নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদেও কোন জনপ্রতিনিধি বা রাজনীতিবিদের চাটুকারীতা না করতে এবং কারো কাছে হাত না পাতার আহ্বান জানিয়ে তাদের সাবলম্বী করতে ৩ কোটি টাকার আর্থিক অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
যার মধ্যে এ বছরের ৩০ ডিসেম্বর বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন আরো ২ কোটি টাকা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিটের মাধ্যমে ঘোষিত এই টাকা প্রদান করা হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, ফতুল্লা, ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে এ অর্থ বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই চারটি থানা এলাকার স্বচ্ছল এবং অস্বচ্ছল সকল মুক্তিযোদ্ধার মাঝে এই সহযোগীতা পৌছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এমপি সেলিম ওসামন। সেই সাথে তিনি সহযোগীতার উক্ত টাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি বা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় এমপি সেলিম ওসমানের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ সদর, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মধ্যাহ্ন ভোজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইতোপূর্বে ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে ২০০জন অসহায় মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা দিয়ে সহযোগীতা করে ছিলেন এমপি সেলিম ওসমান।

তিনি আরো বলেছেন, অচিরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন হবে। সারা বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার দ্বিগুন নারায়ণগঞ্জের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ৩ তলা ভবনের মধ্যে ২টি ফ্লোর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। যা থেকে প্রতি মাসে একটি আয় হবে। আমি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতি অনুরোধ করবো যাতে করে আয়ের ওই অর্থ সরাসরি সরকারের কোষাগারে চলে না যায়। আয়ের ওই অর্থ দিয়ে যেন নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি মাসে কিছু না কিছু আয় হবে।

তিনি আরো বলেন, কতিপয় ব্যাক্তি মুক্তিযোদ্ধা নামটি ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিচার ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সভা সমাবেশ চলাকালে জনপ্রতিনিধিদের কানে কানে কথা বলেন। আসলে তিনি নিজের ব্যাক্তিগত কথা বলেন আর মানুষকে বুঝাতে চান তিনি ওই জনপ্রতিনিধিকে পরিচালনা করছেন। পরবর্তীতে সেটি পুঁজি করেই তারা বিচার ব্যবসা করে যাচ্ছেন। আমি তাদের প্রতি অনুরোধ করবো এগুলো বন্ধ করে সঠিক পথে আসুন। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করেন। নয়তো আমি সকল মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের প্রতি আহবান রাখছি যারা মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে বিচার ব্যবসা করবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা করবে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নেই বলে ঘোষণা দিবেন। যদি মুক্তিযোদ্ধা নামটি ব্যবহার করা করে কোন কিছু করা হয় তাহলে যেন সেখানে সকল মুক্তিযোদ্ধার অংশ থাকে।

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কারো কাছে হাত পাতবে না। আপনারা বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে গিয়ে ছিলেন। আপনারা বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন। গত ২১ বছর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের ডাক দিয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অর্থনৈতিক মুক্তির পথে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ নিশ্বা:স চলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে সোনার বাংলা গড়তে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কাজ করে যাবো।

তিনি আরো বলেন, আপনারা মোহাম্মদ আলীর সাথে পরামর্শ করে মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি বা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি গঠন করবেন। যেখানে আপনারা আপনাদের অবতর্মানে আপনাদের সন্তান ,নাতি অথবা পরিবারের অন্য সদস্যদের নমিনী করবেন। যাতে করে আপনারা না থাকলেও আপনাদের সন্তানেরা এটি পরিচালনা করতে পারে। আপনারা সবাই সমবায় ভিত্তিতে শেয়ারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। যে যত বেশি শেয়ার নিবেন তিনি মাস শেষে ততবেশি মুনাফা নিতে পারবেন। আমি চাই নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা কারো কাছে হাত পাতবে না। কোন জনপ্রতিনিধির বা রাজনীতিবিদের চাটুকারীতা করবে না। মুক্তিযোদ্ধারা শুধু মুক্তিযোদ্ধাই থাকবেন। আপনারা একত্রিত থাকবেন একে অপরের সহযোগীতার মাধ্যমে এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে আমরা সরকারকে টাকা দিয়ে জমি লিজের মাধ্যমে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করবো। সরকার বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তাহলে সরকারী বিভিন্ন আর্থিক কর্মকান্ডের যে টেন্ডার অনুষ্ঠিত হয়ে সেখানেও যেন মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবী রাখবো। যাতে করে মুক্তিযোদ্ধারা সরকারকে টাকা দিয়ে সঠিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করবে পারে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাসদের সভাপতি এম এ সাত্তার, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বন্দর ইউনিটের কমান্ডার আব্দুল লতিফ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হাসেম শকু, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here