নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ঝিমিয়ে পরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ফের চাঙ্গা করছেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এ দুই নেতার সাংগঠনিক কর্মকান্ডে উজ্জীবিত হয়ে উঠছে নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুপস্থিতি আর মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের দেশত্যাগের কারনে দিকভ্রান্ত নেতাকর্মীদের পুনরুজ্জিত করছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

সূত্রে প্রকাশ, সভাপতির খামখেয়ালীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি কান্ডরীবিহীন তরী হয়ে উঠেছিলো। দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে জেলা বিএনপি’র অংশগ্রহন নামেমাত্র অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছিলো। কিন্তু কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে আবারো শক্ত হাতে হাল ধরছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। আর তাই মামুন মাহমুদে আবারো উজ্জিবীত হয়ে উঠছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।

বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচিতে হযবরল অবস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র। দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে বৃহৎ এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করতে না পারায় ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে তাদের মনে। জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান শুরু থেকেই আন্দোলন বিমূখ হওয়ায় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদই নেতাকর্মীদের নিয়ে গুছিয়ে সংগঠনটি পরিচালনা করে আসছিলেন সুচারুভাবে। কিন্তু প্রায় দেড় মাস মামুন মাহমুদ কারাগারে বন্দি থাকায় সে শূণ্যস্থান পূরণ হয়নি। ফলে মামুন মাহমুদের অভাবে ধুঁকছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে কমিটি গঠন হওয়ার পর প্রায় এক বছরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে উজ্জীবিত করতে পারেননি। বরং জাতীয় বা দলীয় কর্মসূচি পালনে বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সর্বপ্রথম জেলা বিএনপি’র বড় আয়োজন কর্মীসভায়ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সে অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন।

এরপর থেকে যে কোন কর্মসূচিতে আর নেতাকর্মীদের নিয়ে মনে রাখার মতো কোন আয়োজন করতে পারেননি কাজী মনির। এমনকি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যান জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনির।

সর্বশেষ বিএনপি’র চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া আরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় ঘোষনার দিন ধার্য হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান এই সুযোগ সন্ধানী নেতা। জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পর্যন্ত গ্রেফতার হয়ে আর মামলা মোকদ্দমায় নাজেহাল হলেও কাজী মনিরের গায়ে এর আঁচ পর্যন্ত লাগেনি।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম আর সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নেতাকর্মীদের ফেলে রেখে উড়াল দিয়েছেন বিদেশে। তাই দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছেন সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

তৃণমলের মতে, গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে এড. আবুল কালামকে সভাপতি আর এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটি ঘোষনার পর থেকেই সভাপতি আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র রাজনীতি নিজের ড্রয়িং রুমে বন্দি করে ফেলেন। রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের পরিবর্তে আবুল কালামের বাসায় বসে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র রাজনীতি। আর তার সার্বক্ষনিক সঙ্গি হিসেবে নিয়োগ দেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সবচেয়ে বিতর্কিত চরিত্র আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে।

কালাম-টিপুর পাল্লায় পরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সংগ্রামী মুখ এটিএম কামালও নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলেন। গৃহবন্দি কালামের নাগপাশ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে এটিএম কামাল রাতের অধারে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিদেশে। বিতর্কিত নেতা টিপুকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেয়া আর নিজেকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দুরে সরিয়ে রেখে গৃহবন্দি করে ফেলায় এটিএম কামালের মতো তৃণমূল নেতাকর্মীরাও আবুল কালামের সঙ্গ আর সহ্য করতে পারছে না। তাছাড়া দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে চলা আন্দোলন সংগ্রামে পুলিশের হামলা মামলার শিকার নেতাকর্মীরা পাশে পায়নি আবুল কালামকে। আইনজীবী হিসেবে যেখানে এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আদালতে নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন, তখন নিজে আইনজীবী হয়েও কোন নেতাকর্মীর পাশে দাড়াননি কালাম। এমনকি মামলা হামলায় গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজও নেননি তিনি। তাই দিনকে দিন কালামের উপর ক্ষুব্দ হয়ে উঠছিলো নেতাকর্মীরা। আর ক্ষুব্দ এসব নেতাকর্মীদের মনে আশার আলো হয়ে জ¦লে রয়েছেন কেবলমাত্র এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। কারন সভাপতি গৃহবন্দি আর সাধারণ সম্পাদক লাপাত্তা, এমতাবস্থায় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম আর মাথার উপর ছায়া দানের জন্য নেতাকর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে এখনো টিকে আছেন সংগ্রামী সাখাওয়াত।

