নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বয়সে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল মজিদ খন্দকার। প্রত্যাশা ছিল আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হওয়ার।
আর তারই ভাই বিএনপি নেতা হাসান আহাম্মেদ সদ্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে নিজের স্ত্রী আফসানা আফরোজ বিভাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন রাজত্ব কায়েম করার।

কিন্তু বিধি বাম! এখন সেই মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদকে খুনের নির্দেশ দাতা হিসেবে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতে পারে এবার। ঠিক যেমনটা, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ড প্রাপ্ত আওয়ামীলীগ নেতা নূর হোসেনের মতন।

কেননা, মূলত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলামকে শুধুমাত্র হত্যার জন্য ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল তারেক সাঈদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নূর হোসেন। কিন্তু র‌্যাবের বিপদগামী সদস্যরা তারেক সাঈদের নির্দেশ মোতাবেক নজরুল ইসলামকে অপহরন কালে আইনজীবী চন্দন সরকার দেখে ফেলায় তাকেও অপহরন করে গাড়ী তুলে নিয়ে যান। এসময় নজরুল ও চন্দন সরকারের সাথে থাকা তাদের গাড়ী চালকসহ আরো ৫ জনকেও অপহরন করে নিয়ে যায় র‌্যাব সদস্যরা।

এরপর নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেন হত্যাকান্ডে জড়িত র‌্যাব সদস্যরা।

কিন্তু নজরুল ইসলাম অপহরনের পর থেকেই এর জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী নূর হোসেনসহ কতিপয় র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন নজরুলের স্বজনরা। এরপর পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে ভারতে পালিয়ে যায় সাত খুনের হুকুমদাতা নূর হোসেন। পরবর্তীতে ভারতে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হওয়ার পর সরকারী ভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় নূর হোসেন কে। তার আগেই চাকুরীচ্যুৎ করা হয় সাত খুনে জড়িত র‌্যাব-১১’র তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্ণেল তারেক সাঈদসহ র‌্যাবের অন্যান্য কর্মকর্তাদের।

এরপর দীর্ঘ সময় যাবত সাত খুন মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন শেষে নূর হোসেনকে সাত খুনের হুকুমদাতা হিসেবে দোষী সাবস্ত মৃত্যুদন্ড প্রদান করে আদালত।

এখন একই পরিনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কাশীপুরের হোসাইনী নগরে আলোচিত জোড়া খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা মজিদ খন্দকার ও তার ভাই শহর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহাম্মেদের ক্ষেত্রে।

কারন, জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার এক আসামীর আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে মিল্টন ও পারভেজকে খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদের নাম উঠে এসেছে।

কিন্তু হত্যাকান্ডের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন মজিদ খন্দকার। আর স্ত্রীর অসুস্থ্যতার অজুহাতে ভারতে অবস্থান করছেন হাসান আহাম্মেদ। ফলে তাদের গ্রেফতারের জন্য এখন হন্য হয়ে খুঁজছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, ‘হত্যাকান্ডের হুকুমদাতা হিসেবে ১০৯ ধারায় মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদকে পাওয়া মাত্রই গ্রেফতার করা হবে।’

আর জনৈক আইনজীবী জানান, ‘সাত খুনের হুকুমদাতা হিসেবে নূর হোসেনের যেমন মৃত্যুদন্ড হয়েছে, ঠিক তেমনি মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদের পরিনতিও জোড়া খুনের হুকুমদাতা হিসেবে নূর হোসেনের মতনই হবে। তবে সেক্ষেত্রে যদি হত্যাকান্ডের সময় যদি হাসানের অবস্থান ভারতে হয়ে থাকার প্রমাণ মিলে তাহলে তার শাস্তির ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

জানাগেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নূর হোসেনের বিশাল প্রভাব প্রতিপত্য ছিল। মাদক ব্যবসা, জমি দখল, নদী দখল, সন্ত্রাসী মূলক কর্মকান্ডের জন্য ছিল তার বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী।

ঠিক তেমনই, শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে কাশীপুর পর্যন্ত মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদ জমি দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনসহ একাধিক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে গড়ে তুলেছিল বিশাল বড় সন্ত্রাসী বাহিনী। যেই বাহিনীর সদস্য মিল্টন ও বাপ্পী শিকদারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শেষতক মজিদ খন্দকার ও হাসান আহাম্মেদের নির্দেশে গত ১২ অক্টোবর রাতে কাশীপুর হোসাইনী নগর এলাকায় একটি রিক্সার গ্যারেজে খুন হন মিল্টনসহ তার ম্যানেজার পারভেজ।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষে মামলা দায়ের না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর এখন নিহত মিল্টনের পরিবারের পক্ষ থেকেও মামলার বাদী হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেছেন মিল্টনের স্ত্রী। পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন করে হত্যার নির্দেশদাতা মজিদ খন্দকার ও তার ভাই হাসান আহাম্মদের ফাঁসি দাবী করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here