নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালার পর এবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে উঠেছে সন্ধ্যা ঝড়! যিনি মহানগর যুব মহিলা লীগের প্রথম কমিটির আহবায়ক।
আওয়ামীলীগের হেভীওয়েট নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমানকে চরিত্র হননের দায়ে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে এখন ক্ষমতাসীন দলে আল্টিমেটাম দাত্রী এই সন্ধ্যাকে নিয়ে নতুন করে ঝড়ের সূত্রপাত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তীব্র সমালোচনার ঝড়ে রীতিমত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে সন্ধ্যা। কারন, ফেসবুকে মন্তব্যকারীরা সন্ধ্যার অতীত চরিত্রের বিশ্লেষণ করতে শুরু করে দিয়েছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন সন্ধ্যা এই সমাজে মিশে থাকা একজন পতিতা।

আমাদের নারায়ণগঞ্জ নামে ফেসবুক ইউজার সন্ধ্যার ছবি পোস্ট করে লিখেন, ‘নির্লজ্জ, বাজে এই মহিলাকে নিয়ে নোংড়া খেলায় মেতেছে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও তার সহকারী মাহমুদা মালা…..যে কিনা কখনো নিজেকে নাসিম ওসমানের মেয়ের মতো, কখনো শামীম ওসমানের রাজনীতি করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি বলে বেড়ান। এখন আবার বলছেন নারায়ণগঞ্জের মাটি আনোয়ার-খোকন সাহার ঘাঁটি..। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মহিলা (সন্ধ্যা) একজন বাজে চরিত্রের। এক সময় র‌্যাব ও পুলিশের সোর্স ছিলো, এলাকায় সুদখোর মহিলা হিসেবেও সে সমধিক পরিচিত। তার বাড়ীতে যুবতী বয়সের বেশ কয়েকজন মেয়ে থাকে। এদের নিয়েও নানা কথা প্রচলিত আছে। তার নিজ এলাকায় সে নষ্ট চরিত্রের একজন মহিলা। এ ধরনের একজন মহিলাকে নিয়ে দিব্বি নোংড়া রাজনীতি করে চলেছে কর্মীহীন ওয়ানম্যান শো নেতারা….। নষ্ট চরিত্রের না হলে সে (সন্ধ্যা) কিভাবে বলে, ডেভিডের গাড়ীতে না শামীম ওসমানের গাড়ীতে ছিলাম। কোন ভদ্র ঘরের মহিলা এ কথা বলতে পারে…….?

আরেক জন ইমরান মৃধা মন্তব্য করেন, ‘সন্ধ্যার মত লোকেরাও নেত্রী, আর বাবুই পাখিও একটি পাখি। উনি শামীম ওসমান এমপি ভাই। সন্ধ্যা আপু মাইন্ড ইট এন্ড বি- কেয়াফুল, শামীম ভাই কিন্তু ইঙ্গিত দিয়েছে, এখন সকল কিছুর জবাব দেয়া হবে? আপনার ইতিহাস কিন্তু জানা আছে।’

মাজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘তার (সন্ধ্যার) কোনও রাজনৈতিক যোগ্যতাই ছিল না।’

সাদ্দাম হোসেইন জিতু মন্তব্য করেন, ‘সমাজে মিশে থাকা এক পতিতা সন্ধ্যা।’

সেলিম হোসাইন মন্তব্য করেন, ‘যেই সন্ধ্যা শামীম ভাইয়ের একজন কর্মী হইতে পাড়লো না, তাকে আনোয়াররা মহানগর যুব মহিলা লীগের আহবায়ক বানায়। আনোয়ার একজন ভন্ড নেতা।’

আর আওয়ামীলীগের এই সকল নেতাকর্মীদের সাথে সহমত পোষণ করে অনেকেই সন্ধ্যাকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য, মাস দেড়েক পূর্বে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সুপারিশের ভিত্তিতে নুরুন্নাহার সন্ধ্যাকে আহবায়ক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুব মহিলা লীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।

এরপর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সুপারিশে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারন সম্পাদক অপু উকিল নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নারী সদস্য সাদিয়া আফরিনকে আহবায়ক ও শারমিন আক্তার মেঘলা, আসমা আক্তারকে যুগ্ম আহবায়ক করে জেলা যুব মহিলালীগ এবং এড. স্ইুটি ইয়াসমিনকে আহবায়ক ও মুনিরা সুলতানাকে যুগ্ম আহবায়ক করে মহানগর যুব মহিলালীগের আরেকটি কমিটি অনুমোদন দেয়ার পরই নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি একটি সভায় শামীম ওসমান দাবী করেন, বিগত জোট সরকারের আমলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে ডেভিড নিহত হওয়ার সময় তার গাড়ীতে থাকা মেয়েটি ছিল বন্দরের বাসিন্দা নুরুন্নাহার সন্ধ্যা। আর এই ধরনের মেয়েকে যুব মহিলালীগের আহবায়ক করায় ভাল মেয়েদের নিয়ে তিনি পাল্টা কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছিলেন।

যার প্রেক্ষিতে গত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষ্যে শহরের আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে মহানগর যুব মহিলা লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সংগঠনটির প্রথম কমিটির আহবায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা তার চরিত্রহননের জন্য দায়ী করে শামীম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন।

সন্ধ্যা বলেন, ‘আমি ডেভিডের গাড়ীতে নয়, শামীম ওসমানের গাড়ীতে ছিলাম।’

এরআগে ‘শামীম ভাইয়ের পছন্দের না হলেই পুরুষেরা রাজাকার পুত্র আর নারীদের চরিত্র খারাপ হয়ে যায়’- সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালার এমন বিদ্রুপ মন্তব্যের পর আওয়ামীলীগের তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মালাকে আওয়ামীলীগের বেঈমান আখ্যায়িত করে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা তাকে শায়েস্তায় প্রস্তুত আছেন বলে মন্তব্য করেন। এরপর মালা ফের আরেকটি স্থানে বসে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার সাথে আড্ডাকালীন সময়ে সাংসদ সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতাসীন দলে তুমুল ঝড় বয়ে যায়। কিন্তু এরপরে সেই অডিওটি তাদের নয়, কন্ঠ নকল করা হয়েছে দাবী করে স্থানীয় গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সমালোচনার কবল থেকে নিভৃত পাওয়ার চেষ্টা করলেও ফের সাংসদ শামীম ওসমানকে নিয়ে নিয়মিত সভা সমাবেশে বিদ্রুপ মন্তব্য করে যাওয়ায় মালাকে নিয়ে কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান শামীম ওসমান সমর্থকরা।

তবে নাসিক ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালাকে অকৃতজ্ঞ, বেঈমান বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘মালা রাজনীতি নয়, জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা হয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছে।’

কারন, অতীতে শামীম ওসমানের অনুসারী থেকে তার বদৌলতে মালা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় জেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here