সূত্র জানায়, এড. আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এ আসনের সম্ভাব্য আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রতিহত করতে ব্যবহার করতে থাকেন নানা কুট কৌশল। কারন এ আসনের সাবেক এমপি এড. আবুল কালামের দলীয় মনোনয়ন অনিশ্চিত করে তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। নাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করা এড. আবুল কালামের জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। কারন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের অপারগতায় এড. সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবং বুক চিতিয়ে লড়াই করে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য এক উচ্চতায়। কেন্দ্রেও সাখাওয়াতের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় অনেকগুণ। আর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সাথে বেঈমানি করায় এড. আবুল কালাম কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হয়ে যান অপরাধী। দিন যত গড়াতে থাকে, কালামের জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা-দুটিই কমতে থাকে। অন্যদিকে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করার পুরস্কার হিসেবে তৃণমূল থেকে বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সাখাওয়াতের প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সর্বত্র। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাখাওয়াত। আর তাই মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পথের কাঁটা সাখাওয়াতকে সড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন এড. আবুল কালাম।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় এড. সাখাওয়াত হোসেনের নাম চলে আসার পর থেকেই ঘুম হারাম হয়ে যায় এড. আবুল কালামের। সাখাওয়াতকে ঠেকানোর মিশনে নেমে পরেন এই কৌশলী রাজনীতিবীদ। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সাখাওয়াতের আশ্রয় প্রশ্রয়ে লালিত আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে নিজের কব্জায় নিয়ে আসেন। আর টিপুকে ব্যবহার করে শুরু করেন সাখাওয়াতকে অপমান-অপদস্ত করার প্রকৃয়া। যার প্রথম ধাপে সাখাওয়াতকে ওসমান পরিবারের সাথে জড়িয়ে দুই কোটি টাকা গ্রহনের নাটক সাজানো হয়। যদিও পরে টিপু তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন।

এরপর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়নের লোভে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের নিজের মতো গৃহবন্দি করার কুট কৌশল অবলম্বন করেন। কিন্তু কালামের এই অপচেষ্টা বুঝতে পেরে নিজেই মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে তৃণমূলকে সংগঠিত করতে থাকেন সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। আর তখনই সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপ প্রচার করে তৃণমূল থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র শুরু করেন আবুল কালাম। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে নালিশও করেন। কিন্তু তাতেও দমাতে পারেননি তাকে। কখনো মহানগর বিএনপি আবার কখনো অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছেন এই জিয়ার সৈনিক।

দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায় ঘোষনার আগে খালেদা জিয়ার সিলেট যাত্রায় স্বাগত জানাতে নারায়ণগঞ্জে কোন নেতাকর্মী সাহস না করলেও সংগ্রামী সাখাওয়াত ঘরে বসে থাকেননি। কয়েকজন বিএনপি পন্থী আইনজীবীকে নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় দলীয় চেয়ারপার্সণকে স্বাগত জানান মিছিল করে। আর সেখান থেকেই পুলিশের হাতে আটক হন সাখাওয়াতসহ তিন আইনজীবী নেতা। ১১দিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে এসেও তার সংগ্রামী রূপ অব্যহত রাখেন সাখাওয়াত। দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি যখন জেলা ও মহানগর বিএনপি চাষাঢ়া বালুর মাঠে দাড়িয়ে ফটোসেশন করে পালন করে, তখন সাখাওয়াত ঠিকই নেতাকর্মীদের নিয়ে হামলা মামলা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আর এ জন্য নিজ দলের গৃহবন্দি নেতাদের রোষানলেও পরতে হয়েছে তাকে। নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় নেত্রীর মুক্তির দাবীতে লিফলেট বিতরণকালে পুলিশী হয়রানীর শিকার হন সাখাওয়াত। সাখাওয়াতকে খুঁজতে সেদিন কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পুলিশ বার ভবনের ভিতরেও তল্লাশী চালায়। কিন্তু সাখাওয়াত তার ভূমিকায় অটল, কোন ভয় ডর কিংবা কারো চোখ রাঙানীতে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছ পা হননি তিনি। নারয়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা যখন নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন সাখাওয়াত হোসেন খান নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছেন। তাছাড়া মামলা হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের জন্য আইনী লড়াইয়ের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে থাকেন নিয়মিত। ফলে নিবেদিতপ্রাণ এই নেতার কারনে পুনরায় উজ্জিবীত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here