নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের দায়িত্ব দেওয়া হয় এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার হাতে। দলের অনেক সিনিয়র আইনজীবীর বিরোধীতা সত্বেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের সমর্থনে প্যাণেলের দায়িত্ব পান জুয়েল-মোহসীন। আর তাই এ প্যাণেলকে জয়ী করার মাধ্যমে সাংসদের মান রক্ষার চ্যালেঞ্জে আজ জয়ী হতে চান জুয়েল-মোহসীন পরিষদ।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারী) অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গ্রহণ।

আর এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ প্যানেল সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। দল মত নির্বিশেষে আইনজীবীদের কাছে সমান জনপ্রিয় এই তরুণ আইনজীবীদ্বয় তাদের নিরলস প্রচারনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীদের মন জয় করতে পেরেছেন এবং নির্বাচনে জুয়েল-মোহসীনের জয় সময়ের ব্যাপার বলে মনে করেন সাধারণ আইনজীবীরা।

সুত্রে প্রকাশ, এবারের বার নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থীত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যাণেল ঘোষনার পর থেকেই এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়া নিরলস পরিশ্রম করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্যাণেলের জন্য ভোট প্রার্থনা করেছেন। দল মত নির্বিশেষে সকল আইনজীবীর কাছে গিয়ে আগামী দিনে ডিজিটাল বার গঠনের প্রতিশ্রুতি দৃশ্যমান করার অঙ্গিকারে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। ভোটাররাও তাদের সে আহবানে সাড়া দিয়ে তরুণ নেতৃত্বে হাতে আগামী দিনের নেতৃত্বে ভার অর্পণের জন্য মূখিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। বারের সাধারণ আইনজীবীরা মনে করেন, জুয়েল-মোহসীনের জয় এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

প্রসঙ্গত, গত বছরের জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের আগে প্যাণেল পরিচিতি সভার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান পরবর্তী বার নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ প্যাণেলের সভাপতি পদে এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এড. মোহসীন মিয়ার নাম ঘোষনা করেন। সাংসদ শামীম ওসমান সেদিনের সেই ঘোষনার ধারাবাহিকতায় এবারের বার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডের সাথে বৈঠকে জুয়েল-মহসিনের প্রতি তার সমর্থণ অক্ষুন্ন রাখেন। যদিও সেই বৈঠকে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাসহ আওয়ামী পন্থী অনেক সিনিয়র আইনজীবীরা সাংসদের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেন এবং বিকল্প প্রার্থীর প্রস্তাব করেন। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থণের পাশাপাশি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার প্রতিদান স্বরূপ তাদের হাতেই সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব তুলে দেয় মনোনয়ন বোর্ড। তাই নিজেদের বিজয়ী করার সাথে সাথে সাংসদ শামীম ওসমানকেও বিজয়ী করার চ্যালেঞ্জ এখন জুয়েল-মোহসীনের কাছে। কারন এড. জুয়েল-এড. মহসিন কৃতকার্য হতে না পারলে শুধু আদালতপাড়ায়ই নয়, সমগ্র নারায়ণগঞ্জে সাংসদ শামীম ওসমানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বলে মনে করেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

আওয়ামীলীগ সমর্থীত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক পদে এড. মোহসীন মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী এড. আব্দুল লতিফ মিয়া, সহ-সভাপতি প্রার্থী এড. মো: ছালাহ্উদ্দিন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক প্রার্থী এড. মাহাবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী এড. জসীম উদ্দিন, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. মনিরুজ্জামান কাজল, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. মো. আবুল বাশার রুবেল, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. মো: সাজ্জাদুল হক সুমন, লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. সুভাষ বিশ্বাস, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. স্বপন ভূঁইয়া, সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী এড. ইসরাত জাহান হক এবং কার্যকরী সদস্য পদ প্রার্থী এড. মো: মুশিউর রহমান, এড. রাশেদ ভূইয়া, এড. শোয়েব আহাম্মেদ শুভ, এড. আব্দুল মান্নান ও এড. রোমানা আক্তার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here