নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ক্ষমতাশীণ মহাজোটের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের পক্ষে থাকার কথা বলে আসলেও শেষ মুহুর্তে ইউটার্ন করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। এ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এসএম আকরামের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ধানের শীষের জন্য লড়াই করার অঙ্গিকার করেছেন মুকুল। কিন্তু মুকুলের মতো আর যে সকল বিএনপি নেতারা সেলিম ওসমানের পক্ষে ছিলেন তারা এখনও তাদের অবস্থানে বহাল রয়েছেন। বিএনপি’র পদ পদবীধারী এসব নেতারা লাঙ্গলের গনসংযোগে নিয়মিতই অংশ নিচ্ছেন সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে। আর তাই এসকল ঘরের শত্রুদের চিহ্নিত করার দাবী জানিয়েছে বিএনপি’র তৃণমূল।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন ‘ঘরের শত্রু বিভিষন’ দ্বারা আক্রান্ত। সরকারী দল আওয়ামীলীগের চেয়ে নিজ দলের দালালদের আচরনে অতিষ্ঠ দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি’র সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এসব নেতারা সরকারী দলের এমপির জনসভায় উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করায় ক্ষোভে ফেটে পরছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। অবিলম্বে এসব মুখোশধারী নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করে দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকু, দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার বিএনপি নেতা জমসের আলী ঝন্টু, গোলাম নবী মুরাদ, সুলতান আহমেদ, এনায়েত হোসেন, সামসুজ্জোহা, কামরুজ্জামান বাবুল নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামে থাকেন অনুপস্থিত। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা হামলায় জর্জরিত হলেও এসব নেতাদের গায়ে এর আঁচড়টুকুও লাগেনি। বরং সরকারী দলের এমপিদের সাথে দহরম মহরমের মাধ্যমে বহাল তবিয়তে নারায়ণগঞ্জ দাবরে বেড়ান তারা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা পর্যন্ত মামলা হামলায় বিপর্যস্ত আর মুকুল শকুরা সরকারী দলের এমপিদের সমাবেশে গিয়ে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। যা দেখে ক্ষোভে ফেটে পরেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র মুকুল শকুরা দিরে পর দিন লাঙ্গলের পক্ষে ভোট প্রার্থণা করেছেন। এর আগেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের উপস্থিতিতে বন্দরে একটি জনসভায় তারা সেলিম ওসমানের পাশে থাকার ঘোষনা দিয়েছিলেন। আর তাই দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা এসব সরকারী দলের গুপ্তচরদের “ঘরের শত্রু বিভিষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে এদের প্রতিহত করার দাবী জানিয়েছেন তারা।

তৃণমূলের মতে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন এবং সুষ্ঠ নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের পূর্বে এসব দালালদের চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারন আগামী নির্বাচন বিএনপি’র জন্য অস্তিত্বের লড়াই। আর এ লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে দলকে অন্তর দিয়ে যারা ভালোবাসে তাদেরকে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরী করতে হবে। সে আন্দোলনে যদি এসব দালালরা দলের ভিতরে থাকে তবে দলের সকল গোঁপন খবর সরকারী দলের কাছে পাচার হয়ে যাবে। সেই সাথে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে যদি দলকে ক্ষমতায় আনা যায়, তাহলে এ সকল দুমুখো সাপরা আবার এসে ভাগ বসাতে চাইবে রুটি হালুয়ায়। তাই এখনই সময় এদেরকে প্রতিহত করে দলকে কলঙ্কমুক্ত করার। নির্বাচনের আগে তাই মুকুল শকুদের বহিস্কার করার দাবী ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বিএনপি’র তৃণমূলে।

যদিও সাংসদ সেলিম ওসমানের আস্থাভাজন মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল তার এতোদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে তার নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে এসে দাড়িয়েছেন। দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাকীরা এখনও বহাল তবিয়তে সেলিম ওসমানের গুণকীত্তণ গেয়ে চলেছেন। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এ সকল নেতাদের বিরুদ্ধে তাই ফুসে উঠতে শুরু করেছে বিএনপি’র তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here