নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারনের পর থেকে সরকার বিরোধী চলমান আন্দোলন সংগ্রামে অনুপস্থিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাশেম শকুর প্রতি ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
সরকারী দলের সাথে আঁতাত করে মামলা হামলা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলছেন বলে মুকুল-শকুর প্রতি এই ক্ষোভ বলে জানা গেছে। সেই সাথে মুকুল ও শকুকে মহানগর বিএনপিতে প্রশ্রয় দেয়ার জন্য মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামকেও কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। দলের সুসময়ে পদ পদবী ব্যবহার করে নিজের আখের গুছিয়ে দলের ক্রান্তিকালে আত্মগোপনে চলে যাওয়া সরকারী দলের দালাল বলে বিবেচিত মুকুল-শকুর বিরুদ্ধে তাই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তৃণমূলের।

তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে সাজার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে পুলিশ। প্রায় শতাধীক নেতাকর্মীকে গ্রেফতারসহ প্রায় সহস্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করে নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানায় ১৩টি মামলা দায়ের পুলিশ। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে এ সকল মামলার কোনটাতেই আসামী করা হয়নি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এবং মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুকে। আর অবিশ্বাস্য এই ঘটনার নেপথ্যে সরকারী দলের এমপিদের সাথে মুকুল-শকুর শখ্যতা বলে জানা যায়।

তৃণমূল আরো জানায়, ৭ থানায় ১৩ মামলার আসামী হয়েও হামলা মামলাকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নেত্রীর মুক্তির দাবীতে লাগাতার কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে, অথচ কোন মামলায় আসামী না হয়েও চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীকে একদিনও রাজপথে দেখা যায়নি মুকুল ও শকুকে। দলের এই চরম বিপদের দিনে নেতাকর্মীদের ফেলে যে নেতা নিজের গাঁ বাঁচিয়ে উধাও হয়ে যেতে পারে, তারা দলের জন্য ক্ষতিকর। আর এসব ক্ষতিকর ভাইরাস চিহ্নিত করার এখনই সময়, এদেরকে চিহ্নিত করে দল থেকে বহিস্কার করে নিবেদিতপ্রাণ জিয়ার সৈনিকদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবী তাই ক্রমশই জোড়ালো হচ্ছে।

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ভিতরে লুকিয়ে থাকা সরকারী দলের গুপ্তচর হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকুকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেন সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। শুরু থেকেই বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত এই দুই নেতার বিতর্কিত আচরনের কারনে বহু প্রতিক্ষিত ঐক্য সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করা সরকারী দলের দালালদের সাথে সখ্যতার কারনে বার বার বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন এ কালাম। আর এর ফলে নিরসন হচ্ছে না নিজেদের মধ্যকার বিরোধ বরং তা দিনকে দিন বাড়তে বাড়তে সংঘাতের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা। তাই অবিলম্বে এসব চিহ্নিত সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে রাজপথের পরিক্ষিত সৈনিকদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে পুনজাগরনের সৃষ্টি করতে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি অন্ত:প্রাণ নেতাকর্মীরা। তা না হলে আন্দোলন সংগ্রামের সুঁতিকাগার নারায়ণগঞ্জের বিএনপি মুখ থুবড়ে পরবে বলে আশংকা তাদের। এবং আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সারাদেশে বিপ্লব ঘটাতে পারলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হবে না বলে হুশিয়ারী তৃণমূলের।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র কথিত নেতা বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও শওকত হাশেম শকু ইতিপূর্বে তাদের কর্মকান্ডে নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছেন। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দেওয়া হলেও সে মঞ্চে বসে তা বেমালুম হজম করে গেছেন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মুকুল। তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাস্যোজ্জল ছবি বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখে মুকুল বিএনপি না আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপি’র তৃণমূলে।

তাছাড়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যখন ডিআইটির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা কেক কাটছিলেন, তখন মুকুল আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছিলেন। পরে রাতে নিজ বাসভবনে বসে এড. আবুল কালামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। যা নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তাছাড়া সদর-বন্দরের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শূণ্য আসনের উপ নির্বাচনে মুকুল প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। আর অতি সম্প্রতি বন্দরে একটি জনসভায় প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের সাথে কাজ করার ঘোষনা দিয়েছেন। আর মুকুলের এই ঘোষনায় আগুন জ¦লে উঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে। সেই সাথে সরকারী দলের দালাল মুকুলকে প্রশয় দেওয়া এবং মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি পদ দেওয়ার জন্য এড. আবুল কালামকে দায়ী করছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here