নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশে লক ডাউন চলছে। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী বেসরকারী অফিস আদালত ও গণ পরিবহন বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে না যেতে এবং সকল প্রকার জন সমাগমকে নিরুৎসাহিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সড়কে কাজ করছে সেনাবাহিনী। নারায়ণগঞ্জবাসীকে করোনার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে এবং লক ডাউনে অসহায় কর্মহীন সাধারণ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। যে যেভাবে পারছেন এই দূর্যোগ মোকাবেলায় সর্ব শক্তি নিয়োগ করছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। করোনাকালীন গত প্রায় দেড় মাসের মধ্যে সিটি মেয়র আইভীকে তেমন কোথাও খুঁজে পাওয়া না গেলেও টেলিফোনে একজন সাহায্য প্রত্যাশী নগরবাসীর সাথে বিরূপ আচরণ করতে দেখা গেছে যা ক্ষুব্দ করেছে নগরবাসীকে। নগরবাসীর এই চরম দূর্যোগের সময়ে নগরমাতার নিজেকে ঘরে বন্দি করে রাখার বিষয়টি মানতেই পারছেন না তার সন্তানরা।

অপরদিকে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয়া মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান চলমান করোনা সংকট শুরুর পর থেকেই মাঠে ঘাটে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কখনো মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে সাধারণ জনগনকে সচেতন করছেন কখনোবা কর্মহীন অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের নিয়ে সদর বন্দরের প্রত্যন্ত এলাকাগুলো চষে ফেলছেন এড. সাখাওয়াত। অনেক নেতারা তাদের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণ করান কিন্তু এড. সাখাওয়াত নিজে ছুটে বেড়াচ্ছেন সকলের দ্বারে দ্বারে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মেয়র ব্যাপক উন্নয়ণের দাবী করলেও যথাযথ নাগরিক সুবিধা পায়নি নগরবাসী। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। নগরবাসীর এই দু:সময়ে মেয়রের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, র‌্যাব-১১সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখনো পর্যন্ত নীবর ভূমিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে জেলা প্রশাসক। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রনে জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন। প্রতিটি উপজেলার ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করছে জেলা পুলিশের সদস্যরা। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমন রোধে নারায়ণগঞ্জে বিদেশ থেকে ফেরা প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে তাদের পর্যবেক্ষনে রেখেছে জেলা পুলিশ।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই জনসাধারণকে সচেতন করার পাশাপাশি মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিনামূল্যে বিতরণ করেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তাছাড়া দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষনার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের গোঁপনে সাহায্য সহযোগিতা করে চলেছেন, এর পাশাপাশি দুস্থ্য অসহায় সাধারণ মানুষকে চাল ডালসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here