নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা নেতাগিরী করেন আমার কোন সমস্যা নেই। তৃণমূলের যেই সব কর্মীরা কোন স্বার্থ ছাড়া শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে রাজনীতি করেন, তাদের কে তাদের প্রাপ্ত সম্মানটুকু দিয়েন।

তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র শেখ হাসিনার নির্দেশে বিষ পান করেও যারা আপনার নির্বাচনে দিনরাত পরিশ্রম করে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছে পরীক্ষিত সেসব নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অথচ সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সেইসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের ধরা তো দূরের কথা, মাথার চুলও ছুতে চায় তাহলে আগুন ধরিয়ে দিব। মনে রাখবেন, ওইসব ছেলেরা বিএনপি’র আমলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একদিনে ৫০টি মামলা খেয়েছে। খালি আমার কারণে ওরা চুপ রয়েছে। আপনাদের এসব মামলা ওরা ভয় পায় না।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে কর্মী সমাবেশে শামীম ওসমানের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠন, জনপ্রতিনিধিদের প্র¯Íুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাশের কেলøা, ডেইলি ষ্টার ও প্রথম আলোর ফাঁদে না বুঝে যদি পারা দিয়ে থাকো, তাহলে আপোষ আছে। আর যদি বুঝে শুনে করে থাকো, তাহলে নেত্রীর প্রশ্নে তোমার সাথে কোন আপোষ নেই। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নায়কেরা তোমার পÿে থাকে। এ থেকে কি বুঝা গেল, তোমার কাঁধে নল রেখে বিএনপি জামাত নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে চায়। আমি শামীম ওসমান বেঁচে থাকতে ইনশাহ আলøাহ তা কখনোই হতে দিবে না। আগামী ৩ ফেব্রæয়ারীর জনসভা হবে। নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ কতো শক্তিশালী তা অতীতে প্রমাণ করেছি, বর্তমানেও প্রমাণ দিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও প্রমাণ দিব।

অনেকেই বলে আমি ফ্যাক্টর ওনি ফ্যাক্টর সে ফ্যাক্টর, মনে রাখবেন, আলøাহই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। তিনিই সর্ব ÿমতার মালিক।

তিনি আইভী কে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, আমার আসনে কে নির্বাচন করবে, আমার কোন সমস্যা নেই। আমি শুধু আওয়ামী লীগ করতে চাই। তোমাদের যাদের খুশি এসে নির্বাচন করতে পারো। আমি তোমাদের সাথে থাকবো। আমার স্বপ্ন এমপি হওয়া নয়, আমার স্বপ্ন আমার দল আওয়ামী লীগ কে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ÿমতায় দেখতে চাই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এক একটি কর্মী এক একটি শক্তি। নারায়ণগঞ্জের কর্মীদের সাথে অন্য জেলার কর্মীদের তুলনা হয় না।

তিনি বলেন, আইভী আমাকে বলেছে, আমি ফতুলøার এমপি আমি শহরে কি করি। আমি তাকে বলতে চাই, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। জনগণের পÿে, জনগণের ÿুধার পÿে যদি আমাকে বরিশাল গিয়েও কথা বলতে হয়, আন্দোলন করতে হয়, আমি শামীম ওসমান প্রয়োজনে সেখানেও পৌছে যাবো। তুমি হয়তো শেখ হাসিনার আদর্শ নাও বুঝতে পারো, আমি শামীম ওসমান বুঝি। আর বুঝি বলেই শেখ হাসিনার দশ লাখ রোগিঙ্গাকে ÿুধার মৃত্যুর ভয় থেকে বাঁচাতে এদেশে জায়গা দিয়েছিল। আমার বাবা-মা গরিবের জন্য রাজনীতি করেছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গরিবের জন্য রাজনীতি করে যাবো। এতে যদি দল, পদ সব যায়, তাতেও আমার আফসোস থাকবে না। আমি আওয়ামী লীগ করতে চাই, দল-পদ না থাকলেও অন্তত একজন কর্মী হয়েও আমি আওয়ামী লীগ করে যাবো। আজকে এমপি হওয়াতে অনেক দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হয়। আর যখন কর্মী হয়ে কথা বলবো, তখন সব বলবো।

শামীম ওসমান বলেন, একটানা দশ বছর ধরে ÿমতায় আছি, দ্ব›েদ্বর পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই আমরা ভাবছি যে ÿমতা বোধহয় চিরস্থায়ী। ধরারে সরজ্ঞান ভাবছি। তাই বলছি, আমার এলাকায় কেউ কথা বলতে পারেব না। আমি এমপি হয়ে ভাবছি যে এই এলাকার জমিদার আমি। আমরা কেউ জমিদার না জনগণের সেবক। জনগণ সেবা করার সুযোগ দিছে আমরা সেবা করছি। আমরা যদি নিজেদের জমিদার ভাবি, তাহলে বাংলাদেশে ৩০০ এমপি ৩০০ জমিদার সৃষ্টি হবে। আমরা তো জমিদার না। শেখ হাসিনা আমাদের দায়িত্ব দিছে মানুষকে সেবা দিতে। আমাদের ৮০ ভাগ ইউপি চেয়ারম্যান আছে, কাউন্সিলর আছে। তারা যদি বলেন, যে আমার এলাকায় অন্য কেউ কথা বলতে পারবে না। এই এখতিয়ার তো তাদের নেই। এই মানসিকতা যাদের ভেতরে কাজ করে, তারা কতটুকু দল করবেন সামনে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।

