নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শিক্ষার্থীদের উপর বাধ্যতামূলক হয়ে উঠা প্রাইভেট বা কোচিং বন্ধ করতে ছয় বছর আগে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তৈরি করা হয়েছিল নীতিমালাও। না মানলে কঠোর শাস্তির কথাও আছে সেখানে। কিন্তু সেই নীতিমালার কোনো বাস্তবায়নই নেই এখন। স্কুল-কলেজে এখন পড়া হয় না, শিক্ষার্থীদেরকে বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। এই বিশেষ ক্লাস না করলে দেয়া হয় না পরীক্ষার প্রবেশ পত্র। আর তাই বাধ্য হয়েই কোচিং না করেও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গুণতে হয় কোচিংয়ের জন্য বাড়তি টাকা। এক্ষেত্রে বাদ যান না গরীব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও। আর এই সকল কোচিং থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাসে মাসে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা।

এমন নির্মম ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে শহরের স্বনামধন্য মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিরুদ্ধে। প্রায় শতবর্ষ পুরোনো এই বিদ্যাপীঠটিতে চলছে নানা অনিয়মের প্রতিযোগীতা এমনই অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকসহ অনেকেই। খোদ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যেরও রয়েছে অনেক অভিযোগ। সবাই যখন অভিযোগ কারী তাহলে প্রশ্ন হলো কাদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগের পাহাড়, এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের যত অনিয়ম এদের মূলহোতা হিসাবে রয়েছেন বিদ্যাপীঠটির অধ্যক্ষ অশোক তরু, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আক্তার। আর এ দুজনেই সকল শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ভয় দেখান। তাছাড়া সমগ্র মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সকলের কাছে এ দুজন সভাপতি আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠজন হিসাবেই পরিচিত। একই সাথে এ দুজন যেমন বিদ্যাপীঠটির শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধান, ঠিক তেমনি আনোয়ার হোসেনও পরিচালনা পর্ষদের প্রধান। তাই এই তিন প্রধান যখন কোন সিদ্ধান্ত নেন তা অমান্য করার সাধ্য কারো থাকে না, যদি সেই সিদ্ধান্ত সকল নিয়ম-কানুন বহির্ভূতও হয় তারপরও সকলকেই মাথা পেতে মেনে নিতে হয় সেই অবৈধ সিদ্ধান্ত। যদিও অনেকে মনে করেন এ দুই শিক্ষক কথায় কথায় আনোয়ার হোসেনের নাম বিক্রি করলেও কার্যত তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আর তাই আনোয়ার হোসেন এ দুই শিক্ষকের কর্মকান্ড সম্পর্কে খুব একটা অবগত নন বলেও জানা যায়। তারপরও যেহেতু আনোয়ার হোসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পাশাপাশি এই বিদ্যাপীঠটিরও সভাপতি তাই তিনি অবগত থাকুক বা না থাকুক এই বিদ্যাপীঠে ঘটা যে কোন অনিয়মের দায়ভার তার উপরও বর্তায় বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। একই সাথে অভিভাবকরা বলেন, ৫ম শ্রেণীতে প্রায় ১৫০, ৮ম শ্রেণীতে প্রায় ৪০০ এবং ১০ম শ্রেণীতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। সেই হিসাবে এই তিন শ্রেণীতে প্রায় ৯০০ থেকে সাড়ে ৯’শ শিক্ষার্থী আছে। যাদের কাছ থেকে কোচিং ফি বাবদ ৫০০ টাকা হারে প্রতি মাসে প্রায় ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়। আর প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ করে হলে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। আর বিশাল এই বাণিজ্যের কারণেই মূলত এই কোচিং করানো হয় বলেও জানায় অভিভাবকরা। বিশাল এই অর্থের কারণেই জোর জবরদস্তি করে কোচিং করতে বাধ্য করা হয়, নতুবা কোচিং না করেও টাকা দিতে বাধ্য করা হয় বলে জানান তারা।

