নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্ম, অপরাজিতা ফুল প্রদান ও যজ্ঞাহূতির মধ্যদিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দূর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মন্ডপে মন্ডপে বাজছে এখন মা দূর্গাকে বিদায়ের সুর। কেননা, শনিবার সকালে দর্পন বিসর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে দশমী বিহিত পূজা। আর ভক্তকূলকে চোখের জলে ভাসিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন মা দূর্গা।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শারদীয় দূর্গাপূজার মহানবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। রামায়ণ যুগের অবতার রামচন্দ্র লংকা অধিপতি রাবণ বধের পর নবমী তিথিতে ১০৮টি নীল পদ্ম দিয়ে দেবী দূর্গার পূজা করেছিলেন। তাই এই মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে দূর্গা পূজিত হন।

সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দেবী দূর্গার মহানবমী কল্পরম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা শেষে বেলা ১২টায় ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ ও ঘি দিয়ে মহাযজ্ঞে মা দূর্গার কাছে আহূতি দেয়া হয়। এরপর ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলী অর্পণ করেন।

এরআগে বৈরী আবহাওয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভক্তরা বিভিন্ন পূজা মন্ডপে আসেন। শহরের নিতাইগঞ্জ পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখাযায়, বৃষ্টিতে ভিজেই শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে মায়ের চরনে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান করতে আসেন ভক্তরা।

সনাতন ধর্ম মতে, নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুলে সম্পদ লাভ হয়। মহানবমীতে ভক্তরা মায়ের কাছে দেশ, জাতি ও বিশ্বের সকল জীবের মঙ্গল কামনায় আশীর্বাদ প্রার্থণা করেন।

ধর্মের গ্লানি ও অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুর বধ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি বছর দূর্গতি নাশিনী দেবী দূর্গা ভক্তদের মধ্যে আবির্ভূত হন। মহালয়ার মাধ্যমে যা সূচনা ঘটে।

আর শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রতিমা বিসর্জ্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে ৫দিন ব্যাপী শারদীয় দূর্গোৎসবের। তারপূর্বে নগরীতে বের হবে বিজয়া শোভাযাত্রা। এছাড়া সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় রাখতে মায়ের চরনে সিঁদুর স্পর্শ করে সিঁদুর উৎসব করবেন নারীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here