নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ডিএনডি প্রকল্পে কোন তদবির চলবেনা জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারী দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে জনদূর্ভোগ লাঘবে ডিএনডির পানি নিস্কাশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও যানজট নিরসনের লক্ষে আয়োজিত মত বিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারী দেন।

শামীম ওসমান বলেন, ‘বর্ষার আগেই আমার এলাকার মানুষ এখন পানিতে বন্দি। নির্বাচনে জয়ের পর সংসদে আমার প্রথম দাবীই ছিল ডিএনডি এলাকার জলবদ্ধতা নিরসন। গত ৪ বছর ধরে এই দুর্ভোগ সমাধানে পাগলের মতো শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংসদে মন্ত্রীকে বলেছি, ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগ সমাধান করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে হয় আপনি থাকবেন, নয়তো আমি থাকবো। জনগণের দুর্ভোগ মেটাতে না পারলে রাজনীতি করার কোন অধিকার আমার নেই। আমরা আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা রাজনীতি করে খাই না। আমরা দেওয়ার জন্য রাজনীতি করি। এই জলবদ্ধতা সমাধানে যেকোন ধরনে সহযোগীতা করতে আমি প্রস্তুত আছি। এ বছরের মধ্যেই ডিএনডি সমস্যার সমাধান চাই। সমস্যা সমাধান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, কিন্তু হচ্ছে না। তা মেনে নেওয়া যায় না।’


শামীম ওসমান বলেন, ‘সরকারী যেকোন কাজেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম রয়েছে। তাই ডিএনডি প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে সেনাবাহিনী দিয়ে। যেকোন ভাল কাজ করতে গেলে কেউ না কেউ আপনার বিপক্ষে দাঁড়াবেই। তবে আমি চাই এই প্রকল্পের কাজের বিষয়ে কেউ যাতে আমার কাছে কোন তদবির নিয়ে না আসে। আমরা চাইনা সেনাবাহিনীকে নিয়ে কোন বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানিনা, আগামীতে এমপি গিরী করবো কিনা আর বাঁচবো কিনা। আমি এমপি পানিতে নেমে প্রয়োজনে ময়লা পরিস্কার করবো। জনগনের দুঃখ লাগবে যা যা করা দরকার করবো। কিন্তু এই বছর যেন মানুষ পানির তলে না থাকে। কারন, মানুষ যখন আসার আলো দেখে, তখন হঠাৎ অন্ধকার দেখলে মানসিক ভাবে সমস্যায় পরে। আমি যদি দেখি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমার ডিএনডি এলাকার দুর্ভোগের সমাধন হয়নি, তাহলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বন্ধ করে দিবো।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি শিক্ষা নিয়েছি আমার নেত্রীর থেকে, তিনি বলছেন, যে কয়দিন বাঁচবার মানুষের জন্য বাঁচবা। তাই মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই।’

মত বিনিময় সভার বিশেষ অতিথি ডিএনডির প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল গোলাম মাশফিক বলেন, ‘এই প্রকল্প ৩ বছর মেয়াদী হলেও আমরা দেড় বছরে কাজ শেষ করার চেষ্টা করবো। ৯৬’তে এখানে খাল ছিলো। আর এখন নগরায়ণ হওয়ার পর সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এখানে জমাকৃত পানি ক্যানেল এর মাধ্যমে সেচ করে নদীতে ফেলে দেয়া হবে এবং এরজন্য ফতুল্লা, পাগলা, আদমজীতে ৪০টি পাম্প বসানো হবে।’

ডিএনডি প্রকল্পের বিলম্বতার কারন হিসেবে তিনি বলেন, এখানকার কালভার্ট গুলো সরিয়ে নিলে আর অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ করা হলেই দ্রুত কাজ করতে আমরা সক্ষম হবো। এজন্য ডিসি অফিস থেকে সার্ভেয়ার নিয়ে আমরা এই জায়গার সঠিক মাপ নিচ্ছি। তবে যে জায়গা খালের অংশ, তা কোনক্রমেই ছাড় দিবো না।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো: মোখলেছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম, নাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: ফারুক হোসেন, (ক’সার্কেল) মো: শরফুদ্দীন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক মো: শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী,জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক এড. মোহসীন মিয়া, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল হক, সাধারন সম্পাদক এম এ মান্নান, নাসিক কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, আলাউদ্দিন আলা, আরিফুল হক হাসান, ই¯্রাফিল প্রধান, শারমিন হাবীব বিন্নি, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, ফতুল্লা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, এনায়েত নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামান, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (ফ্রেজ-২)শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here