নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ভোট উৎসবে রীতিমত সরগরম হয়ে উঠেছে প্রাচ্যের ডান্ডিত খ্যাত জেলা নারায়ণগঞ্জ। চায়ের টেবিল থেকে বাসা-বাড়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সর্বত্রই যেন বইছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ।

আর দেশের প্রধান বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের পাশাপাশি দ্বিতীয় বৃহৎ দল বিএনপিও এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি এবার ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভোট উৎসবের আমেজ একটু বেশীই উপলব্ধ হচ্ছে বলে অভিমত, রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মহলের।

তাদের মতে, গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতেই আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু একাদশ নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করায় এবার আর বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না কেউ।

তাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে সৎ, যোগ্য ও উন্নয়ণে সক্ষম এমন প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করার সুযোগ পেয়ে বেশ ভাল লাগছে বলে জানান, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নবীণ ও প্রবীণ ভোটাররা।

পাশাপাশি তারা এও প্রত্যাশা করেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর সাধারন ভোটাররা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র আমানত ভোটাধিকার প্রয়োগের আগমুহুর্ত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ভোট উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে অবশ্যই নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত নির্বাচন কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সদা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কঠোর ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অবশ্যই ভোট উৎসবে সামিল হওয়া নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের যোগ্য জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে সক্ষম হবেন।

তাছাড়াও আগামীতে কোন দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশ ও জনগণের উন্নয়ণ হবে, কাকে ভোট দিলে মঙ্গলদায়ক হবে, এনিয়েও এখন সাধারন ভোটারদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, জেলার সংসদীয় ৫টি আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাম রাজনৈতিক দলগুলোসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সর্বমোট ৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

যার মধ্যে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ এ কে এম সেলিম ওসমান (লাঙ্গল), জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম (ধানের শীষ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাজী মো. আবুল কালাম (হাত পাখা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল প্রার্থী আবু নাঈম খান বিপ্লব (মই), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ মো. কবির হোসেন (দেয়াল ঘড়ি), সিপিবির প্রার্থী এড. মন্টু ঘোষ (কাস্তে), জাকের পার্টির মোর্শেদ হাসান (গোলাপ ফুল) প্রতীক পেয়েই মাঠে নেমে পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান নৌকা), জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জেলা জমিয়তে উলামায়ে সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী (ধানের শীষ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী সেলিম মাহমুদ (মই), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী মাহমুদ হোসেন (কোদাল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (হাত পাখা), সিপিবির প্রার্থী ইকবাল হোসেন (কাস্তে), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রার্থী মো. ওয়াজি উল্লাহ মাতব্বর অজু (কুঁড়েঘর) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে মো. জসীম উদ্দিন (বট গাছ) দলীয় প্রতীক নিয়ে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা (লাঙ্গল), জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ আজহারুল ইসলাম মান্নান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত (সিংহ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মো. ছানাউল্লাহ নূরী (হাত পাখা), সিপিবির প্রার্থী আব্দুস সালাম বাবুল (কাস্তে), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল প্রার্থী জেএসডির এ এন এম ফখর উদ্দিন ইব্রাহীম (পদ্মফুল), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান (ফুলের মালা) ও জাকের পার্টির প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেন জামাল (গোলাপ ফুল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় নেমে পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম বাবু নৌকা), জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ (ধানের শীষ), সিপিবির প্রার্থী কমরেড হাফিজুল ইসলাম (কাস্তে) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাসির উদ্দিন (হাত পাখা) প্রতীকে গণসংযোগে নেমে পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক নৌকা), জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির উন্মুক্ত প্রার্থী হিসেবে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আজম খান (লাঙ্গল), সিপিবির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দন (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইমাদুল্লাহ (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী মাহফুজুর রহমান (গোলাপ ফুল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান (সিংহ) নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থণা শুরু করে দিয়েছেন।

আর গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচার-প্রচারনায় নেমে পড়ায় এখন ভোট উৎসবে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জেলা নারায়ণগঞ্জ।
এদিন প্রতীক পাওয়ার পরই সংসদীয় ৫টি আসনের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে সাঁটানো শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টার-ফেস্টুন। চায়ের দোকান থেকে বাসা-বাড়ী, সর্বত্রই গিয়ে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক সম্বলিত লিফলেট পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তাদের কর্মী সমর্থকরা।

এছাড়াও পথসভা কিংবা উঠান বৈঠক, নবীণ কিংবা প্রবীণ, সকল শ্রেণীপেশার নারী-পুরুষ ভোটারদের মন জয়ে এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পাড়া চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট। হাতে সময় খুবই কম। এরই মধ্যে নিজের পক্ষে ভোটের জোয়ার তুলতে হবে। তাই ভোটারদের মন জয়ে তাদের সঙ্গে হাত মেলানো, প্রবীণ ও নবীণদের বুকে টেনে নেয়াসহ বয়স্ক নারী ভোটারদের হাত নিজের মাথায় রেখে আশীর্বাদ চাওয়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ণে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন এমপি প্রার্থীরা।

তাছাড়া, নৌকা, লাঙ্গল, ধানের শীষসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের সমর্থনে চলছে মাইকিং। সর্বত্রই উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here