অনেক অভিভাবক বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কথা বললেও তাদের কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হয় নি। কেননা তারা বলেন, ভাই আমাদের বাচ্চারা তো এখনও এই স্কুল এন্ড কলেজেই পড়ছে। তাই নাম প্রকাশ করে আমাদের সন্তানগুলোকে কেন তাদের আক্রোশের শিকার বানাবো। তাই সঙ্গত কারণেই অভিভাবকদের নাম প্রকাশ করা গেল না, তবে তারা নাম প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ বিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীসহ প্রায় সকল শ্রেণীর স্টুডেন্টদের পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভালো করতে সাহায্য করা হবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর পূর্বে অর্থ্যাৎ সকাল ৭টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত বিশেষ ক্লাসের নামে কোচিং করতে বাধ্য করছে। শুধু কোচিং করতে বাধ্য করাই নয়, অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে এই বিশেষ ক্লাস করাতে অস্বীকৃত জানালেও বিশেষ ক্লাসের নামে এই কোচিংয়ের টাকা দিতে বাধ্য হন। কেননা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আক্তারের সাফ কথা। বিশেষ ক্লাসের টাকা তা না দিলে কাউকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না, দেয়া হবে না প্রবেশ পত্রও। একই কথাই বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক তরুও, এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। এমনকি ৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণীর ক্লাস টিচাররাও শিক্ষার্থীদেরকে বলে দিয়েছেন টাকা না দিলে লায়লা আপা প্রবেশ পত্র দিতে নিষেধ করেছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে কথা হলো ৫ম শ্রেণীর বি শাখার ক্লাস টিচার কাকলী ম্যাডামের সাথে, তিনি বিনয়ের সুরে জানালেন আমাদের কিছুই করার নেই, কোচিং করান বা না করান এই টাকা দিতে হবে এমনটাই অর্ডার লায়লা আপার। তা না হলে দেয়া হবে না প্রবেশ পত্র।

একই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলো অভিযোগের তীর যার দিকে সেই সহকারী প্রধান শিক্ষক লায়লা ম্যাডামের কাছে, তিনি প্রথমে ফোন ধরলেও জানান এখন তিনি ব্যস্ত পরে ফোন দিতে।

প্রায় ঘন্টা খানেক পর ফোন দেয়া হলো তাকে, জিজ্ঞাসা করা হলো ম্যাডাম শিক্ষার্থীর সকল বেতন ও পরীক্ষার ফি পরিশোধ করা আছে তবে কেন প্রবেশ পত্র দেয়া হবে না এ প্রশ্নের উত্তরে লায়লা আক্তার এই প্রতিবেদককে বললেন, কমিটির নিয়ম তাই আপনি বিশেষ ক্লাস করান বা না করান বিশেষ ক্লাসের টাকা পরিশোধ করেই প্রবেশ পত্র নিতে হবে। জিজ্ঞাসা করা হলো আপা এই শিক্ষার্থী একদিনের জন্যও বিশেষ ক্লাস অংশ নেয়নি, তাহলে কিসের টাকা দিতে হবে ? এ প্রশ্নের উত্তরে লায়লা আক্তার বললেন, আপনি আপনার বাচ্চাকে বিশেষ ক্লাস কেন করাননি, বিশেষ ক্লাস করুক বা না করুক বিশেষ ক্লাসের টাকা দিতেই হবে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক যখন এ ধরনের কথা বললেন তখন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে সাথে নিয়ে এই সকল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলো মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক অশোক তরুর সাথে, তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, বিদ্যালয়ের নিয়ম আপনাকে মানতেই হবে, বিশেষ ক্লাসের টাকা পরিশোধ করুন। এরপরই সরেজমিনে যাওয়া হলো অশোক তরুর কাছে, তখনও তিনি অবিচল, বললেন বিশেষ ক্লাসের টাকা পরিশোধ করুন। জানতে চাওয়া হলো বিশেষ ক্লাসে অংশ না নিলেও টাকা দিতে হবে এটা কেমন নিয়ম, তার সোজা সাপটা উত্তর কেন বিশেষ ক্লাসে (কোচিংয়ে) অংশ নেয় নি, সেটা আপনার ব্যাপার। বিশেষ ক্লাসের টাকা দিন অথবা আপনার বাচ্চাকে এখান থেকে নিয়ে যান। তার এমন উত্তরে অভিভাবক এবং এই প্রতিবেদক দুজনেই হতভম্ব হয়ে গেলাম। অবশেষে তিনি পরের দিন আসতে বলেন।

পরের দিন বিদ্যালয়ে গেলে তিনি অভিভাবককে কোচিং ফি বাবদ প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারের পরিবর্তে ৩০০ টাকা হারে দিতে বলেন। কিন্তু এতে অভিভাবক অস্বীকৃতি জানালে অধ্যক্ষ অশোক তরু এই অভিভাবককে বলেন, তা না হলে আপনার বাচ্চাকে এই স্কুল থেকে নিয়ে যান। সাথে সাথে এই অভিভাবক অধ্যক্ষ অশোক তরুকে বলেন, আপনি এই কথাটি কাগজে লিখে দিন আমি আমার বাচ্চাকে এখন এই স্কুল থেকে নিয়ে যাবো। কিন্তু তখন অশোক তরু নানা টালবাহানা করতে থাকে এবং বলে আমি লিখবো না এবং আমি এভাবে বলি নি। কিন্তু অশোক তরুর এই বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ডিং পাওয়া গেছে। যা এই প্রতিবেদক ও জন্মভুমির নিকট সংরক্ষিত আছে।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেনের সাথে, তিনি অধ্যক্ষ অশোক তরু ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আক্তারের পক্ষে কথা বলেন এবং তাদের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, কোচিংয়ের জন্য বাধ্য করাই তো উচিৎ। কেন তারা এই বিশেষ ক্লাস করবে না। তাদের করতে হবে। আর না করলে টাকা দিতেও বাধ্য করা উচিৎ। একই সাথে তিনি বলেন, প্রতিটা স্কুলের একটি নিয়ম নীতি রয়েছে। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান বৃদ্ধি করার জন্য এই কোচিংয়ের নিয়ম করেছি। প্রতিটি স্কুলই এই নিয়ম চালু করেছে। তাই আমরাও করেছি। কোচিং না করলে শিক্ষার্থীরা খারাপ রেজাল্ট করলে এর দায়ভার কে নেবে। কোচিং করবে না, খারাপ রেজাল্ট করবে আবার আন্দোলন করবে এটা হবে না। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে ভালো রেজাল্ট করে এজন্য কোচিং করতে বাধ্য করা উচিৎ।

