনিয়র নেতারা নিজেদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে তাদের এহেন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, যাদের উপড় জেলা বিএনপি’র কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে, কর্মীরা যাদেররকে অভিভাবকের মতো অনুসরন করে রাজপথে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে, তাদের এমন আচরণে এখন ভরসাহীন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। যার ফলে আগামীতে সরকার পতনসহ দলীয় আন্দেলনে কর্মীদের রাজপথে অংশগ্রহণে ভাটা পরবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

তৃণমূল নেতৃবৃন্দ আরো দাবী করেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে রেখে সিনিয়র নেতাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কর্মীদের মনে ভীতির সৃষ্টি করেছে। এটি তাদের নেতৃত্বের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনে ভুল সিদ্ভান্ত নিয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দলের সাধারণ কর্মীদের। আর এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এসকল নেতাদের ডাকে রাজপথ থেকে বিরত থাকবে কর্মীরা। যা দলের জন্য মোটেও সুখকর নয় বলেও দাবী করেন তারা।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর আবারো চরাও হচ্ছে সরকারী দল ও প্রশাসন-এমনটাই জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। অতি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠন ও পুলিশের বাঁধা এবং মামলা দায়েরের কারনে তৃণমূলের এমন ধারনার জন্ম হয়েছে। আর আবারো মামলার ভয়ে রাজপথে কর্মসূচির বদলে গৃহবন্দি কর্মসূচি পালন করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। যা আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here