নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শুভ মহালয়াতে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের মন্ডপে মন্ডপে মা দূর্গাকে আবাহন জানিয়েছেন পুরোহিতরা। বাঙালী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ শুভ মহালয়া।
মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পিতৃপক্ষ শেষে দেবীপক্ষের শুরু হয়।

মহালয়া উপলক্ষ্যে শহরের নিতাইগঞ্জস্থ শ্রীশ্রী বলদেব জিউর আখড়া, দেওভোগ শ্রীশ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়ায় ঘট স্থাপনসহ বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

শাস্ত্রীয় বিধান মতে, মহালয়ার অর্থ হচ্ছে মহান আলোয় দূর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গাকে আবাহন। দুর্গাপূজার দু’টি পক্ষের একটি হলো পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর পরের দিন প্রতিপদ তিথিতে শুরু হয় দেবীপক্ষের।

পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দূর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দূর্গার পূজা করেছিলেন। অকালে তথা শরৎকালে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই পূজা তখন থেকেই অকালবোধন নামে পরিচিত। অশুভ শক্তিকে দমন করার জন্য দেবী দূর্গার আবির্ভাব ঘটে।

শাস্ত্রমতে, ‘নৌকায়’ চড়ে স্বপরিবারে এবার ভক্তকূলের পূজো নিতে ধরনীতে বাপের বাড়ীতে এসেছেন অসুর বিনাশিনী দেবী মা দূর্গা। যেই কারনেই নাকি হচ্ছে এত বৃষ্টিপাত, দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ, হয়েছে বন্যা। আর পূজো শেষে কৈলাশে ফিরবেন ‘ঘোটকে’ অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দূর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আর তাই মা দূর্গাকে বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলায় উদযাপিত ১৯১টি পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here