গরীব শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কোচিংয়ের জন্য যে টাকা নেয়া হয় তা সীমিত আকারে নেয়া হয়। স্কুলের বাইরে যারা কোচিং করে তারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে, আর এখানে ৪’শ/৫’শ টাকা দিতে পারবে না। তবে আইন অনুযায়ী কোচিং করা না করা যার যার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুতরাং যারা কোচিং করে নাই তাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোচিং করাইতে হইবো না। দশজন যদি কোচিং করে, তবে অন্যরা কেন করবে না। আর না করলে এই টাকা বাধ্য করে নেয়াই উচিৎ। এই বাধ্য করানো হলেই তো তারা কোচিং করবে।

একই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুরাইয়া আশরাফী এই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আক্তারকে বলেন, আপনারা কোচিংয়ের নামে টাকা পয়সা নিয়ে কি সব ঝামেলা পাকাচ্ছেন, এগুলি বন্ধ করেন। তা না হলে পত্র-পত্রিকায় আসলে কিন্তু ভালো হবেনা।

এই সকল অভিযোগের ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হলে জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুল ইসলামের সাথে, তিনি বলেন, সাংবাদিক সাহেব আপনি তো জানেন এই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার সাহেব নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের অনেক কিছু ভাবেন কিনা তা আমি জানি না। তবে আমি বলতে চাই, আপনার-আমার বা যার সন্তানই হোক না কেন কোচিং করাবো কি করাবো না সেটা তো আমার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেখানে ফোর্স করলেই টাকার লেনদেনের বিষয়টির আইনি কোন ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, যদি কেউ লিখিতভাবে আমার কাছে অভিযোগ করে তবে অবশ্যই আমি ব্যবস্থা নিবো।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ রেজাউল বারীর সাথে, তিনিও এই প্রতিবেদককে জানান আমার এই বিষয়ে কিছু জানা ছিলো না। তবে আমি শীঘ্রই এর ব্যবস্থা নিবো।

এছাড়াও এই স্কুলের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতিসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানায় খোদ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি শিক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। তবে আমি কোচিংয়ের ব্যাপারে কিছুই জানি না। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অশোক তরু ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আক্তার মিথ্যাচার করেন বলেও তিনি জানান। তিনি জানান, এ দুই শিক্ষক অভিভাবকদের বলেন কমিটির সিদ্ধান্তে এই কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আমি শিক্ষা কমিটির প্রধান আমি এই কোচিংয়ের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে কিছুই জানানো হয় নি এবং কোন মিটিং করা হয়নি।

আরেক সদস্য ইমামুল সেলিম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ১৭ এপ্রিল সকালেও প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থী বাচ্চারা প্রবেশ পত্র না পেয়ে স্কুলের ভিতরে কান্না কাটি করছিল। আমি তখন লায়লা আক্তারকে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি আমার চটে যান এবং বলেন আপনি বেশী কথা বলছেন। আমি চেয়ারম্যানের (আনোয়ার হোসেনের) কাছে আপনার নামে বিচার দিবো। বাকবিতন্ডা শেষে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ইমামুল সেলিমের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা প্রায় ২০ মিনিট পরে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে পারে।

এছাড়াও বছরের প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের হাতে এখনো ডায়েরী, আইডি কার্ড তুলে দেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও ভর্তির সময়ই ডায়েরী, আইডি কার্ডসহ অন্যান্য খাতে টাকা নেয়া হয়েছে। অপরদিকে বৃষ্টি ছাড়াও প্রায় সর্বদাই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধূলার সুযোগ পায় না বলে জানা যায়। যদিও জেলার জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন শিক্ষার পাশাপাশি বাচ্চাদেরকে খেলাধূলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের একটি ভবন ভেঙ্গে নতুন করে ভবন তৈরি করা হচ্ছে কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি সহ অন্যান্য সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here