নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র বিতর্কিত নেতা আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকুকে অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের মাশুল গুণতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সাজার রায় নির্ধারনের দিন থেকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র প্রায় শতাধীক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয় ও প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মী মামলা হামলার শিকার হন। কিন্তু এই প্রায় দুই মাসে কোথাও দেখা মিলেনি মুকুল ও শকুর। এমনকি অশি^াস্য হলেও সত্যি তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা পর্যন্ত হয়নি। শকুু-মুকুলের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে এখন কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছে মহানগর বিএনপি’র দুই কর্ণধার এড. আবুল কালাম ও এটিএম কামাল। দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে শকুু-মুকুলের মতো সুযোগসন্ধানী নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার ফল ভোগ করতে হচ্ছে বলে মনে করে তৃণমূল। এবং সময় থাকতে এসব স্বার্থপর ও পল্টিবাজ নেতাদের লালন পালন বন্ধ না করলে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে এর খেশারত দিতে হবে বলে হুশিয়ারী তৃণমূলের।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ভিতরে লুকিয়ে থাকা সরকারী দলের দুই গুপ্তচর আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকুকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেন সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। শুরু থেকেই বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত এই দুই নেতার বিতর্কিত আচরনের কারনে বহু প্রতিক্ষিত ঐক্য সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করা সরকারী দলের দালালদের সাথে সখ্যতার কারনে বার বার বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন এ দুজন। আর এর ফলে নিরসন হচ্ছে না নিজেদের মধ্যকার বিরোধ বরং তা দিনকে দিন বাড়তে বাড়তে সংঘাতের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। তাই অবিলম্বে এসব চিহ্নিত সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে রাজপথের পরিক্ষিত সৈনিকদের দিয়ে কমিটি গঠন করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে পুনজাগরনের সৃষ্টি করতে দলীয় চেয়াপার্সনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিএনপি অন্ত:প্রাণ নেতাকর্মীরা। তা না হলে আন্দোলন সংগ্রামের সুঁতিকাগার নারায়ণগঞ্জের বিএনপি মুখ থুবড়ে পরবে বলে আশংকা তাদের। এবং আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে বিপ্লব ঘটাতে পারলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হবে না বলে হুশিয়ারী তৃণমূলের।

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র কথিত নেতা বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকু ইতিপূর্বে তাদের কর্মকান্ডে নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছেন। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দেওয়া হলেও সে মঞ্চে বসে তা বেমালুম হজম করে গেছেন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মুকুল। তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাস্যোজ্জল ছবি বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখে মুকুল বিএনপি না আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপি’র তৃণমূল। তাছাড়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যখন ডিআইটির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা কেক কাটছিলেন, তখন মুকুল আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছিলেন। পরে রাতে নিজ বাসভবনে বসে এড. আবুল কালামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। যা নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাছাড়া সদর-বন্দরের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শূণ্য আসনের উপ নির্বাচনে মুকুল প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। আর অতি সম্প্রতি বন্দরে একটি জনসভায় প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের সাথে কাজ করার ঘোষনা দিয়েছেন। আর মুকুলের এই ঘোষনায় আগুন জ¦লে উঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে। সেই সাথে সরকারী দলের দালাল মুকুলকে প্রশয় দেওয়া এবং মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি পদ দেওয়ার জন্য এড. আবুল কালাম ও এটিএম কামালকে দায়ী করছেন তারা।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বিএনপি’র সাইনবোর্ডে রাজনীতি করলেও তাকে বিএনপি’র পক্ষে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে কখনো দেখা যায় না। বরং সরকারী দলের এক প্রভাবশালী এমপি’র গাড়ি বহরে শকুর উপস্থিতি প্রায় নিয়মিত। আর দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে একদিনের জন্যও দেখা মিলেনি শকুর। আর তাই শকুর মতো স্বার্থপর নেতাকে অবিলম্বে দল থেকে বিতারিত করে দলকে শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছে মামলা হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here