নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নিয়ম অনুযায়ী দলীয় সাংগঠনিক ভাবে কেন্দ্র থেকে কোন চিঠি প্রেরণ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সভাপতি/ সাধারন সম্পাদক/আহ্বায়ক/ সদস্য সচিব বরাবরই নাম উল্লেখ করে প্রেরণ করা হয়ে থাকে।
যার প্রেক্ষিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম নিয়ে যোগদান করায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গত ১৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম বরাবর একটি বার্তা পাঠান দলের মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলীয় প্যাডে প্রেরিত বার্তায় যেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, ‘বরাবর, এড. আবুল কালাম, সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। প্রিয় সহকর্মী, আস্সালামু আলাইকুম। গত ১২ নভেম্বর ২০১৭, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভা সাফল্য মন্ডিত করতে আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম দলকে উজ্জীবিত করেছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ ১২ নভেম্বরের জনসভা সফল করতে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য দল ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভবিষ্যতেও আপনাদের গতিশীল নেতৃত্বে এধরনের কর্মসূচী আরো সফল হবে বলে দৃঢ় ভাবে বিশ^াস করি।’

অথচ, সমাবেশ সফলে সহযোগিতা করায় কৃতজ্ঞতা পত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের সকল ইউনিটের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেও নিজের নামে কৃতজ্ঞতা বার্তাটি আসায় মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম একাই সকল কৃতিত্বের দাবীদার বনে গিয়ে ১৫ নভেম্বর স্থানীয় গণমাধ্যম গুলোতে বিবৃতি পাঠায়।

আর চেয়ারপার্সনের পক্ষে কালামকে মহাসচিবের কৃতজ্ঞতা জানানোর সংবাদ অনলাইন গণমাধ্যম গুলোতে দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন খোদ মহানগর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সেদিনের সমাবেশে যোগদান না করে ঘরে বসে থেকেই উল্টো চেয়ারপার্সনের পক্ষে দলের সকল নেতাকর্মীদের জানানো মহাসচিবের কৃতজ্ঞতার কৃতিত্ব আবুল কালাম একাই নেয়ার প্রয়াস করায় চরম ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে তৃণমূলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে এড. আবুল কালামের এমন নিজ স্বার্থ রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। কেউ কেউ আবার দলীয় নেতাকর্মীদের কৃতিত্ব একাই নিজে দাবী করার কারনে কালামকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

জানাগেছে, রাজধানীর পাশর্^বর্তী জেলা হিসেবে বরাবরই বিএনপির কাছে মূল্যায়িত ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা। যেই কারনে গত ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সমাবেশে লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দদেরই ঢাকায় তলব করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা। এমনকি একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে এসেও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে প্রস্তুতি মূলক সভা করে যান।

কিন্তু সমাবেশের দিন যোগদানের পূর্বেই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা গামী সকল গণপরিবহন চলাচল অঘোষিত ভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যান মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এমনকি যাত্রাপথে ছাত্রদল, যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গ্রেফতারও হন।

অথচ, সমাবেশে লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে যাদের উপর কেন্দ্রের দায়িত্ব ছিল, মহানগর বিএনপির সেই সভাপতি এড. আবুল কালামই সমাবেশে না গিয়ে ঘরে বসেই আয়েশী দিন কাটান। আর সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল সমাবেশের পূর্বে ভারত চলে যান।

এখন, দলের মহাসচিব সমাবেশে যোগদানকৃত নেতাকর্মীদের প্রতি চেয়ারপার্সনের পক্ষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করায়, তা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি উৎস্বর্গ না করে সুবিধাবাদী কালাম নিজে একাই বাহ্বা কুঁড়াতে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here