নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজের নাম প্রকাশ না করতে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানালেও তার পক্ষে এবার সরাসরি ধানের শীষে ভোট চাইলেন মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কালাম।
যেই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম নিজেও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অথচ, এই আবুল কালামই সম্প্রতি নিজের পথের কাঁটা দূর করতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরোধীতায় মগ্ন হয়ে খোদ নিজেই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আপাদত বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।

আর মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর এড. আবুল কালাম খোরশেদের মনোনয়ন প্রত্যাশাকে ‘বেয়াদবির’ সামিল হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন।

কিন্তু এখন আবার ঘটা করে খোদ মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালামের উপস্থিতিতেই তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ভোট চাইছেন সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল।

গত ৫ অক্টোবর বন্দরের মদনগঞ্জের ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ১৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের প্রার্থী হিসেবে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালামের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান।

এ টি এম কামাল বলেন, ‘বন্দরে আসলে মনে হয় শহীদ জিয়া খালেদা জিয়ার আমলের স্বর্ণযুগে এসেছে। এই মদনগঞ্জে বাণিজ্যিক অবস্থান ছিল। বিএনপিকে শক্তিশালী করতে আমরা সকলের সহায়তা চাই। তাই আগামীতে আপনাদের তিনবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় এমপি কালামকে আবারো আপনারা ধানের শীষে ভোট দিবেন।’

যা শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেন, ‘একদিকে আবুল কালাম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নয় বলে জানিয়ে গণমাধ্যমকে প্রত্যাশী না বানানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন, অপরদিকে আবার তার সামনেই এটিএম কামাল ধানের শীষে ভোট চাইছেন। মনে হচ্ছে এবার রাজনীতিতে দাবার গুঁটি হিসেবে এটিএম কামালকে দিয়ে পাকা চাল দিতে যাচ্ছেন এড. আবুল কালাম!’

এরআগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মহানগর ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে দলীয় সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম সংবাদ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমরা গনতন্ত্র পুন:রুদ্ধার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে যারা জনগনের কথা চিন্তা না করে মনোনয়ন নিয়ে ভাবছেন তারা হয়তো বা ভুলে গেছেন এখনো নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আর এই মনোনয়ন দেয়ার দায়িত্ব দেশনেত্রীর। আমি মিডিয়ার ভাইদের অনুরোধ করবো আজ থেকে আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর কাতারে রাখবেন না। যখন সময় হবে আমি আপনাদেরকে বলবো তার আগে নয়। দেশের এই দুঃসময়ে বিএনপির পাশে মিডিয়া সব সময় ছিলো এবং আগামীতেও থাকবে আমি এই আশা করি।’

ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র রাজনীতিতে এড. আবুল কালাম সব সময়ই সুবিধাবাদী অবস্থানে থাকেন। সারা বছর রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও কমিটি গঠন কিংবা নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই শুরু হয়ে যায় তার দৌঁড়ঝাপ। আর এই দৌড় ঝাপে কমিটির শীর্ষ পদ কিংবা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সব সময়ই সফল হয়ে আসছেন। ইতিপূর্বে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠনের সময় পদ না পাওয়ায় বিদ্রোহী হিসেবে পাল্টা কমিটি গঠন করে সংস্কারবাদীর খাতায় নাম লেখান। তখন কমিটি গঠনে তার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এড. তৈমূর আলম খন্দকার। সে যাত্রায় সফল না হলেও ২০১৭ সালে গঠিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটিতে ঠিকই সভাপতির পদ হাসিল করে নেন।

এখন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ খন্দকার নিজেদের নাম ঘোষণা করায় কৌশলে এগুচ্ছেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here