নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিগত ২০১৩ সালে আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি এড. খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদনের পর ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ঘোষিত হয়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
যেই কমিটিতে নিজ বলয়ের নেতাদের মহানগর কমিটিতে অন্তুর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নিজেও কার্যকরী সদস্য হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

অথচ, তারপূর্বে ডা: সেলিনা হায়াত আইভী শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি থাকা সত্ত্বেও মহানগর কমিটিতে পদবঞ্চিত হয়েছিলেন তিনি।

তাই গত বছর ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ঠাঁই পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীও এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজ বলয়ের নেতাদের করিয়ে নিয়েছেন ঠাঁই।

আর মহানগর কমিটিতে থাকায় জেলা কমিটিতে বঞ্চিত হন জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান। পাশাপাশি নিজ বলয়ের নেতাদেরও উক্ত কমিটিতে তেমন অন্তুর্ভুক্ত করতে পারেন নি জেলা প্রভাবশালী এই সাংসদ।

তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি থাকা সত্ত্বেও আইভী যেমন মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটিতে ‘বঞ্চিত’ হয়েছিলেন, ঠিক তেমনি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও শামীম ওসমান জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে ‘বঞ্চিত’ হয়েছেন।

জানাগেছে, গত বছরের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর থেকেই জেলা কমিটিতে নিজ বলয়ের নেতাদের অন্তুর্ভুক্ত করতে আইভী ও শামীম ওসমান জোর লবিং করেন।

তারপর দীর্ঘ একবছর যাবত যাচাই বাছাই শেষে গত ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আইভী সর্ভাধিক সংখ্যক নিজ অনুসারীদের অন্তুর্ভুক্ত করতে পারলেও তেমন ঠাঁই দিতে পারেন নি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের হেভীওয়েট সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

জানাগেছে, জেলা আওয়ামীলীগে ৭০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন নেতা হচ্ছেন সাংসদ শামীম ওসমান অনুসারী। এরা হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, শিকদার গোলাম রসুল, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডা: জাফর চৌধুরী বীরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ উর রউফ, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, উপ দপ্তর সম্পাদক মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, কার্যকরী সদস্য এড. হোসনে আরা বাবলী এমপি, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, সাইফুল্লাহ বাদল, শওকত আলী, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, মাহফুজুর রহমান কালাম, আব্দুর রশিদ, শাহাদাত হোসেন সাজনু ও এড. ইসহাক।

আর বাকীদের মধ্যে কয়েকজন ব্যাতীত সবাই আইভী অনুসারী। তাই ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে এক নয়া মেরুকরন শুরু হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here