নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: শেষ হতে চলছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। সকল ধর্মপ্রান মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করার জন্য প্রস্তুুতি নিচ্ছেন। ঈদের দিন সকালে ঈদগাহ থেকে নামাজ আদায় করে নিজ নিজ ঘরে ফিরে মিষ্টিমুখ করতে সকলের খুব বেশী পছন্দ নানা স্বাদের তৈরী করা সেমাই। কিন্তুু কতটুক ভেজালমুক্ত সেমাই খেতে পারবেন সেটাই এখন ভাবছেন সচেতন নাগরিকরা।
কেননা, প্রতি বছর ঈদের আগে বাজারে দেখা যায় অনুমোদনহীন নানা ধরনের খোলা সেমাই বাজারে বিক্রি করা হয়। এসব সেমাইগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণের কোন তারিখ দেখা যায় না। কতুটুকু সঠিক রয়েছে এসব সেমাইয়ের বিএসটিআইএ এর অনুমোদন তা নিয়েও রয়েছে জনমনে সন্দিহান।

যার ব্যাতিক্রম ঘটেনি এবছরও। রমজানের শুরুতে গুটি কয়েক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেমাই তৈরী কারখানায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চললেও তেমন কোন প্রভাব পড়েনি বাজারে। যার ফলে দেদারসে সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে মেয়াদহীন নিন্মমানের লতা ও লাচ্ছা সেমাই।

শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জ। নিত্য পযোজনীয় মালামাল বিক্রির অন্যতম একটি বাজার এটি। প্রতিবছর ভ্রাম্যমান আদালত এই বাজার অতি নিঁখুতভাবে মনিটরিং করলে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না কিছু অসচেতন ব্যবসায়ীরা। তারা ভ্রাম্যমান আদালতকে অনেকটা অবজ্ঞা করেই চালাচ্ছে তাদের নিয়ম বহি:র্ভূত ব্যবসা।

শনিবার (১৭ জুন) দুপুর ১২ টায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার শহরের নিতাইগঞ্জ পাইকারী বাজারে গিয়ে দেখা যায় কয়েকটি দোকানে খোলা সেমাই সাজিয়ে রেখেছে দোকানিরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেখতে চাকচিক্যময় এসব সেমাইয়ের প্যাকেট গুলোতে কোন প্রকার তৈরীর তারিখ লেখা নেই। শুধুমাত্র বিএসটিআইএ এর একটি সীল প্যাকেটগুলোর গায়ে দেওয়া আছে। এগুলো কতটুকু সঠিত আছে কে জানে? কতটুকু ুস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই সেমাইগুলো তৈরী হচ্ছে তা নিয়ে ক্রেতা সাধারনের মনে প্রশ্ন জাগলেও বিক্রেতাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই।

সূত্র জানায়, সদর থানার নিতাইগঞ্জ এলাকা ও এর আশপাশে রয়েছে একাধিক বেকারী ফ্যাক্টরী। আর এই বেকারী ফ্যাক্টরীগুলোতেই তৈরী হচ্ছে এসব নিন্মমানের সেমাই। অনুমোদনহীন এসব কারখানায় অনেকটা গোপন কৌশল অবলম্বন করেই নাকি এসব সেমাই তৈরী করে তারা।

সচেতন নগরবাসী মনে করেন, এ ধরনের সেমাই অনেকেই না বুঝে বাজার থেকে কিনে নিবেন। কারন অনেকে এতোকিছু সহজেই বুঝতে পারবেন না। কারন এ বিষয়ে সাধারন মানুষ তেমন খোঁজ খবর রাখেন না। ঈদ আসলে তাদের একটাই চিন্তা থাকে সেমাই, চিনি,দুধ কেনা না হলে ঈদ করা হবে না। তাই তাদের দাবী অবিলম্বে এসব সেমাই তৈরীর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here