নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসকে নাকি জেলা বিএনপির অনুষ্ঠানে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন সংবাদকে ভিত্তিহীন ও বানানো গল্প বলে আখ্যায়িত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

তিনি নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে সিদ্ধিরগঞ্জস্থ জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তো আজাদ বিশ^াস উপস্থিতই ছিলেন না। আর কে বা কাহারা গল্প বানিয়ে দিলেন, আজাদ বিশ^াসকে নাকি জেলা বিএনপির সভায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে! আবার এও বলা হয়েছে, বিশেষ করে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জমান যেই সভায় উপস্থিত থাকবেন, সেখানে আজাদ বিশ^াস থাকতে পারবেন না।’

‘যেই অনুষ্ঠানে আজাদ বিশ^াসের নামই উঠেনি, সেই সভায় কিভাবে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেন মামুন মাহমুদ।’

তিনি দাবী করেন, ‘আজাদ বিশ^াসকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার কল্পকাহিনী নিছকই মনগড়া বানানো গল্প।’ এজন্য নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।

উল্লেখ্য, ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত কুতুবপুর দেলপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্যকালে আওয়ামীলীগের স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের গুণকীর্ত্তন করে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম।

আর তাই এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামীলীগের এমপি নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক হাজার হাজার মানুষের সম্মুখে স্বীকার করতে বাধ্য হন, ‘নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আওয়ামীলীগ আয়োজিত সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত করিয়ে সত্যিই আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমান চমক দেখিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বাংলাদেশের কোথাও বিএনপির নেতাদের আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে এক মঞ্চে বক্তব্য রাখতে দেখিনি। অথচ এখানে আওয়ামীলীগের সমাবেশে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হচ্ছে এর জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান, কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহ বিএনপির বন্ধুরা যে স্বীকৃতি শামীম ওসমানকে দিয়েছে তা রীতিমত অবাক করার মত।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ণকে স্বীকার করে বিএনপির এই জনপ্রতিনিধিদের মত বক্তব্য দিতে বুকের পাটা লাগে। এ জন্য আমি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা আজাদ বিশ্বাস ও মনিরুল আলম সেন্টুকে সাধুবাদ জানাই।’

এরপর আজাদ বিশ^াসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। একপর্যায়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার আজাদ বিশ^াসকে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

আর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেছিলেন, ‘আজাদ বিশ^াসের মত নেতারা বিএনপিতে না থাকলে কিছু হবে না।’

তারপরই বিরোধীতাকারীদের মধ্যে শুধুমাত্র রাজীব বাদে সকলেই ২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারপার্সনের গাড়ী বহরে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত আজাদ বিশ^াসের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সভায় যোগ দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here