এক টক শো তে কলামিষ্ট পীর হাবিবুর রহমানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পীর হাবীব ভাই বলেছেন, দলের ভেতরে আভ্যন্তরিণ কোন্দল হয়। অতীতে হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। বড় দল। কিন্তু গোটা বাংলাদেশে দলের অভ্যন্তরিণ কোন্দল একরকম আর নারায়ণগঞ্জে কোন্দল আরেক রকম। ওখানে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ। আর নারায়ণগঞ্জে দ্ব›দ্বটা আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি ও জামাত। আ’লীগের সাথে আ’লীগের দ্ব›দ্ব হতেই পারে, কিন্তু আ’লীগের সাথে বিএনপি এবং জামাত আসে কেন?

প্রথম আলো পত্রিকাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যেখানে নেত্রী প্রথম আলো পত্রিকা পড়েন না। তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন এই পত্রিকা আমার মাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে এবং তারা পেছনের দর্জা দিয়ে ÿমতায় আনার জন্য যতটুকু ষড়যন্ত্র করার এরা সেটা করছে এবং আগামীতেও ষড়যন্ত্র হবে। শুরু হয়ে গেছে অলরেডি। একেক দিন একেক জনকে ধরবে। নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যু নিয়ে আমি বলেছি আমি আলøাহকে খুশি করার জন্য রাজনীতি করি। আমি ওই গরিব মানুষ গুলোর পাশে ছিলাম। যারা দিন আনে দিন খায়। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে এই শীত মৌসুমে ব্যবসা করতে বসলো। আর তাদের উচ্ছেদ করা হলো। বাম দলের নেতারা তাদের পÿে অবস্থান নিল, তাও আইভী তাদের উচ্ছেদ অব্যাহত রাখলো। উচ্ছেদ করলো আইভী আর দোষ পড়লো আমার নেত্রীর উপড়। আমি ২৫ দিন দেখলাম। তারপর বললাম মানবতা বাদ দেন। গরিব মানুষ তো মানুষ না। ওরা মানুষ এটাই ওদের অপরাধ।

গত ৭ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে যেই মরে, দোষ পরে ওসমান পরিবারের। একটা কুত্তা মরলেও আইভী ও তার অনুসারীরা দোষ চাপায় ওসমান পরিবারের উপড়। ত্বকী হত্যার দায় চাপানো হলো আমাদের উপড়। চঞ্চল হত্যার দায়ও চাপানো হলো আমাদের পরিবারের উপড়। অথচ বাবুরাইলে যখন জোড়া খুন হয়, তাদের লোক যখন জড়িত থাকে, তখন কোন কথা হয় না।

এসময় পুলিশকে ভৎসণা করে তিনি বলেন, নিয়ুজুলের খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার হলো ফুলের টপে পরিত্যক্ত অবস্থায়, এইসব টপ আর ফুলের নাটক ছাড়–ন। কাকে সেভ করতে, কার কাছে এতোদিন অস্ত্রটি ছিল, কারা নিয়াজুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপড় হামলা চালিয়েছে, এসব বের করুন। পত্রিকায় খবর আসে নিয়াজুল নাকি পলাতক। কিন্তু সে পলাতক না। নিয়াজুল অসুস্থ সে চিকিৎসা নিচ্ছে। যারা নিয়াজুলের উপর হামলা করেছে তাদের আগে ধরেন। নিয়াজুলকে ধরার চিন্তা কইরেন না।

শামীম ওসমান আশংকা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৮ ফেব্রæরুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণা হবে। বিএনপি ধরেই নিয়েছে তাদের ্ চোরের নেত্রীর কিছু একটা হবে। তখন কিন্তু জামায়াত বিএনপি সবাই নামবে। আ¯েÍ আ¯েÍ নামবে তারা। আগামী জুন জুলাইতে দেশে অনেক অঘটন ঘটবে। কিন্তু আশা করি কিছুই করতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীও এসব প্রতিহত করতে মাঠে থাকবে। তিনি যদি থাকে তাহলে আমার সঙ্গে কোন বিরোধ থাকবে না। কিন্তু মাঠে থাকবেন না আর আওয়ামী লীগের পরিÿিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সেটা হবে না।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীও এসব প্রতিহত করতে মাঠে থাকবে। তিনি যদি থাকে তাহলে আমার সঙ্গে কোন বিরোধ থাকবে না। কিন্তু মাঠে থাকবেন না আর আওয়ামী লীগের পরিÿিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সেটা হবে না।’

এসময় কর্মীসভায় সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের সকল কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নির্বাচিত চেয়ারম্যান মেম্বার, জেলা পরিষদের ÿমতাসীণ দলের সদস্য, সদর-বন্দর-ফতুলøা-সোনারগাঁ-আড়াইহাজারও রূপগঞ্জের আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here